প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০
তর্ক-বিতর্ক ও যুক্তি-খণ্ডনের টিপস

দার্শনিক ও ইংরেজি প্রাবন্ধিক ফ্রান্সিস বেকন বলেছেন,“জবধফ হড়ঃ ঃড় পড়হঃৎধফরপঃ ড়ৎ পড়হভঁঃব, নঁঃ ঃড় বিরময ধহফ পড়হংরফবৎ’’
কোন তর্ক-বিতর্কে জয়লাভ করতে হলে তার আদলে জোরালো, বাস্তবসম্মত ও প্রাসঙ্গিক বা সঙ্গতিপূর্ণ যুক্তি/উদাহরণ/তথ্যবহুল প্রমাণ দাঁড় করাতে হয়। এসব যুক্তি রেডিমেড খাট বা চকির পায়া। ঠেকনার মত তা দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করে। এখানে উল্লেখ্য যে, যে খাট বা চকির পায়া বা ঠেকনা যত বেশি শক্ত বা মজবুত তার খাট বা চকিটি তত বেশি মজবুত ও টেকসই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।
আধুনিক বা ফরমাল নিয়মসমূহ নিম্নরূপ :
১. বক্তব্য বা যুক্তি উপস্থাপনার শুরু হতে শেষ পর্যন্ত ৪টি মূল বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাকতে হবে (র) স্বতঃস্ফূর্ততা শ্রুতিমধুরতা (রর) উদাহরণ ও আস্থাশীলতা (ররর) প্রাসঙ্গিকতা ও সঙ্গতি (রা) ব্যাকরণ ও বাক্যালংকার।
২. তর্ক-বিতর্ক বা যুক্তি উপস্থাপনার নির্ধারিত বরাদ্দকৃত সময়ের উপর ভিত্তি করে যুক্তি খণ্ডনের প্রতিটি সেকেন্ডের সময় পূর্ব থেকেই বাজেট করে নিতে হবে ।
৩. আলোচ্য উদ্দীপক বা যুক্তি উপস্থাপনের বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সর্বালোচিত প্রসঙ্গের সঠিক তথ্য সূত্র সহ উদাহরণের অবতারণা করা।
৪. আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ, তাই তর্ক ও যুক্তির খণ্ডন, যদি হয় বিজ্ঞান সম্মত তবে তা হয় আরও বেশি সমৃদ্ধ।
৫. ভিক্টরিয়ান যুগের কবি সমালোচক মেথিও আর্নোল্ড বলেছেন, “ঞযব নবংঃ ঢ়ড়বঃৎু রং যিধঃ বি ধিহঃ” অর্থাৎ সর্বোচ্চ কাব্য হল সেটিই যা আমরা চাই, যা আমাদের ভাল লাগে ।” তাই আরও কথার সাথে মিল রেখে বলা যেতে পারে, তর্ক-বিতর্কে যুক্তি ও তথ্য বহুল উদাহরণ হওয়া উচিত, সেগুলোই বিচারক, দর্শক ও মাননীয় মডারেটর বক্তার কাছে আশা করেন।
৬. যুুক্তি দাঁড় করানোর অন্য অর্থ হলো কোনো কিছুর সত্যতা প্রমাণ করা। সুতরাং যে প্রধান কারণে বা দিকগুলোর জন্যে বিষয়টি সঠিক, সত্য ও সঙ্গতিপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে তা সর্ব প্রথমে উপস্থাপনা করা। একজন দক্ষ যুক্তিবিদ অনেক সময় ভ্রান্ত ও মতভেদ কিংবা জটিল জটিল বিষয়ও সত্য বলে বা মিথ্যায় পরিণত করে ফেলতে পারেন । যেমনটি পেরেছিল থেলেস ও নিকোলাস কোপার্নিকাস সূর্য ও পৃথিবীর ঘূর্ণন ও আবর্তন নিয়ে।
৭. একজন দক্ষ যুক্তিবিদ হলো একজন পাকা গাড়ি চালকের মত, যিনি সকল উঁচুনিচু, আঁকাবাঁকা, সমান ঢালু রাস্তার মধ্যেও টাইমিং করে ড্রাইভিং করতে পারেন এবং সময় উত্তীর্ণের পূর্বেই গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারেন।
