রবিবার, ০৮ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫১

জৈনপুরী পীরের স্মৃতি বিজড়িত ‘মওদুদুল হাসান জৈনপুরী জামে মসজিদ’

নুরুল ইসলাম ফরহাদ,ফরিদগঞ্জ
জৈনপুরী পীরের স্মৃতি বিজড়িত ‘মওদুদুল হাসান জৈনপুরী জামে মসজিদ’
ক্যাপশন : রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের গৃদকালিন্দিয়া বাজারের পূর্ব মাথায় অবস্থিত 'মওদুদুল হাসান জৈনপুরী জামে মসজিদ'।

উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের গৃদকালিন্দিয়া বাজারের পূর্ব মাথায় অবস্থিত 'মওদুদুল হাসান জৈনপুরী জামে মসজিদ'। মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন আইউব আলী ভূঁইয়া। ফকির বাড়ির মনসুর ক্বারী এবং ভারতের জৈনপুরী হুজুর মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই মসজিদটি ১৬ নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের প্রথম জুমা মসজিদ। আইউব আলী ভূঁইয়া ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে মসজিদ করার জন্যে দান করেন। মসজিদটি শুরুতে খেজুরের পাতা পরবর্তীতে ছন পাতা দিয়ে নির্মাণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে টিন এবং টিনশেড দালান। পরবর্তীতে এলাকার অর্থশালীদের দান-অনুদানে মসজিদটির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো করা হয়। বিশেষ করে বর্তমান সংসদ সদস্য এম. এ. হান্নান সাহেবের আর্থিক অনুদান ছিলো উল্লেখযোগ্য। তিনি মসজিদ নির্মাণের জন্যে কমিটির হাতে ১৬ লাখ টাকা তুলে দেন। সাবেক সাংসদ হারুনুর রশিদও ১৬ লাখ টাকা দেন। তবে সেটা তিনি দিয়েছিলেন খানকায়ে শরীফ নির্মাণের জন্যে। ভারত থেকে জৈনপুরীর পীর সাহেবেরা যখন বাংলাদেশে আসেন তখন এ খানকায় বেশ ক'দিন থাকেন।

মূলত এই মসজিদের যশ খ্যাতি জৈনপুরী পীর সাহেবকে ঘিরে। এই পীর সাহেবের কথার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে কিছু মানুষ দীর্ঘ ৫০/৬০ বছর নারীদের ভোট দানে নিরুৎসাহিত করেছে। একটা সময় এলাকায় কলেরা ছিলো ভয়াবহ আকারে। এক সাথে বহু মানুষ মারা যেতো। এমনই এক পরিস্থিতিতে জৈনপুরী হুজুর গৃদকালিন্দিয়া ছিলেন। লোকজন হুজুরের কাছে ছুটে গেলেন প্রতিকার পেতে। হুজুর পানি পড়ার সাথে সাথে কিছু নসিহতও করেছেন। আর তা ছিলো নারীরা যাতে বেপর্দায় না থাকে, অকারণে ঘর থেকে বের না হয়। এই কথা বিক্রিত হতে হতে আজকের গল্পে দাঁড়িয়েছে। যদিও ২০২৬-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই মিথের অবসান ঘটে। এ বছর নারীরা দলে দলে গিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট প্রদান করে।

মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা আলতাফ। পেশ ইমাম দু জন, তারা হলেন মাওলানা বেনী আমিন ও মাওলানা মো. রাসেল। মসজিদটিতে প্রায় ৫শ’ মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারে। মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব সর্বশেষ পালন করেছেন আমিন মেম্বার। তিনি মারা যাওয়ার পর এখনও সভাপতি নির্বাচন করা হয়নি। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন আলহাজ্ব আবদুল লতিফ ভূঁইয়া। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে মওদুদুল হাসান জৈনপুরী জামে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সমাজে প্রচলিত রয়েছে, মওদুদুল হাসান জৈনপুরী পীর সাহেবের খুব আধ্যাত্মিক শক্তি ছিলো। ভবিষ্যতে কী হবে তা তিনি অনুধাবন করতে পারতেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়