সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১০

সাক্ষাৎকার : ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী সাক্ষাৎকার : ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী

চাঁদপুরেই যেন মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা পায়, সেই পরিবেশ তৈরি করতে চাই

অনলাইন ডেস্ক
চাঁদপুরেই যেন মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা পায়, সেই পরিবেশ তৈরি করতে চাই

ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরীর জন্ম ফরিদগঞ্জ উপজেলার সেকদি গ্রামে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে সরকারি চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে মায়ের দেখাশোনার জন্য সরকারি চাকরি ছেড়ে চঁাদপুরে ফিরে আসেন। এর কয়েক বছর পর প্রতিষ্ঠা করেন প্রিমিয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক এসোসিয়েশন, চঁাদপুরের সভাপতি। চঁাদপুরের চিকিৎসাসেবা, সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে তঁার সঙ্গে কথা বলেছেন আলআমিন হোসাইন।

আপনার শৈশব ও কৈশোর কোথায় কেটেছে?

ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী : আমার জন্ম চঁাদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সেকদি গ্রামে। আমার বাবা ছিলেন চান্দ্রা ইমাম আলী হাই স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক। মা ছিলেন গৃহিণী। স্বাধীনতার আগে সেকদি মুন্সিবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করি। স্বাধীনতার পর আমরা স্বপরিবারে চঁাদপুর শহরে চলে আসি। ১৯৭৯ সালে হাসান আলী স্কুল থেকে এসএসসি এবং পরে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করি। ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করি।

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নটা কীভাবে বুনেছিলেন?

ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী : আমার বড় মামা ডা. নূরুর রহমান ছিলেন চঁাদপুরের একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তঁার কাজ, প্রতিভা, রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা ও মনের উদারতা আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করত। আমি মূলত তঁার কাছ থেকেই চিকিৎসক হওয়ার অনুপ্রেরণা পাই। ডা. নূরুর রহমান শুধু চিকিৎসাসেবায় নয়, চঁাদপুরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি চঁাদপুর রোটারী ক্লাবের চার্টার প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

যেদিন প্রথম চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেন, সেদিনের অনুভূতি জানতে চাই।

ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী : ১৯৮৮ সালের মে মাসে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে আমার কর্মজীবন শুরু হয়। প্রথম দায়িত্ব পাই মেডিসিন ওয়ার্ডে। প্রথম যে রোগীকে আমি দেখি, তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত ছিলেন। তখন এ রোগের চিকিৎসার সুযোগ এখনকার মতো ছিল না। মূলত উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হতো। রোগীর সঙ্গে কথা বলে তাকে কিছুটা আশ্বস্ত করতে পেরেছিলাম। এর ফলে তিনি আমাকে যে প্রশংসা করেছিলেন, তা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেদিন মনে হয়েছিল, একজন চিকিৎসক হিসেবে রোগীদের সেবা করার যে স্বপ্ন নিয়ে আমি এই পেশায় এসেছি, প্রথম দিনই তার একটি সুন্দর ফল পেয়েছি। সেই দিনটি আমি সারাজীবন মনে রাখব।

আপনার দীর্ঘ কর্মকালে পেশাগতভাবে আপনি কী কী দায়িত্ব পালন করেছেন?

ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী : ১৯৯১ সালে ইন্টার্ন চিকিৎসক থাকার সময়ই বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে উত্তীর্ণ হই এবং সহকারী সার্জন হিসেবে আমার প্রথম পোস্টিং হয় লক্ষ্মীপুর জেলায়। সেখানে থাকার সময় জেনারেল সার্জারিতে ক্যারিয়ার করার পরিকল্পনা করি। এফসিপিএস পার্ট ওয়ানে ভর্তি হওয়ার পরীক্ষা এবং সহকারী রেজিস্ট্রারশিপ পরীক্ষায় অংশ নিই। আল্লাহর মেহেরবানিতে দুটিতেই কৃতকার্য হই। এরপর এফসিপিএস পার্ট ওয়ানের ছাত্র হিসেবে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) যোগ দিই। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) অধীনে এফসিপিএস সার্জারি পার্ট ওয়ান সম্পন্ন করি। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাই। মোট সাড়ে তিন বছর প্রশিক্ষণ করি। দেড় বছর ক্যাজুয়ালটি সার্জারি এবং দুই বছর জেনারেল সার্জারিতে প্রশিক্ষণ নিই। ইউনিট ওয়ানে আমার প্রফেসর ছিলেন অধ্যাপক আবদুল আউয়াল স্যার। এরপর পার্ট টু পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ করলেও ভাইভার সময় আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান। এ কারণে পরীক্ষাটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ১৯৯৯ সালে মায়ের কারণে ঢাকা থেকে চঁাদপুরে চলে আসি। প্রথমে চঁাদপুর সদর উপজেলার হানারচর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পোস্টিং নিই। সেখানে এক বছর দায়িত্ব পালনের পর হাইমচর উপজেলায়ও দায়িত্ব পালন করি। কয়েক মাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার এবং পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচএ হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। পরে ২০০২ সালে সরকারি চাকরি থেকে নিয়ম মেনে অব্যাহতি নিয়ে চঁাদপুর শহরে বেসরকারি চিকিৎসক হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করি। এর মূল কারণ ছিল আমার মা অসুস্থ ছিলেন। তঁাকে দেখাশোনার জন্য চঁাদপুরে থাকা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

