শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৬

বাবুরহাট হাই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তিবঞ্চিতদের আকুতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসকের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা

মোখলেছুর রহমান ভূঁইয়া
বাবুরহাট হাই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তিবঞ্চিতদের আকুতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসকের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা

প্রচণ্ড শীতের তীব্রতায় অসহায় শীতার্ত মানুষ।শীতের ওম পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা। দিগ্বিদিক ছুটছে অসহনীয় শীত থেকে স্বস্তি পেতে। কিন্তু অনেকে ছুটে বেড়ায় নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকারি, বেসরকারি দরজায়। এই দৌড়ঝাপ একান্ত প্রয়োজনে। যার শীতের বস্ত্র নেই, সে-ই হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে গরম কাপড়, বিছানা কতোটা প্রয়োজন। প্রাত্যহিক জীবনযাপন তাদের কতোটা কষ্টকর। যার আছে সে হয়তো ওভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। পারলেও ক্ষীণ। এটাই বাস্তবতা। যার নেই তার অশেষ অন্তজর্বালা।

এমন জুবুথুবু শীতে শিক্ষার্থী-অভিভাবক ছুটোছুটি করছে বিদ্যালয়-শিক্ষক-জেলা প্রশাসনের দপ্তরে দপ্তরে। ত্রিশ ডিসেম্বর ২০২৫ স্থানীয় দৈনিক চঁাদপুর কণ্ঠের সংবাদ ‘বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি বঞ্চিত আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে!’ সংবাদটির প্রেক্ষিতে সচেতন মহলে করণীয় নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। সংবাদটির গুরুত্বের যথার্থতা অনুধাবন করে পরদিনই ১জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার সম্পাদকীয় কলামে ‘হাসান আলী, মাতৃপীঠে নয়, বাবুরহাটে ভর্তির জন্যে আকুতি!’ হেডিংয়ে সবিস্তারে বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তিবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে দাবি তুলে ধরা হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রথিতযশা সাংবাদিক রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি বঞ্চিত

শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার আদায়ে চঁাদপুর জেলা প্রশাসন ও মাউশি তে সরাসরি কথা বলেন। মাউশি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টতই বলেছে, স্কুল ও জেলা প্রশাসন থেকে লিখিত প্রস্তাব পেলে বিষয়টি বিবেচনা করবে। এ সাংবাদিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন তঁার ফেসবুক পেইজে । ভর্তির কালক্ষেপণে ৬ জানুয়ারি ২০২৬ (মঙ্গলবার) সড়ক অবরোধ ও স্কুলে তালা ঝুলিয়ে অভিভাবকরা বিক্ষোভ করে। যার সংবাদ পরদিন স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়।

শিক্ষা হলো মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার আদায়ে বাবুরহাটবাসী অভিভাবক, কচি-কঁাচা শিক্ষার্থীদের এমন স্পৃহা শিক্ষায় সমাজ-সচেতনতার বহিঃপ্রকাশ। এখনও এমন অভিভাবক আছেন স্কুলে যাওয়া-আসার চেয়ে সন্তানদের কাজে পাঠানো দায়িত্ব মনে করেন। অথচ বাবুরহাটের অভিভাবকবৃন্দ রাস্তায় দঁাড়িয়েছে সন্তানদের পড়ালেখার সুন্দর পরিবেশ দেওয়ার জন্যে।

বাবুরহাট স্কুল প্রায় সোয়াশো বছর ছুঁই ছুঁই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যা নিকেতন। এই স্কুলটি ঘিরেই মূলত বাবুরহাট বাজার, শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ স্থানীয় সমাজের মেলবন্ধন। পর্যায়ক্রমে সময়ের সাথে, সময়ের প্রয়োজনে বাবুরহাট স্কুল থেকে বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজ হয়। একাদশ শ্রেণীতে পড়ার সুযোগ সুবিধায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আনন্দিত।বিশেষ করে নিম্নবিত্তের পরিবারে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আশীর্বাদ স্বরূপ। তারই ধারাবাহিকতায় ডিগ্রি কোর্স চালুর জন্যে গত কয়েক বছর প্রাক্তন

শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক সহ সচেতন মহল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিভিন্ন সভা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ডিগ্রি কোর্স চালুর বিষয়টিতে পরিচালনা পর্ষদ মতামত পেশ করে। উন্নত যোগাযোগ ও সকল অবকাঠামোর সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও উচ্চশিক্ষা বঞ্চিত বাবুরহাটের অবহেলিত জনগণের সন্তান।

এদিকে সঠিক সময়ে শিশু শিক্ষার্থীদের ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হতে না পারার বেদনা তাদের মনে পীড়াদায়ক প্রভাব ফেলবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে শিক্ষা অবকাঠামোর ভঙ্গুর চিত্র চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো।

হ্যঁা, বাবুরহাট স্কুলে এই মুহূর্তে ভর্তির অনুকূল পরিবেশ নেই। কারণ, শ্রেণীকক্ষ ও শিক্ষক দিয়ে পাঠদানের যথাযথ কর্ম পরিকল্পনা ব্যবস্থা নেই। এই দুটো বিষয় মূলত মুখ্য। এই দু বিষয় তাৎক্ষণিক সমাধান করাও কঠিন বাস্তবতা। তবে,স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক, স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসক মহোদয় যৌথভাবে বসলে বিষয়টির একটি সমাধানে পেঁৗছানো যাবে বলে আমার বিশ্বাস। সবার আন্তরিক সহযোগিতায় শ্রেণীকক্ষের পরিবেশ ও দ্রুত অস্থায়ী খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ করলে কোমলপ্রাণ শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পরিবেশে নিশ্চিত ফিরতে পারবে--এমন ধারণা পোষণ করছি ।

পরবর্তীতে বছরজুড়ে স্থায়ী সমাধানের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। ভবিষ্যৎ গবেষণাধর্মী কর্মপরিকল্পনা করলে আগামীতে বিরূপ প্রভাব অঁাচ করতে হবে না। আমাদের সন্তাদের বাসযোগ্য পৃথিবীতে শিক্ষার পরিবেশ আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। এটা আমাদের দায় নয়। এটা আমাদের অগ্রাধিকারে সর্বোচ্চ নৈতিক কর্তব্য।

উপসংহার : মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও গণমানুষের মনের ভাষা রপ্ত করার মতো এক বিদগ্ধজন। যে এলাকার কোমলপ্রাণ সন্তানেরা ভর্তির জন্যে রাজপথে দঁাড়ায়, সেই এলাকায় আপনার একটি সুন্দর স্মৃতি সব সময় জাগ্রত থাকবে। চঁাদপুরের কর্ম জীবনের শুরুতে জনপদে উন্মুক্ত মাঠে প্রথম বিচরণ বাবুরহাট (আপনার বক্তব্য অনুযায়ী) । শিক্ষার অন্তরায় ঘুচিয়ে কোমলমতি শিশুদের অন্তরে থাকুন জীবন প্রদীপের আলোয়ে।আপনার হস্তক্ষেপে বাবুরহাট ডিগ্রি কলেজ বাস্তবায়ন ও ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তির আনন্দে হাসি ফুটুক শিক্ষার্থী অভিভাবক ও সচেতন সমাজের মুখে মুখে।

সমস্যা যতো বড়ো হোক, সমাধান আছে। শীতের বস্ত্র নয়, হাসান আলী, মাতৃপীঠে নয়, বাবুরহাট স্কুলে ভর্তির জন্যে আকুতি। শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে বিদ্যার্জনের জন্যে রাজপথে মৌলিক অধিকারের জন্যে! শিক্ষার জন্যে দুর্ভাবনার সাথে সাথে করণীয় সমাধান চাই । রাজপথ নয়, শ্রেণীকক্ষে পাঠদান চাই।

লেখক : কার্যনির্বাহী সদস্য, সাহিত্য একাডেমি, চঁাদপুর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়