মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৩

নতুন আলো নতুন আত্মবিশ্বাস ও নৈতিকতায় নতুন বছরের অঙ্গীকার

সুধীর বরণ মাঝি
নতুন আলো নতুন আত্মবিশ্বাস ও নৈতিকতায় নতুন বছরের অঙ্গীকার

প্রিয় শিক্ষার্থীরা! নতুন বছরের শুভেচ্ছা নিও।

একটি নতুন বছর নতুনভাবে ভাবার, নতুনভাবে এগোনোর এবং নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার এক অনন্য সুযোগ। নতুন বছর মানে নতুন বইয়ের স্নিগ্ধ ঘ্রাণ, নতুন প্রত্যাশা, নতুন স্বপ্ন ও সীমাহীন সম্ভাবনার যাত্রা। পুরোনোকে পেছনে রেখে সৃজনশীল মানসিকতায় সম্ভাবনাময় নতুনকে আলিঙ্গন করাই হোক এই বছরের অঙ্গীকার। বছরের প্রথম প্রভাতে যখন নতুন বইয়ের স্নিগ্ধ ঘ্রাণ নাকে এসে লাগে, তখন মনে হয়—এই বইগুলোর পাতায় শুধু পাঠ্যবিষয় নয়, লুকিয়ে আছে আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার নকশা।

নতুন বছর আসে নতুন প্রত্যাশা নতুন সম্ভাবনা নিয়ে। প্রত্যাশা আসে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। আমরা প্রত্যেকে চাই আগের বছরের সীমাবদ্ধতা, ব্যর্থতা, হতাশা ও জড়তাকে পেছনে ফেলে সামনে এগোতে। তাই নতুন বছরের শুরুতেই প্রয়োজন আত্মসমালোচনা—আমি কী ছিলাম, কী হতে চেয়েছিলাম, আর কী হতে পারিনি। এই উপলব্ধিই শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষার্থীদের জীবন মূলত এক প্রস্তুতির সময়। এই সময়টুকু কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্যে নয়, বরং নিজেকে একজন পূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে। বই পড়ে ভালো নম্বর পাওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সত্যবাদী হওয়া, দায়িত্বশীল হওয়া এবং অন্যের প্রতি সহমর্মী হওয়াও সমান জরুরি। শিক্ষা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা মানুষকে মানবিক করে তোলে।

‘তোমরাই আগামী দিনের কর্ণধার’ এই কথাটি কোনো অলঙ্কার নয়, এটি এক নির্মম বাস্তব সত্য। আজ যারা শিক্ষার্থী, কাল তারাই হবে শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, প্রশাসক, রাজনীতিবিদ, শিল্পী কিংবা সমাজ সংস্কারক। আজ শিক্ষার্থীদের চিন্তা-চেতনা যেমন হবে, আগামীর বাংলাদেশও তেমনই রূপ নেবে। তাই আজ থেকেই নিজেদের গড়ে তুলতে হবে সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের দৃঢ় ভিতের ওপর। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর নির্ভরশীল নয়, নির্ভর করে মানুষের মানসিক ও নৈতিক উন্নয়নের ওপর। একটি দেশ তখনই প্রকৃত অর্থে উন্নত হয়, যখন তার নাগরিকরা মানবিক, সহনশীল ও ন্যায়বোধসম্পন্ন হয়। শিক্ষার্থীদের হাতেই গড়ে উঠবে সেই মানবিক বাংলাদেশ, যেখানে বিভেদ নয়, থাকবে সম্প্রীতি; হিংসা নয়, থাকবে সহমর্মিতা।

