প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৯
ড্যাফোডিলের সহযোগিতায় দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু

বিচারপ্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর এবং জনগণের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সহজতর করতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ‘ই-পারিবারিক আপিল আদালত ৩’ এবং নতুন ‘ই-পারিবারিক আদালত ১৪’।
|আরো খবর
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত মিলনায়তনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দুটি আদালতের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। উদ্বোধনকালে বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)-এর কারিগরি সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, "গত বছর যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, বিচার বিভাগকে সেটিতে আরও এগিয়ে নিতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তাদের নিরন্তর সহযোগিতা ছাড়া বিচার বিভাগের এ অগ্রযাত্রায় আরও সময় লাগতো। আপনারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছেন বলেই আজ এই ডিজিটাল উদ্যোগটি বিকশিত হতে পেরেছে।"
বক্তব্যে তিনি ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে তাঁর অবদানের প্রশংসা করেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, "ইতোমধ্যে বিচার বিভাগে ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা চালু হয়েছে, যার সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে। ডিজিটাল উপায়ে সাক্ষ্যগ্রহণ ও হাজিরা সংক্রান্ত আইনও রয়েছে। এসব সেবাকে কীভাবে আরও বিস্তৃতভাবে প্রযুক্তির আওতায় আনা যায়, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।"
প্রযুক্তিনির্ভর বিচারে কমবে সময় ও ভোগান্তি :
নতুন ই-পারিবারিক আপিল আদালতের মাধ্যমে পারিবারিক মামলা নিষ্পত্তিতে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এই ব্যবস্থার ফলে বিচারপ্রার্থীরা ঘরে বসেই অনলাইনে মামলার সব তথ্য জানতে পারবেন এবং ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারে অংশ নিতে পারবেন। এতে আদালতে যাতায়াত, শারীরিক নথিপত্র সংরক্ষণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে সময় ও অর্থের অপচয় অনেকটাই কমে আসবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ঢাকা ফ্যামিলি কোর্ট ৫ ও চট্টগ্রাম ফ্যামিলি কোর্ট ১-এ ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির তৈরি এই সিস্টেমটি পরীক্ষামূলকভাবে সফলভাবে চালু করা হয়। সেই সফলতার ধারাবাহিকতায় এবার পূর্ণাঙ্গ ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হলো। পেপারলেস বা কাগজবিহীন বিচারকাজ পরিচালনা ও ডিজিটাল নথি সংরক্ষণে এ উদ্যোগ যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড সফটওয়্যারটি তৈরি করে বিচার বিভাগে প্রযুক্তিগত ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে সরাসরি অবদান রাখছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবুল কালাম খান।
এছাড়াও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পক্ষে ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শেখ রাশেদ হায়দার নূরী, আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রিয়াদুজ্জামান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








