প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৪
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার
ছায়া শিকারী

(পূর্বপ্রকাশিতের পর)
বারো.
প্রায় এক বছর পর। প্রধান উপদেষ্টা আরিন তাসনীমকেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়েছে। আর সারাদেশে নির্বাচিত হয়েছেন তিন শ এমপি। মানুষ নিশ্চিন্তে ভোট দিয়ে তাঁদেরকে সংসদে পাঠিয়েছে, যাতে তারা শব্দহীনতা থেকে রক্ষা পেতে পারে, দেশের উন্নয়ন ঘটাতে পারে।
রুহান তার গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছে। এ সময় তার গাড়ির পাশে এক তরুণীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তরুণীটি হাত নেড়ে কিছু একটা বলতে চায়। রুহান গাড়ি থেকে নেমে তাকে প্রশ্ন করে, ‘কী হয়েছে তোমার?’
‘আমার নাম রুবাবা। তোমাকে আমার পিতার কাছে নিয়ে যেতে এসেছি।’
মেয়েটির দিকে তাকিয়ে দেখে রুহান। এত সুন্দর মেয়ে সে কখনো আর দেখেনি। তার মনে হচ্ছে, সে যেন স্বপ্ন দেখছে। তারপরও সে প্রশ্ন করে, ‘কেন? কী হয়েছে তোমার পিতার?’
‘তুমি মন্ত্রী পরিষদে স্থান পেয়েছ। তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে। তোমাকে এই মন্ত্রণালয়ে খুব দরকার। শুনেছি, তুমি তথ্য-প্রযুক্তিতে বিদেশে বেশ সুনাম অর্জন করেছ। তাই তোমাকে এই দেশের মানুষের উন্নয়নে বড়ই প্রয়োজন।’
মন্ত্রণালয়ের গোলটেবিল বৈঠক। একে একে সব মন্ত্রী ও সচিব বসে আছেন। ঠিক এই সময়ে রুবাবা রুহানকে নিয়ে প্রবেশ করল। একজন বয়স্ক লোক এগিয়ে এসে রুহানের সঙ্গে করমর্দন করেন। রুহান চিনতে পারেন। উনি এই দেশের প্রধানমন্ত্রী। নাম আরিন তাসনীম। যিনি বাংলাদেশকে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে উচ্চতর স্থানে তুলে ধরেছেন।
রুহান বুঝতে পারে, এই প্রধানমন্ত্রী নিতান্তই সাদামাটা জীবনযাপন করেন। তাই তিনি সব সময় এভাবেই মানুষকে সম্মান করতে গিয়ে নিজেই অভিনন্দন জানাতে এগিয়ে আসেন।
রুবাবা পরিচয় করিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী রুহানের সঙ্গে করমর্দন করে বলেন, ‘আমরা চাই, এই দেশটা তোমাদের মতো তরুণদের খুঁজে খুঁজে যোগ্য স্থানে বসিয়ে দিক আর দেশের উন্নয়ন ঘটাক। কোনো জিনিয়াস তরুণ যাতে অন্য দেশে গিয়ে তার মেধার অপচয় করতে না পারে আর দেশও যাতে দেশের জিনিয়াসদের মূল্যায়ন করতে পারে, আমরা সেটাই চাই। আমরা অযোগ্যদের দিয়ে কোনো কাজ করাতে চাই না। যোগ্যদের যথাস্থানে বসিয়ে দিতে চাই, যাতে দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারে।’
কথাগুলো শুনে রুহান রুবাবার দিকে তাকায়। তার মুখে উজ্জ্বল হাসি। সেই হাসিতে তাকে স্বর্গীয় নারীর মতোই লাগছে। আলোর ঝিলিক বেরুচ্ছে রুবাবার দুচোখ বেয়ে।
রুহান যখন মন্ত্রণালয়ে কাজ শুরু করে, ধীরে ধীরে বুঝতে পারে, রুবাবা শুধু একজন তরুণী নয়, সে আসলে একটি গোপন গবেষণা প্রকল্পের অংশ, যেখানে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে তৈরি করতে এআই ও মানবিক মূল্যবোধ একত্রিত করা হয়েছে। একদিন রুহান বিষয়টা বুঝতে পেরে রুবাবার কাছে সঠিক তথ্য জানতে চায়।
রুবাবা রহস্যময় হাসি দিয়ে বলে, ‘আমাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে ক্লোন করে তৈরি করা হয়েছে এই প্রজেক্টের জন্য। আমি সেই চেতনার প্রতিচ্ছবি, যা তোমাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চায়।’
