প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ২১:২৮
আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় বিএনপি করার কারণে জড়ানোর অভিযোগে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মানববন্ধন

চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচার এবং বিচার পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত যুবকের আত্মহত্যার ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে দায়েরকৃত মামলায় আসামী করা নিয়ে। মামলার আসামির পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই মামলার আসামী করা হয়েছে। চুরির বিচারসহ সংশ্লিষ্ট কোনো কাজেই এরা জড়িত ছিলেন না। ফলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিযুক্তদের স্বজনরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) দুপুরে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের নয়াবাড়ি এলাকার স্থানীয় বাজারে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
|আরো খবর
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, হাঁস চুরির অপবাদ দিয়ে বাড়িতে সালিসের নামে বিচার বসিয়ে দোষী সাব্যস্ত করে নাখে খত দেয়া ও জরিমানা করার কারণে মো. মাসুম মিজি (২০) নামে এক যুবককে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে এমন অভিযোগে ওই যুবকের পিতা আলাউদ্দিন মিজি ৫জন নামীয় ও অজ্ঞাত আরো বেশ ক'জনকে আসামি করে সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) রাতে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। কিন্তু মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে, তারা কোনোভাবেই বিচারসহ কোনো সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত ছিলেন না।
মামলার প্রধান আসামী সোহেল মোল্লা গত ক'মাস পূর্বে সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে ঘরে রয়েছেন। অন্যরাও এই বিচার ও ঘটনার কোনো কাজেই জড়িত ছিলেন না, অথচ তাদেরকে মামলার আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহিন সরকার বলেন, আত্মহত্যা করা মাসুম ইতঃপূর্বে নয়াহাট বাজারে চুরি করার দায়ে আটক হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ রয়েছে। যে ঘটনা ঘটেছে, আমরা তার সুচারু তদন্ত দাবি করছি। অহেতুক নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানো ঠিক নয়।
সোহেল মোল্লাসহ অন্যরা সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কেন্দ্র কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে বিচার করা ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আওয়ামীলীগ করেন। তার বিচারের কারণেই ছিঁচকে চোর আত্মহত্যা করেছে। আমাদের দলের লোকজনকে হয়রানি করতে এই মামলা সাজানো হয়েছে। এটি রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। আমরা থানা পুলিশকে সঠিক তদন্তপূর্বক এই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করছি।
মামলার সাক্ষী আল আমিন জানান, তাকে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে, কিন্তু তিনি জানেন না। তাছাড়া ওই বিচারের সময়ে আমি উপস্থিত ছিলাম, সোহেল মোল্লাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন না। কেনো তাদের আসামী করা হয়েছে আমি জানি না।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মামুন ও জাহাঙ্গীর হোসেন। তারা বলেন, চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার কোনো ঘটনার সাথে সোহেল সহ অন্যরা জড়িত নয়। তাহলে কেনো এই মামলা হলো।
মামলার প্রধান আসামী সোহেল মোল্লার স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন, আমার স্বামী দুর্ঘটনার কারণে ঘরেই বসে থাকেন। নির্বাচনের সময়ে ঘরে থেকেই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছেন। কেন্দ্র কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এখন আত্মহত্যার ঘটনার সুযোগে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে, এর বিচার চাই।
পৌর যুবদল নেতা রাজু পাটওয়ারী বলেন, এখনো ফ্যাসিস্টের প্রেতাত্মা ও তাদের দোসররা নানাভাবে আমাদের ক্ষতি করতে চাইছে। মাসুম মিজির ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আমাদের দলের লোকজনকে হয়রানি করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যাবে না। পুলিশ আশা করছি মামলার সঠিক তদন্ত করে এর বিহিত করবে। কোনোভাবেই আমরা সোহেল মোল্লাসহ অন্যদের হয়রানি মেনে নিবো না।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ হাঁস চুরির ঘটনায় চরমথুরা গ্রামের মাসুম মিজি (২০)কে পরদিন ৮ মার্চ বিচারের মুখোমুখি করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানসহ এলাকার কিছু লোক। ওই বিচারে তাকে নাখে খত দেয়া ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বিচারের রায় মানতে না পেরে ওই দিন বিকেলে মাসুম মিজি নিজের ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।








