বুধবার, ০৪ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   ১৬-২৫ মার্চ নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে : নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৩

বাংলাদেশে কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব

তথ্য-প্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক
বাংলাদেশে কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব

বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এখানে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বিপুল, যা দেশের উন্নয়নের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনা। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। প্রথাগত সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে, আত্মনির্ভরশীল করে তোলে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।

কারিগরি শিক্ষার সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য

-কারিগরি শিক্ষা হলো এমন শিক্ষা যা নির্দিষ্ট পেশা বা কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে।

-এটি শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং হাতে-কলমে কাজ শেখার ওপর গুরুত্ব দেয়।

-যেমন : ইলেকট্রিক্যাল, কম্পিউটার টেকনোলজি, অটোমোবাইল, কৃষি, হস্তশিল্প, ফ্যাশন ডিজাইন ইত্যাদি।

বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা

-দেশে প্রায় ৭,৮১৯টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে (ব্যানবেইস, ২০২২)।

-দক্ষ জনশক্তির হার মাত্র ১৪ শতাংশ, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

-বর্তমানে প্রায় ২৮ লাখ শিক্ষিত বেকার রয়েছে, যাদের অনেকেই উচ্চশিক্ষিত হলেও কর্মসংস্থানের অভাবে ভুগছেন।

কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব

১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি

-দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দ্রুত চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারে।

-বিদেশে শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কারিগরি দক্ষতা অপরিহার্য।

২. আত্মনির্ভরশীলতা

-কারিগরি শিক্ষা উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

-ক্ষুদ্র ব্যবসা, শিল্প ও সেবা খাতে দক্ষ জনবল নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।

৩. অর্থনৈতিক উন্নয়ন

-দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

-শিল্পায়ন ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়।

৪. সামাজিক উন্নয়ন

-বেকারত্ব কমে গেলে সামাজিক অস্থিরতা হ্রাস পায়।

-দক্ষতা অর্জন নারীদের ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চ্যালেঞ্জসমূহ

-যুগোপযোগী কারিকুলামের অভাব।

-পর্যাপ্ত প্রশিক্ষক ও আধুনিক ল্যাবের ঘাটতি।

-শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ।

-সামাজিকভাবে সাধারণ শিক্ষাকে বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়, ফলে কারিগরি শিক্ষা অবহেলিত।

সম্ভাবনা ও করণীয়

-কারিকুলাম আধুনিকীকরণ : বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম তৈরি করা।

-প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন : কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ানো ও আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন।

-শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান : বৃত্তি, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা।

-নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ : নারীদের জন্য বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

-সরকার-বেসরকারি অংশীদারিত্ব : শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কারিগরি শিক্ষার মধ্যে সংযোগ স্থাপন।

বাংলাদেশের উন্নয়ন নির্ভর করছে দক্ষ জনশক্তির ওপর। প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা প্রসারিত করতে হবে। তরুণদের হাতে-কলমে কাজ শেখানো, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো দক্ষতা অর্জন করানোই হবে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়