রুহান স্তব্ধ হয়ে যায়। সে জানে, এবার নেতৃত্ব হবে ভুলহীন, নৈতিক এবং প্রযুক্তনির্ভর, যেখানে দেশের সাধারণ মানুষ আরও দ্রুত ভালো অবস্থানে চলে আসবে। কেউ চাকরিবিহীন থাকবে না, কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না। কেউ কারোটা চুরি করারও প্রয়োজন পড়বে না। সবারই কাজ থাকবে, সবারই সমান অর্থবিত্ত থাকবে। আর থাকবে কথা বলার অধিকার। কেউ নিঃশব্দ থাকবে না।
দেশ যখন রুহানের নেতৃত্বে প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, হঠাৎ এক সাইবার হামলা হয়, যা দেশের সমস্ত তথ্যব্যবস্থা ধ্বংস করে দিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ও বিজ্ঞানী আরিন তাসনীম নিজ হাতে একটি কোড লিখে সেই হামলা প্রতিহত করেন, কিন্তু এতে তাঁর মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি হয়।
শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমার শরীর হয়তো আর চলবে না, কিন্তু আমার চিন্তা তোমাদের ভেতর বেঁচে থাকবে, যাতে তোমরা প্রযুক্তিতে দেশকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারো।’
কথাগুলো রুহান গভীরভাবে হৃদয়ে ধারণ করে। সে বুঝতে পারে, তার ওপর এক গভীর দায়িত্ব অর্পিত হতে যাচ্ছে এই দেশটাকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য। তাই রুহান, রুবাবা এবং নতুন প্রজন্ম তাঁর আদর্শকে ধারণ করে এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে।
রুহান মানুষের বিপুল সাড়া পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়। রুবাবা তাঁর পাশে থাকে সব সময়। রুহান তাঁকে ভালোবাসতেও শুরু করে। আসলে এতদিন একসাথে কাজ করতে করতে কখন যে সে রুবাবাকে ভালোবেসে ফেলেছে, নিজেও টের পায়নি।
তাঁরা দুজনে একদিন একটি স্কুলে যায়, যেখানে শিশুরা ভার্চুয়াল রিয়ালিটিতে ইতিহাস, বিজ্ঞান এবং নৈতিকতা শিখছে। এক শিশু তাকে প্রশ্ন করে, ‘স্যার, আপনি কি সেই রুহান, যিনি একদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণীর ডাক শুনে দেশ বদলে দিয়েছিলেন?’
রুবাবার দিকে তাকিয়ে রুহান হাসে। তারপর মাথায় হাত রাখে শিশুটির। বলে, ‘তুমি যদি সত্যের পথে থাকো, একদিন তোমার ডাকেও কেউ সাড়া দেবে। আর যদি অন্যকে ঠকানোর জন্য কাজ করো, তাহলে তুমিও একদিন ঠকে যাবে। সব সময় মনে রাখবে—যদি তুমি খাও, তাহলে তোমার বন্ধুও যাতে খেতে পারে। আর সে যদি অভুক্ত থাকে, তাহলে তুমি তার দুঃখ ভাগ করে নেবে। অন্যকে ঠকিয়ে নিজের পেট ভরাটাকে দেশপ্রেম বলে না। দেশপ্রেম হলো সবাইকে নিয়ে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা।’
পেছনে দাঁড়িয়েছিল ইরফান ও বৃষ্টি। রুহানের কথা শুনে তাদের দুচোখের জল গড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ইরফান জানে রুহান তার ভাই, কিন্তু কখনো তা প্রকাশ করে না। আর ক্ষমতার ভাগও সে পেতে চায় না। সে চায়, এই দেশটা শান্তিময় হোক। যে যোগ্য মানুষ, শুধু সেই যেন মানুষের কল্যাণে যোগ্য স্থানে নিজেকে প্রকাশ করে।
দীর্ঘদিন পর আরাধ, তাসফিয়া, নাহার গুহা থেকে বের হয়। তারা দেখে, দেশে শান্তির এক সুবাতাস বইছে। হাঁটতে হাঁটতে ইমতিয়াজ ও অনন্যার সাথে দেখা হয়। আরাধ প্রশ্ন করে, ‘এই দেশ এত উন্নত হলো কী করে? চারদিকে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিল কে?’