২০১১ সালে চঁাদপুরে ভালো সার্জিক্যাল ব্যবস্থাপনা ও উন্নত সুবিধাসম্পন্ন একটি হাসপাতাল গড়ে তোলার ইচ্ছা থেকে প্রিমিয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিই। দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে অনেক সহকর্মী ও রোগীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আমার রোগী, তাদের অভিভাবক এবং সহকর্মী চিকিৎসকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা, সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছেন।

একটি কথা বলতে চাইÑচিকিৎসাক্ষেত্রে ১০০টি রোগীর মধ্যে ৯৯ জন ভালো হয়ে গেলেও একজন রোগী কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতার শিকার হতে পারেন। এমন ঘটনা উন্নত দেশেও ঘটে। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক সময় ৯৯ জন রোগীর ভালো হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে না, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাই বেশি আলোচিত হয়। আমি বলব, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে আবেগপ্রবণ না হয়ে সরকারি নিয়মনীতি অনুযায়ী তদন্ত হওয়া উচিত। কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, কোথাও কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়া হলে চিকিৎসকদের জন্য যেমন তা শিক্ষণীয় হবে, তেমনি দেশের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নেও কাজে আসবে।

আপনি বর্তমানে বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক এসোসিয়েশন, চঁাদপুরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাই।

ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী : আমাদের সংগঠনের অধিভুক্ত বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো যাতে মানসম্পন্নভাবে পরিচালিত হয়, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, প্রচারমূলক কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্য খাতের জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করা হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। দক্ষ জনবল তৈরিতেও এসব প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি কর্মীদের ন্যূনতম আয়, জীবিকা নির্বাহ এবং ভালো কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও আমরা কাজ করি। সবশেষে আমাদের লক্ষ্য একটাই, মানুষ যেন মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায় এবং স্বাস্থ্য খাত আরও কার্যকর ও দক্ষভাবে মানুষের সেবায় ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমানে চঁাদপুরের চিকিৎসা খাতের প্রধান সংকটগুলো কী কী?

ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী : চঁাদপুরের প্রধান সংকট হলো, এখনো আমরা সরকারি বা বেসরকারি খাতে মানসম্পন্ন চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারিনি। চঁাদপুরে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর আট বছর পার হয়ে নবম বছরে পদার্পণ করেছি। কিন্তু এর স্থায়ী ক্যাম্পাস এখনো নির্মাণ হয়নি। বর্তমান সরকার অল্প সময়ের মধ্যে এটি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের কাছ থেকেও আমরা আশাবাদী। তিনি বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন।

সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই একটি অভিযোগ থাকে যে, প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো চিকিৎসাসেবার চেয়ে ব্যবসার ওপর বেশি জোর দেয়। দায়িত্বশীল সংগঠক হিসেবে এই ধারণাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী : এটা দুই দিকের বিষয়। একটি বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতাল পরিচালনা করা অনেক ব্যয়বহুল। চঁাদপুরে এখনো উচ্চমানের চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় যঁাদের সামর্থ্য আছে, তঁারা ভালো চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হন। আবার তঁারা ঢাকামুখী হওয়ায় চঁাদপুরে চিকিৎসা খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগও হয় না। তবে অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই, তা-ও নয়। দরিদ্র দেশে যা হয়, এখানে ব্রোকারভিত্তিক কিছু চিকিৎসাবাণিজ্য দেখা যায়। একজন রোগী নির্দিষ্ট চিকিৎসকের কাছে যেতে চান, কিন্তু কিছু ব্রোকার, এমনকি রিকশাচালক বা সিএনজিচালকরাও রোগীকে ভুল বুঝিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে যান। ফলে রোগী তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে অন্য জায়গায় চলে যান এবং চিকিৎসার খরচও বেড়ে যায়।

