প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:০৪
খোশ আমদেদ মাহে রমাদ্বান
নিয়তের পরিশুদ্ধতা ও ইবাদতের কার্যকারিতা

‘নিয়ত’ এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার উপর মানুষের সকল কৃতকর্ম নির্ভরশীল। বোখারী শরীফের প্রথম হাদীসের অংশবিশেষ হচ্ছে- ‘ইন্নামাল আ’মালু বিন্নিয়্যাত’ অর্থাৎ- মানুষের সকল কৃতকর্ম নিয়তের উপর নির্ভরশীল। মানুষ নিয়ত যেটা করবে, তার কাজের প্রতিফল সেটাই পাবে। পবিত্র মাহে রমাদ্বানের উপর ধারাবাহিক লেখার আজকের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- ‘নিয়তের পরিশুদ্ধতা ও ইবাদতের কার্যকারিতা’। নিয়তের পরিশুদ্ধতা যেটাকে আরবিতে ‘ইখলাস’ বলা হয়। নিয়তের পরিশুদ্ধতা ইবাদতের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইবাদত কবুল হওয়া এবং এর কার্যকারিতা বা প্রতিদান পেতে ইখলাস বা নিয়তের পরিশুদ্ধতা ভিত্তি বলা যেতে পারে। নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ্জসহ সকল ইবাদত-আমলের নিয়ত বা উদ্দেশ্যই যেনো থাকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই যেনো সকল ইবাদত পালন করা হয়। লোক দেখানো কোনো ইবাদত-আমল যেনো না হয়। আমি নামাজ পড়বো একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। সমাজে আমাকে পরহেজগার, নামাজী বলে সম্মান দিবে এমন উদ্দেশ্য যেনো না হয়। আমি রোজা রাখবো, হজ্জ করবো, যাকাত দিবো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আমাকে হাজী সাহেব বলবে, দানবীর বলতে এ ধরনের নিয়ত বা উদ্দেশ্য যেনো বিন্দু পরিমাণও মনের মাঝে স্থান না পায়। আল্লাহর সন্তুষ্টি ভিন্ন অন্য কিছু মনের মাঝে স্থান পেলেই ইবাদতের কার্যকারিতা আর থাকে না। সকল ইবাদত-আমল নষ্ট হয়ে যায় ইখলাস তথা নিয়তের পরিশুদ্ধতা না থাকার কারণে। আর মানুষের মনের মাঝে আল্লাহর সন্তুষ্টি ভিন্ন অন্য কিছুর উদ্রেক ঘটায় অভিশপ্ত শয়তান। বিতাড়িত এবং অভিশপ্ত শয়তানের কুমন্ত্রণা, কুপ্ররোচনা থেকে বেঁচে থাকতে হবে। ইখলাস তথা নিয়তের পরিশুদ্ধতা থাকলে অল্প ইবাদত, অল্প আমলেই বান্দার ওপর আল্লাহর রাজী খুশি থাকেন, আল্লাহর রহমত থাকে বান্দার উপর। তখনই বান্দা তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।




