প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২৩
ফরিদগঞ্জে ভোটের প্রচারণায় শিশুদের চোখে এক রঙ্গিন উৎসব!

ফরিদগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণা মানেই শুধু মাইকিং, হ্যান্ডবিল আর মিছিলের স্লোগানের ভিড় নয়। প্রতিটি প্রচারণার সঙ্গেই শিশুদের উৎসবমুখর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা ভোটার নয়, রাজনীতির হিসাবও বোঝে না। তবু ভোটের আমেজে তারাই সবচেয়ে প্রাণবন্ত অংশ।
|আরো খবর
সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারণায় উপজেলার বেশ কিছু স্থানে এমনই দৃশ্য ধরা পড়েছে সাংবাদিকের চোখে। উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের একটি গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে যখন প্রার্থীর প্রচারণা মিছিল এগোয়, তখন সবার আগে দৌড়ে আসে শিশুরা।
কেউ হাতে ছোট কাগজের পতাকা বানিয়েছে, কেউ পোস্টারের প্রতীক দেখে প্রতীকের নাম চিৎকার করে বলছে। কার প্রতীক কী, তা হয়তো তারা জানে না, কিন্তু মানুষের সমাগম তাদের চোখ আনন্দে ভরিয়ে তোলে।
রূপসা বাজারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন স্কুলপড়ুয়া শিশু মাইক থেকে ভেসে আসা স্লোগান নকল করে হাসাহাসি করছিলো। একজনের সঙ্গে অপরজনের হাস্যরসাত্মক এই কথোপকথনের মাঝেই যেনো লুকিয়ে ছিলো ভবিষ্যৎ নাগরিক হওয়ার স্বপ্ন।
ক'দিন আগেও ফরিদগঞ্জে নির্বাচনী উত্তেজনা, সংঘর্ষ আর ভাংচুরের খবর ছিলো। সেই বাস্তবতার ভেতর প্রচারণার মাঠে শিশুদের এই নির্ভেজাল অংশগ্রহণ যেনো অন্য এক গল্প বলে। তারা ভয় নয়, আনন্দ নিয়ে রাজনীতির দৃশ্য দেখে। তাদের কাছে নির্বাচন মানে উৎসব, মানুষের মিলন আর রঙ্গিন কোলাহল। নির্বাচনের এসব দৃশ্য যেন তাদের শেখায় গণতন্ত্রের প্রাথমিক পাঠ।
ফরিদগঞ্জের ভোটের প্রচারণায় শিশুদের এই উপস্থিতি মনে করিয়ে দেয়, নির্বাচন কেবল আজকের রাজনীতির জন্যে নয়, আগামী দিনের জন্যেও। এই শিশুরাই একদিন ভোটার হবে, সিদ্ধান্ত নেবে।
তাই প্রচারণার মাঠ যদি হয় শান্ত, সহনশীল ও উৎসবমুখর, তবে শিশুদের মনে গণতন্ত্র মানে হবে আনন্দ—ভয় নয়। ফরিদগঞ্জের নির্বাচনী প্রচারণায় শিশুদের সেই হাসি আর কৌতূহলই বলে দেয়, ভোটের সবচেয়ে সুন্দর প্রচার আসলে তাদের চোখেই লেখা।
ডিসিকে/এমজেডএইচ