বর্তমানে চিকিৎসাসেবা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখাটা বড় প্রশ্ন। প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষ যেন সুলভে মানসম্মত সেবা পায়, এ বিষয়ে আপনাদের কোনো উদ্যোগ রয়েছে কি?

ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী : কেন্দ্রীয়ভাবে বিভিন্ন চিকিৎসাসেবার খরচ নিয়ন্ত্রণের একটি ব্যবস্থা আমরা করেছি। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন খাতের ব্যয় পর্যালোচনা করে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চঁাদপুর সরকারি হাসপাতাল ও চঁাদপুর বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে যেসব চিকিৎসাসেবা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা পাওয়া যায় না, সেসবের জন্য কোনো রোগী বেসরকারি হাসপাতালে এলে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ৩০ শতাংশ ছাড়ে পরীক্ষাগুলো করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছি।

রাজধানীর বাইরে জেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে চঁাদপুর কতটা এগিয়েছে?

ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী : ঢাকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চঁাদপুরের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নের জন্য আমরা ঢাকাভিত্তিক করপোরেট হাসপাতালগুলোকে চঁাদপুরে তাদের সেবা সম্প্রসারণে উৎসাহিত করছি। এতে একটি মানদণ্ড তৈরি হবে। আমরা বলতে পারব, এটাই আমাদের স্ট্যান্ডার্ড; সবাইকে এই মানে যেতে হবে। এর মাধ্যমে ভালো সেবার জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে। এছাড়া চঁাদপুর মেডিকেল কলেজ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে সেখানে অনেক সিনিয়র চিকিৎসক আসবেন। সরকারি সেবার পাশাপাশি সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী তঁারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও সেবা দিতে পারবেন। এতে বেসরকারি খাতে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী রোগীরাও উপকৃত হবেন।

আগামী দিনে চঁাদপুরের চিকিৎসাসেবা খাতকে আরও আস্থাশীল করতে আপনাদের কী পরিকল্পনা রয়েছে?

ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী : আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে চঁাদপুরে কয়েকটি করপোরেট হাসপাতালের শাখা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া। ইতিমধ্যে ল্যাবএইডের একটি প্রতিষ্ঠান এখানে হয়েছে। আমরা চাই আরও কয়েকটি নামকরা প্রতিষ্ঠান চঁাদপুরে এসে কার্যক্রম পরিচালনা করুক। আমাদের লক্ষ্য হলো, চঁাদপুরের মানুষকে চিকিৎসার জন্য যেন দূরে যেতে না হয়। তারা যাতে চঁাদপুরেই মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পান, সেই পরিবেশ তৈরি করতে চাই।

অবসর সময়ে কী করেন?

ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী : চিকিৎসকদের জন্য অবসর সময়টা খুবই জরুরি। আমি চাই অবসরের সময়টি উপভোগ করতে। এজন্য অবসরে আমি কিছু দাতব্য কাজ করি। আমার বাড়িতে একটি চ্যারিটেবল ডিসপেনসারি চালাই, সেটি দেখাশোনা করি। একসময় চঁাদপুর রোটারী ক্লাবের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এখনো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছি। পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সঙ্গে আছি। কয়েকটি স্কুলের গভর্নিং বডির সঙ্গেও যুক্ত আছি। কিছু হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গেও কাজ করছি। এসব কাজ করতে আমার ভালো লাগে। এছাড়া নিজের পরিবারকেও সময় দিই। আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে আমেরিকায় থাকে। তিন ছেলেই আমার পেশা বেছে নিয়েছে। বড় ছেলে চিকিৎসক হয়ে তার মেডিকেল কলেজে লেকচারার হিসেবে যোগ দিয়েছে। দ্বিতীয় ছেলে বরিশাল মেডিকেল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র এবং ছোট ছেলে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়