রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:২০

সাহিত্য একাডেমি চাঁদপুরের গৌরবগাথা

উজ্জ্বল হোসাইন
সাহিত্য একাডেমি চাঁদপুরের গৌরবগাথা

চাঁদপুর শহরের জোড়পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সাহিত্য একাডেমির নিজস্ব ভবনটি যেন শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি চার দশকের সাহিত্য-সংস্কৃতির এক জীবন্ত ইতিহাস। ১৯৮৬ সালের ৬ জুলাই যাত্রা শুরু করা এ প্রতিষ্ঠানটি আজ অসংখ্য কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, আবৃত্তিশিল্পী, সংগঠক ও সংস্কৃতিকর্মীর স্বপ্নের ঠিকানা। চার দশকের পথচলায় সাহিত্য একাডেমি শুধু বইপাঠ কিংবা সাহিত্যচর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং একটি আলোকিত সমাজ গঠনের আন্দোলনে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছে।

৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন যেন সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসেরই নতুন অধ্যায়। মেডিকেল ক্যাম্প, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ, বইপাঠ, রচনা, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, দেয়ালিকা প্রকাশ, শোভাযাত্রা, লেখালেখি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা, নজরুলের চাঁদপুর আগমন দিবসের আলোচনা এবং প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়াÑপ্রতিটি আয়োজন সাহিত্যকে মানুষের জীবনের সঙ্গে এক সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।

এই প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মানুষ। প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য থেকে শুরু করে বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদ, সাধারণ সদস্য, নবীন লেখক, প্রবীণ সাহিত্যিক—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজও সাহিত্য একাডেমি প্রাণবন্ত। অনেকেই ব্যক্তিগত ব্যস্ততা ভুলে প্রতিদিন সময় দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে। সেই নিবেদনই চার দশক পরও একাডেমিকে করে রেখেছে সজীব ও কর্মমুখর।

একসময় যে মিলনায়তনে নবীন কবিরা কাঁপা কণ্ঠে প্রথম কবিতা পাঠ করেছিলেন, আজ সেখান থেকেই বেরিয়ে এসেছেন প্রতিষ্ঠিত লেখক ও গবেষক। অসংখ্য সাহিত্যসভা, কর্মশালা, প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের স্মৃতি আজও ভবনের প্রতিটি ইট-পাথরে যেন কথা বলে। এ একাডেমি শুধু প্রতিভার জন্ম দেয়নি, সৃষ্টি করেছে মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ এবং সাহিত্যানুরাগী একটি প্রজন্ম।

এবারের আয়োজনের বিশেষ দিক ছিলোÑকর্মসূচি শুধু একাডেমির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাঠাগারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে সাহিত্যচর্চা আরও গণমুখী হয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বেড়েছে।

১১ জুলাই সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়েছে ১০ দিনের উৎসব। তবে শেষ হবে না সাহিত্য একাডেমির পথচলা। বরং নতুন স্বপ্ন, নতুন পরিকল্পনা এবং নবীন-প্রবীণের সম্মিলিত প্রয়াসে সাহিত্য একাডেমি চাঁদপুর আগামী দিনেও জেলার সাহিত্য-সংস্কৃতির অন্যতম আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে। চার দশকের এই গৌরবগাথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবেÑসাহিত্য হোক মানবিকতা, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার সবচেয়ে উজ্জ্বল ঠিকানা।

উজ্জ্বল হোসাইন : নির্বাহী সদস্য, সাহিত্য একাডেমি, চাঁদপুর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়