ইমতিয়াজ অনন্যার দিকে তাকিয়ে সুন্দর হাসি হাসে। তারপর উত্তর দেয়, ‘আমাদের মহান নেতা রুহান। যে কি না প্রত্যেকটি দলের অংশগ্রহণে এই দেশটাকে শান্তির আবাস হিসেবে গড়ে তুলেছে।’
একদিন একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে রুহান রুবাবাকে সঙ্গে নিয়ে জেনেভা যায়। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি কীভাবে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত, বিভক্ত জাতিকে এত দ্রুত উন্নয়নের পথে আনতে পারলেন?’
রুহান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে, ‘আমি তো কিছুই করিনি। আমি শুধু সেই চেতনার উত্তরাধিকার বহন করেছি, যা আমার বাবা-মা, আমার শিক্ষক, আমাদের বিজ্ঞানী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরিন তাসনিম এবং এক স্বপ্নময় তরুণী আমাকে দিয়েছিলেন।’
রুবাবা তার পাশে দাঁড়িয়ে। হঠাৎ তার চোখে এক অদ্ভুত আলো জ্বলে ওঠে। রুহান বুঝতে পারে, রুবাবার সময় শেষ হয়ে এসেছে।
সে ধীরে ধীরে বলে, ‘আমার প্রোগ্রাম শেষ। আমার কাজ শেষ। এখন তোমাদেরই এগিয়ে যেতে হবে।’ কথাগুলো বলতে বলতে রুবাবা ধীরে ধীরে প্রচণ্ড আলোয় বিলীন হয়ে যায়। রুহানের দুচোখে অশ্রু, কিন্তু সে তা কাউকে দেখাতে পারে না।
তার শেষ কথাগুলো বাতাসে ভেসে আসে, ‘যদি তোমরা সত্যের পথে থাকো, আমি আবার ফিরে আসব, নতুন রূপে, নতুন চেতনায়।’
রুহান চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকে। তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুরা বলে, ‘আমরা তৈরি, স্যার। এবার আমাদের পালা।’
রুহান দেশে ফিরে আসে। তারপর সে রাতের প্রার্থনায় বসে। সারারাত জেগে থাকে। তার ঘুম আসে না। ঠিক ফজরের নামাজের পরই তার ঘুম আসল। ঘুমিয়ে পড়ল সে। সকালে ইরফান ও বৃষ্টি তাকে ঘুম থেকে ওঠালেন। নাস্তা খেতে ডাইনিংয়ে ডাকলেন। ডাইনিংয়ে গিয়েই তার দুচোখ বিস্ফোরিত হয়ে উঠল—এ কী! রুবাবা, তুমি?
সে হাসল, তারপর মিটিমিটি চোখে উত্তর দিল, ‘আমার প্রোগ্রাম আবার পরিপূর্ণ হয়েছে। এবার তোমার জন্যেই আমি ফিরে এসেছি পৃথিবীকে আলোকিত করতে।’
ঠিক সেই সময় দরজায় কলিংবেলের আওয়াজ। ইরফান দরজা খোলে, তারপর বিস্ময় বোধ করে। বাইরে দাঁড়িয়ে আছে তুষার ও লায়লা, একে অপরের হাত ধরে। ইরফানকে দেখেই তুষার কবিতা আবৃত্তি শুরু করে আর লায়লা রেডিও জকির মতো বলতে শুরু করে, ‘আমরা অন্য এক বাংলাদেশের সূচনায় প্রবেশ করেছি, যেখানে আমাদের সঙ্গী রুহানই প্রধানমন্ত্রী। এখন আর আমাদের নিঃশব্দে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা মন খুলে কথা বলতে পারব, গাইতে পারব, কবিতা আবৃত্তি করতে পারব। কেউ আর আমাদের বাধা দেবে না।’
ইরফানের চোখে আর আনন্দ ধরে না। তার ভূমিকা সার্থক হয়েছে। সব বিপ্লবীর প্রচেষ্টা সার্থক হয়েছে। খুশিতে সে তুষার ও লায়লাকে জড়িয়ে ধরল। সবার চোখে আনন্দের অশ্রু।
রুবাবা এ সময় রুহানের হাত ধরে, তারপর বলে, ‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমি আছি তোমার সাথে।’
রুহান রুবাবার দিকে তাকায়। তার চোখ থেকে আগের মতোই জ্যোতি বের হচ্ছে। গায়ের রংটা আরও গাঢ় সোনালি হয়েছে। সে তার হাতে চুমু দিয়ে বলে, ‘তুমি কাছে থাকলে আমি শক্তি পাই। তুমি না থাকলে আমি অন্ধকারে ডুবে যাই।’
রুবাবা রুহানকে জড়িয়ে ধরে বলে, ‘আমি আছি তোমার পাশে, হৃদয়ের গহীনে। তোমার নিঃশ্বাসই আমার বেঁচে থাকা।’
বাইরে হাজার মানুষের কোলাহল একসাথে—‘নতুন বাংলাদেশ, আমরাই গড়ব। আমরা কথা বলব, কাজ করব, সাজিয়ে তুলব।’
এসব কোলাহল দেখে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা জামশেদ পালিয়ে যায়, আর ভাবতে থাকে—বাঙালিরা একজোট হয়েছে, তাদের আর পথভ্রষ্ট করার সুযোগ নেই। সে দৌড়াতে থাকে। ঠিক সে সময়ই সামনে হাজির হয় ইরফান ও তুষার।
জামশেদ প্রশ্ন করে, ‘তোমরা কোথা থেকে এসেছ?’