৮. ধরা যাক, বিতর্কের বিষয় হলো ‘বাংলার বিপুল জনসংখ্যা ও বিস্ফোরিত জনস্রোতই হল যানজটের প্রধান কারণ’। এই টপিকের পক্ষে বা বিপক্ষে যুক্তি খণ্ডন করে উক্ত কথার সত্যতা প্রমাণ করতে হবে । পক্ষে : প্রথম আলো পত্রিকায় সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কোরআন ও হাদীসের সাথে মিল রেখে বিশ্বের শীর্ষ এবং একমাত্র আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিগ ব্যাং-এর উদ্ভাবক ও ব্যাখ্যা প্রদানকারী মার্কিন বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছেন, পৃথিবীতে একমাত্র মানবই মানবের জন্যে হুমকি স্বরূপ। তার কথার সূত্র ধরে কি আমরা একমতে মিলিত হতে পারি না যে, বাংলার বিপুল জনসংখ্যা ও বিস্ফোরিত জনস্রোতই হল যানজটের প্রধান কারণ। মাননীয় মাডারেটর ও সম্মানিত সকল সুধী মণ্ডলী! জ্ঞানের বহু শাখা প্রশাখার জনক প্লেটো বলেছেন, খরঃবৎধঃঁৎব রং ধ ঃযরহম নড়ঃয ৎড়ড়ঃবফ ভৎড়স যঁসধহ. সাহিত্যের সবকিছুই সৃষ্টি হয় মানবের নিকট হতে । তাই এটাই বলার অপেক্ষা রাখে কি, গড়ার মালিক যিনি হতে পারেন, ভাঙ্গার দায়টা তার নিজেরই হয়, প্রিয় প্রতিপক্ষ বন্ধুরা । বর্ষার চারিদিকে যখন কানায় কানায় উপচে পড়া পানি থৈ থৈ করে, তখন তার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং এর স্রোতও গতিশীল প্রবাহে থাম ধরে। তেমনি প্রবল জনস্রোত চলাচলের রাস্তাকে মন্থর করে দেয়া এবং ফলে দেখা যায় যানজটের চরম ভোগান্তি। মাননীয় মডারেটর, তাই কোনো কথা বলার অবকাশ থাকে না যে, এই বিপুল জনগণই বাংলার ভয়াবহ যানজটের প্রধান কারণ। আমি আশা করি, আমার প্রাতপক্ষের বন্ধুরাও এর আলোচ্য কথার সাথে বিচক্ষণভাবে একমত পোষণ করবেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ সকলকে । বিপক্ষে : * মাননীয় মডারেটর ও আমার প্রতিপক্ষের বন্ধুদের বলতে চাচ্ছি, একজন আনাড়ি ও অপরিকল্পিত ইন্টারনেট ব্যবহাকারী মিডিয়ার সঠিক ব্যবহারে ব্যর্থ হয়ে যদি হতাশায় ভোগে, তবে তার জন্যে পুরো অনলাইন ও ইন্টারনেট প্রযুক্তিকেই কি আমরা প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করে ফেলতে পারি। মাননীয় মডারেটর, এটি একটি ভেবে দেখার বিষয় হলেও হতে পারে না কি। প্রতিপক্ষের বন্ধুরা! আমি মনে করি মিডিয়ার সঠিক ব্যবহারই পারে এই আনাড়ি মিডিয়ার লোকটিকে হতাশা থেকে মুক্ত করতে। মাননীয় মডারেটর! এই কথার সাথে মিল রেখে বলছি যে, বাংলাদেশের সমগ্র ভূখণ্ডের তুলনায় জনসংখার অত্যধিক হলেও অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থাই হল যানজটের প্রধান কারণ।
ইসমাইল হোসেন সিরাজী : প্রধান শিক্ষক, তালুকদার একাডেমী হাই স্কুল, শাহরাস্তি, চাঁদপুর; সাংগঠনিক সম্পাদক : চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন, শাহরাস্তি শাখা।