শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫১

খোশ আমদেদ মাহে রামাদ্বান

এমন মুমিনের ক্বলবেই আল্লাহর আরশ

এএইচএম আহসান উল্লাহ্
এমন মুমিনের ক্বলবেই আল্লাহর আরশ

রোজা এমন এক ইবাদত; যা মুমিনের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। এটি একজন ঈমানদারের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। আত্মা পরিশুদ্ধ না হলে কোনো ইবাদত কাজে আসবে না, ইবাদতের স্বাদ পাওয়া যাবে না। নবী করিম (দঃ) হাদিস শরীফে ইরশাদ করেছেন, মানুষের শরীরে এক টুকরো গোশ্ত রয়েছে, যেটির অবস্থান হচ্ছে বাম স্তনের দু’আঙ্গুল নিচে। ওই গোশতের টুকরোকে ক্বালব বা আত্মা বা হার্ট বলা হয়। এই গোশতের টুকরোটি যদি নাপাক হয়ে যায় তাহলে মানুষের পুরো দেহ নাপাক তথা অপবিত্র হয়ে গেলো। আর যদি এটি পুত-পবিত্র থাকে তাহলে পুরো দেহ পুত-পবিত্র রইলো। এমন পুত-পবিত্র ক্বলবেই মহান স্রষ্টার আরশ।

আমাদের আক্বা ও মওলা হুজুর কারীম রাউফুর রাহীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই পবিত্র বাণীকে যদি আমরা উপলব্ধি করি, তাহলে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশাল। আমরা বাহ্যিকভাবে যতই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র থাকি না কেনো আমাদের অন্তরাত্মা যদি অপবিত্র হয়ে যায়, দুষিত থাকে, তাহলে এই বাহ্যিক পবিত্রতার কোনো মূল্যই নেই। আর এই অন্তরাত্মাকে পবিত্র করার জন্যই মাহে রমজান প্রতিবছর আমাদের মাঝে আসে।

অন্যায় বা ভুল করাটা মানুষের স্বভাবজাত। মানুষ অন্যায়-অপরাধ করবেই। আবার অপরাধ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে এবং মুক্ত থাকার জন্যে দয়াময় আল্লাহ আমাদেরকে নানা উপায় বা উপলক্ষ দিয়ে দিয়েছেন। এটি মহান আল্লাহ তঁার প্রিয় হাবিবের উম্মতদের জন্যে স্পেশালভাবে করেছেন। আল্লাহ তো রাহমানুর রাহীম, আর তঁার প্রিয় হাবিবও রাহমাতুল্লিল আলামীন। তাই আল্লাহ তঁার প্রিয় হাবিবের উম্মতদের জন্যে মাহে রমজান দিয়েছেন তাক্বওয়া অর্জনের জন্যে, আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার জন্যে। বছরের ১১ মাস মানুষ নানা পাপ পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত হয়ে নিজের অন্তরাত্মাকে যে কলুষিত করে ফেলেছে, সেটিকে কলুষমুক্ত করে পুত-পবিত্র করার জন্যই রমজান আসে। রমজানের একমাস মুসলমান সিয়াম সাধনা ও নানা ইবাদত-বন্দেগীর দ্বারা নিজের জীবনকে পুণ্যময় করবে, খঁাটি তওবা করবে যে বাকি জীবনে আর পাপ কাজে লিপ্ত হবে না, সে অনুযায়ী নিজের জীবনকে গড়ে তুলবে, তাহলেই রমজানের রোজা পালন আমাদের জন্যে সার্থক হবে। আল্লাহও আমাদেরকে তঁার প্রিয় বান্দা হিসেবে কবুল করে নেবেন। আর যদি রোজাও রাখলাম আবার অন্যায় কাজেও লিপ্ত থাকলাম তাহলে আমাদের রোজা হবে শুধুমাত্র উপবাস থাকা। এ রোজা আমাদের কোনো কাজেই আসবে না। তাই রাহমানুর রাহীমের কাছে ফরিয়াদ, আমরা যেনো সত্যিকার অর্থে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজের পুরো জিন্দেগীকে তঁার ইচ্ছা অনুযায়ী সাজাতে পারি সে রহমত প্রার্থনা তঁার কাছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়