বর্তমান সময় নিঃসন্দেহে এক জটিল সময়। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জীবনে এসেছে নানা সুযোগ, আবার এসেছে নতুন চ্যালেঞ্জও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একদিকে মানুষকে কাছাকাছি এনেছে, অন্যদিকে অনেক সময় একাকী ও আত্মকেন্দ্রিক করে তুলেছে। এই সময়ে সবচেয়ে বড়ো বিপদ হলো উদাসীনতা ও স্বার্থপরতা। শুধু নিজের সাফল্য নিয়ে ব্যস্ত থাকলে সমাজ এগোয় না, রাষ্ট্রও এগোয় না। তাই স্বার্থপরতার বিপরীতে মানবিকতা গড়ে তোলাই হোক শিক্ষার্থীদের অঙ্গীকার। দুর্বলকে সাহায্য করা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এসব গুণ একজন শিক্ষার্থীর চরিত্রকে মহিমান্বিত করে। মনে রাখতে হবে, বড়ো মানুষ হওয়া মানে শুধু বড়ো পদে আসা নয়; বড়ো মানুষ হওয়া মানে বড়ো হৃদয়ের অধিকারী হওয়া।

নতুন বছরে স্বপ্ন দেখা স্বাভাবিক। কিন্তু স্বপ্নের সঙ্গে চাই লক্ষ্য, আর লক্ষ্য অর্জনের জন্যে চাই অধ্যবসায়। নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ের সদ্ব্যবহার, শৃঙ্খলাবোধ এই ছোট ছোট অভ্যাসই একদিন বড়ো সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে। ব্যর্থতায় ভেঙ্গে না পড়ে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার মানসিকতাই একজন প্রকৃত শিক্ষার্থীর পরিচয়। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ ছাড়া কোনো শিক্ষাই টেকসই হয় না। জ্ঞান যদি চরিত্রকে আলোকিত না করে, তবে সে জ্ঞান সমাজের জন্যে কল্যাণকর হয় না। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি সত্যবাদিতা, পরিশ্রম, দেশপ্রেম ও মানবপ্রেমকে ধারণ করাই শিক্ষার্থীদের প্রধান দায়িত্ব।

বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন সচেতন, শিক্ষিত ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম। শিক্ষার্থীরাই সেই প্রজন্ম, যাদের দিকে তাকিয়ে দেশ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে। দেশকে ভালোবাসা মানে শুধু স্লোগান দেওয়া নয়, বরং নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা, আইন মেনে চলা এবং প্রয়োজন হলে দেশের জন্যে ত্যাগ স্বীকার করাই প্রকৃত দেশপ্রেম। নতুন বছর শিক্ষার্থীদের জীবনে নতুন আলো নিয়ে আসুক। সেই আলো যেন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই গড়ে উঠুক একটি উন্নত, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ এই প্রত্যাশাই আজকের সাধারণের ভাষ্য।

পড়াশোনার পাশাপাশি সত্যবাদিতা, পরিশ্রম, দেশপ্রেম ও মানবপ্রেমকে ধারণ করো। তোমাদের আচরণেই ফুটে উঠুক শিক্ষার সৌন্দর্য। বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন সচেতন, শিক্ষিত ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম। তোমরাই সেই প্রজন্ম, যাদের দিকে তাকিয়ে দেশ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে। দেশকে ভালোবাসা মানে শুধু স্লোগান দেওয়া নয়, বরং নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা, আইন মেনে চলা এবং দেশের জন্যে প্রয়োজন হলে ত্যাগ স্বীকার করাই প্রকৃত দেশপ্রেম। নতুন বছর তোমাদের জীবনে নিয়ে আসুক নতুন আলো। এই আলো যেন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সমাজ ও দেশের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে পড়ে। তোমাদের হাত ধরেই গড়ে উঠুক একটি উন্নত, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ এই প্রত্যাশাই আমাদের।

সবশেষে বলি, নতুন বছর হোক তোমাদের আত্মবিশ্বাসের বছর, নৈতিকতার বছর এবং মানবিক হয়ে ওঠার বছর। জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলো। নতুন বছর তোমাদের জীবনে বয়ে আনুক আলোর পথচলা, সুন্দর ভবিষ্যৎ ও সার্থক মানুষ হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা।

সুধীর বরণ মাঝি : শিক্ষক, হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়, চাঁদপুর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়