মঙ্গলবার, ০১ এপ্রিল, ২০২৫  |   ২৬ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৫, ১২:৩৬

শবে ক্বদরের রাত চেনার সহজ উপায়

অনলাইন ডেস্ক
শবে ক্বদরের রাত চেনার সহজ উপায়

রমজানের পুরো মাস জুড়ে বিরাজ করে রহমত, বরকত ও ক্ষমার ঘোষণা। তবে এ মাসে রয়েছে বিশেষ এক মহিমান্বিত রজনী ‘লাইলাতুল কদর’ বা ‘শবেক্বদর’। আর লাইলাতুল ক্বদর হাজার বছরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও পুণ্যময়। লাইলাতুল ক্বদরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এ রাতে মানবজাতির মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ পবিত্র আল-কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল ক্বদরে। তুমি কি জানো লাইলাতুল ক্বদর কী? লাইলাতুল ক্বদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা ক্বদর, আয়াত : ১-৩)

জুমাতুল বিদার ফজিলত

হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় ক্বদরের রাতে ইবাদত করে, তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭৬০; বুখারি, হাদিস : ২০১৪)

তবে নির্দিষ্ট করে লাইলাতুল ক্বদর চিহ্নিত করা হয়নি। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘তোমরা শেষ দশকের বিজোড় রাতে শবে ক্বদর তালাশ করো।’ (বুখারি, হাদিস : ২০১৭)

তবে বিশুদ্ধ হাদিসে ক্বদরের রাত চেনার বেশ কিছু আলামতের কথা এসেছে। জেনে নেয়া যাক লাইলাতুল ক্বদরের রাত চেনার আলামত গুলো।

আলামত- ১ : আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘ঐ রাতের আলামত বা লক্ষণ হলো, রাত শেষে সকালে সূর্য উদিত হবে তা উজ্জ্বল হবে। তবে উদয়ের সময় তার কোনো তীব্র আলোকরশ্মি থাকবে না (অর্থাৎ দিনের তুলনায় কিছুটা নিষ্প্রভ হবে)। (মুসলিম, হাদিস: ১৬৭০; ইসলামিক ফাউন্ডেশন: ১৬৫৫)

আলামত- ২ : আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘লাইলাতুল ক্বদরের রাতটি হবে প্রফুল্লময়। না গরম, না ঠাণ্ডা। সেদিন সূর্য উঠবে লালবর্ণে, তবে দুর্বল থাকবে।’ (ইবনু খুযাইমাহ, হাদিস: ২১৯২)

আলামত- ৩ : উবাদাহ ইবনু সামাত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেন, ‘লাইলাতুল ক্বদর শেষ দশ রজনীতে রয়েছে। যে এই রাত্রে নিজের (আমলের) হিসেব নিতে দাঁড়াবে, আল্লাহ তায়ালা তার পূর্বের এবং পরের পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন। আর এই রাত্রি আছে বিজোড় রাত্রিগুলোতে: নবম, সপ্তম, পঞ্চম, তৃতীয় এবং শেষ রাত।’

নবীজি আরো বলেন, ‘লাইলাতুল ক্বদরের আলামত হচ্ছে, স্বচ্ছ রাত, যে রাতে চাঁদ উজ্জ্বল হবে, আবহাওয়ায় প্রশান্তি (সাকিনাহ) থাকবে। না ঠাণ্ডা, না গরম।

সকাল পর্যন্ত (আকাশে) কোনো উল্কাপিণ্ড দেখা যাবে না। সে রাতের চাঁদের মতোই সূর্য উঠবে (তীব্র) আলোকরশ্মি ছাড়া। শয়তান সেই সময় বের হয় না।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২২৭৬৫)

আলামত- ৪ : এক হাদিসে নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘লাইলাতুল ক্বদর উজ্জ্বল একটি রাত। না গরম, না ঠাণ্ডা। সে রাতে কোনো উল্কাপিণ্ড দেখা যাবে না।’(মাজমাউজ জাওয়ায়িদ : ৩/১৭৯; সহিহ আল-জামিঈ, হাদিস: ৫৪৭২)

আলামত -৫ : নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘লাইলাতুল ক্বদর রয়েছে সপ্তম, নবম অথবা বিংশ, যে রাতে (পৃথিবীর) নুড়ি পাথরের চেয়ে বেশি সংখ্যক ফেরেশতাগণ জমিনে নেমে আসে।’ (মাজমাউল জাওয়ায়িদ, হাদিস: ৩/১৭৮; সহিহ আল-জামি, হাদিস: ৫৪৭৩)

আলামত- ৬ : মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে গোটা রাত জুড়ে।

আলামত- ৭ : সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবে।

আলামত- ৮ : কোনো ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ মহান স্বপ্নে রাতটির কথা হয়তো জানিয়েও দিতে পারেন।

আলামত- ৯ : ঐ রাতে বৃষ্টি বর্ষণও হতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়