শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:৪৯

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলের প্রযুক্তিবিদ চাঁদপুরের রাবেয়া

চাঁদপুর কন্ঠ রিপোর্ট
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলের প্রযুক্তিবিদ চাঁদপুরের রাবেয়া

ছবি : চাঁদপুরের মেয়ে রাবেয়া বেগম স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলের টেকনিশিয়ান।

নিজ দেশে পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পাঠ চুকিয়ে বিদেশ থেকে নিয়েছেন নগর জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা। এ বিষয়েই এখন তিনি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলের টেকনিশিয়ান বা প্রযুক্তিবিদ। চাঁদপুরের মেয়ে রাবেয়া বেগম ইউরোপের এই নগরী বদলে দিতে কাজ করছেন।

গ্লাসগো সিটি কাউন্সিল কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলছে। নগরবাসীর ভ্রমণকালীন আচরণ পরিবর্তনে পরবর্তী বছরে কী কী প্রকল্প নেয়া যায়, তা নিয়েই আলোচনা। স্থানীয় দাতব্য সংস্থা অনেক প্রস্তাব করে থাকে। ২০২৩ সালে যেমন ২০টির মতো প্রস্তাব এসেছে, সেগুলো নিয়েই দীর্ঘ আলোচনা চলছিলো। পক্ষে-বিপক্ষে উপস্থাপন করা হচ্ছিলো যুক্তিতর্ক। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছা যাচ্ছিলো না।

শেষে সভার প্রধান সিটি কাউন্সিলের টেকসই পরিবহন বিভাগ-এর গ্রুপ ম্যানেজার ঘোষণা দিলেন, ‘আগামী দু দিনের মধ্যে ১০টি প্রস্তাব চূড়ান্ত করে উপস্থাপন করবেন। সেটাই সিটি কাউন্সিল বাস্তবায়ন করবে।’

দুদিন পর ঠিকই সময়োপযোগী, স্বল্প সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য এবং শহরের অধিবাসীদের জন্যে কল্যাণকর ১০টি প্রস্তাব উপস্থাপিত হলো। অনুমোদিত হলো বড়ো ও ছোটদের সাইকেল চালানো শেখানো, সাইকেল মেরামত প্রশিক্ষণ, অনুপযুক্ত সাইকেল ব্যবহারযোগ্য করা—এর মতো কিছু প্রকল্প।

আর এ প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করার নেতৃত্ব পেলেন বাংলাদেশের রাবেয়া বেগম। নতুন দায়িত্ব পেয়ে জোরেশোরে কাজে নেমে পড়লেন তিনি। এই দায়িত্বপ্রাপ্তির মাস কয়েক আগেই গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলে টেকনিশিয়ান বা প্রযুক্তিবিদ হিসেবে যোগ দেন তিনি।

রাবেয়া যেভাবে গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলে :

চাঁদপুরের মেয়ে রাবেয়া। বিদ্যুৎবিহীন ছোট গ্রাম-এ বেড়ে ওঠা। গ্রামের স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকার একটি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে পরিবেশ বিজ্ঞান-এ ভর্তি হন। পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে স্নাতকোত্তর করেন।

এরপর কয়েক বছর একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করেন। দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার আকাঙ্ক্ষা থেকেই ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদন করেন। তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এই বৃত্তি।

এর আওতায় তিনি গ্লাসগো যান। পরে স্কটল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও স্পেনের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবান ক্লাইমেট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন। এরপরই যোগ দেন নগর প্রশাসন-এ।

রাবেয়ার প্রকল্পগুলোর কল্যাণে নগরবাসীর ভ্রমণবিষয়ক আচরণগত পরিবর্তন হচ্ছে। লক্ষ্য হাঁটা ও সাইক্লিং কার্যক্রম বাড়ানো। এতে শহরে বায়ুদূষণ, যানজটদুর্ঘটনা কমার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য উন্নয়ন হবে।

রাবেয়ার আরেকটি প্রকল্প হচ্ছে নগরবাসীর জন্যে সুরক্ষিত সাইকেল স্টোরেজ। পাশাপাশি সাইকেল চালানোর উপযুক্ত রাস্তা চিহ্নিত করে জিআইএস (ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা)-এর মাধ্যমে একটি ম্যাপ তৈরি, যাতে নিরাপদ সাইকেল রুট চিহ্নিত করতে পারে নগরবাসী।

সূত্র : প্রথম আলো।

ডিসিকে/এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়