প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫:০৪
রাজনীতির নক্ষত্র যখন প্রশাসক : চাঁদপুরের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

চাঁদপুর জেলা রাজনীতির ইতিহাসের পাতা ওল্টালে যে ক’টি নাম বারবার দেদীপ্যমান হয়ে ওঠে, তার মধ্যে অ্যাডভোকেট এ.কে.এম সলিম উল্যাহ সেলিম অন্যতম। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজপথ কাঁপানো এই জননেতা এবার চাঁদপুর জেলা পরিষদের ‘প্রশাসক’ হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন—এমন খবরে চাঁদপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বইছে আলোচনার জোয়ার। সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত এই তথ্য কেবল একটি পদায়ন নয়, বরং একজন ত্যাগী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হিসেবেই দেখছেন জেলার সাধারণ মানুষ।
|আরো খবর
রাজপথ থেকে নীতি নির্ধারণী টেবিলে
অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম কেবল একজন আইনজীবী নন, তিনি চাঁদপুরের স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক জীবন্ত ইতিহাস। ছাত্র রাজনীতির উত্তাল দিনগুলোতে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে যে যাত্রার শুরু, তা যুবদল হয়ে আজ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে এসে থিতু হয়েছে। চাঁদপুর শহর ও পৌর বিএনপির শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রমাণ করেছেন তার সাংগঠনিক দক্ষতা।
তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক হলো তার অসাম্প্রদায়িক ও সাংস্কৃতিক চেতনা। চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও মুক্তি সৌধ নির্মাণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার অবদান জেলাবাসী আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এবং দীর্ঘ বারো বছর মহাসচিব ও তিনবার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি নিজেকে দলমতের ঊর্ধ্বে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সাংবাদিকতা ও সমাজ বিনির্মাণে পথিকৃৎ
রাজনীতিবিদের বাইরেও অ্যাডভোকেট সেলিমের আরেকটি পরিচয় তিনি একজন কলম সৈনিক। ১৯৭৭ সালে চাঁদপুরের প্রথম পত্রিকা ‘বলাকা’ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি জেলায় আধুনিক সাংবাদিকতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। অসংখ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে তার সম্পৃক্ততা তাকে পৌঁছে দিয়েছে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ড্রয়িং রুমে। তার এই ‘ক্লিন ইমেজ’ ও সর্বজনগ্রাহ্যতা জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালনে বিশাল সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিকূলতা ও রাজপথের পরীক্ষা
বিগত সরকারের আমলে অসংখ্য মামলা, হামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনেই দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে তার সমন্বয়কারী হিসেবে ভূমিকা ছিল অনবদ্য। বিশেষ করে সদর আসনে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে তার রণকৌশল রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে।
জেলা পরিষদের নতুন দিগন্ত
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং স্থবির হয়ে পড়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে একজন দক্ষ সংগঠকের প্রয়োজন ছিল অনস্বীকার্য। অ্যাডভোকেট সেলিম এমন একজন মানুষ, যিনি তৃণমূলের নাড়ি নক্ষত্র চেনেন। কোনো পদ-পদবির মোহ ছাড়াই যিনি আজীবন মানুষের জন্য কাজ করেছেন, আজ সেই দায়িত্বই তার কাঁধে এসে বর্তাচ্ছে।
অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিমের মতো একজন বর্ষীয়ান নেতা জেলা পরিষদের প্রশাসকের চেয়ারে বসা মানে চাঁদপুরের উন্নয়ন ও সুশাসনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতি তার যে দায়বদ্ধতা, তা চাঁদপুর জেলা পরিষদকে একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করবে—এমনটাই এখন জেলাবাসীর প্রত্যাশা।
প্রতিবেদক:অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন
বিশেষ প্রতিনিধি,সিনিয়র সাব-এডিটর, ও কলামিস্ট, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ।
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, চাঁদপুর জেলা বিএনপি।