‘আমরা গবেষণায় ছিলাম,’ উত্তর দিল ইরফান।
জামশেদের শরীরে ভয়ের কাঁপুনি, চোখ দুটি বেরিয়ে আসছে যেন।
তুষার বলল, ‘তুমিই সেই ব্যক্তি?’
‘হ্যাঁ, আমি জামশেদ,’ ভয়ার্ত কণ্ঠে উত্তর দেয় সে। ‘তোমরা তাহলে চিনে ফেলেছ আমাকে?’
‘আমাদের গবেষণা বলেছে, তুমি সিরিয়াল কিলার। একে একে আমাদের সব সহপাঠীকে খুন করেছিলে শাসকগোষ্ঠীর ইশারায়, আমাদেরকে ভয় পাইয়ে দিতে—বিপ্লবের পথ থেকে সরিয়ে দিতে,’ ইরফান নির্ভীকভাবে জামশেদের ভয়ার্ত চোখের দিকে তাকিয়ে বলে।
ঠিক সেই সময় সেখানে হাজির হয় আরাধ ও নাহার। ইরফানের কথাগুলো শোনামাত্রই জামশেদ কিছু না বলেই একটা দৌড় দেয়। আরাধ ও নাহার জামশেদের পেছন পেছন দৌড়ায়। এ সময় ইরফান ও তুষার দ্রুত এসে জামশেদকে জাপটে ধরে জনতার সামনে ছেড়ে দেয়। তারপর ইরফান সবার সামনে উচ্চারণ করে, ‘এই সেই খুনি, যে আমাদের অনেক সহপাঠীকে হত্যা করত প্রতিদিন রাতের আঁধারে আর দোষ চাপাত আমাদের ঘাড়ে।’
কথাগুলো শুনে আরাধ ও নাহার অবাক হয়। এত বছর ধরে তারা এই হত্যাকাণ্ডের কোনো কূলকিনারা খুঁজে পায়নি। আজ সেই ঘাতক তাদেরই সামনে!
জামশেদ কিছু একটা বলতে চায়, কিন্তু আরাধ এসে তার মুখটি বেঁধে ফেলে, যাতে নিঃশব্দের শহরে সে কোনো কথা উচ্চারণ না করতে পারে। তাদেরকে ষোলোটি বছর যাবত এই পাষণ্ডবাহিনী নির্বাক করে রেখেছিল, আজ মৃত্যুর আগে সেও যেন নির্বাকই থাকে। তাকে কথা বলতে দেওয়া হবে না।
রফান জামশেদকে ধরে মাথায় তোলে। তারপর মাথা থেকে নামিয়ে একটা আছাড় দেয়। চারদিক থেকে জনতা ছুটে আসে। তারপর তারা জামশেদকে মারতে থাকে নির্দয়ভাবে। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে জামশেদ নিস্তেজ হয়ে যায়। তার চোখ দুটি শূন্যের দিকে তাকিয়ে থাকে। একটি মাছি এসে বসে তার চোখে, কিন্তু তাকে তাড়ানোর ক্ষমতাও তার এখন আর অবশিষ্ট নেই!
সে পড়ে থাকে রাস্তার পাশে। জনতা আস্তে আস্তে যার যার স্থানে চলে যায়।(চলবে)






