প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:৪২
দেবদাস কর্মকারের কবিতা

যখোন তাকে হারিয়ে ফেলি
যখোন তাকে হারিয়ে ফেলি কেমনতর হেলার টানে
বুকের মধ্যে উঠে জেগে সকল কথা
পেয়ে ছিলাম কি এমন এক জাদুর কাঠি
হারিয়ে ছিলাম অরূপ তাহার সকল গানে।
যখোন আমার হাতের মধ্যে রঙিন রুমাল
হাত উঁচিয়ে ছুড়তে পারি রোদের মাঝে
সিদকাঠিতে ঢাকতে পারি দুঃখগুলো
দেখতে পারি হন্যে হয়ে কালচে সকাল।আকাশ মাটি তন্ন করে কে করে এই ভাঙা গড়া
কাটলো যেন বহূত সময় ছা পোষা এই ঘরের মাঝে
আমন্ত্রণ আর অভিবাদন শেষ হয়েছে ক্রমাগত
জনশূন্য পথের মাঝে বিবাগী হই তোমায় ছাড়া।দেশটা জুড়ে হচ্ছেটা কি মত্ত সবাই কঠিন রণে
সারাজীবন খেলেই গেলাম অবান্তর এই কানামাছি
হঠাৎ আলোয় দেখেছিলাম তোমার মুখের সরল ছবি
কি জানি কি হঠাৎ যেন তোমায় হারাই হলুদ বনে।
৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ঢাকা, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩১, হেমন্তকাল।দূরবাসী
আমাকে জাগায় যেন দূরের আকাশ
সেই কবে গৃহত্যাগী তরুণ, বিস্মৃতির বেলায়
ধরে আছি এই বুকে সকলের কথা
ছোট ছোট হাট কালভার্ট ঝুঁকে পড়া শিমুলের গাছ,
চিন্তার রঙ ধুয়ে যায় মুছে যায় ধীরে
মুখ বুঁজে চলি তবু চারদিকে কি অমঙ্গল দাহ।অন্তরে চলে ধেয়ে না বলা কথার বুনুনি
মেঘোত্তীর্ণ সকালে কতো আলো
অ-শব্দ নিবিড়তা সবুজ ঘাসের গায়ে থেমে যায়,
সহসা আঙ্গুল তুলে বলি এই তো এসেছি আমি
তুমি কি চিনতে পারো না!
কী সুন্দর গাঢ় চোখ মুখ কতোটা ফ্যাল ফ্যালে বিস্ময়
কোন দুঃখ নেই অশ্রু নেই কোন স্বপ্ন নেই --তারধোঁয়া ওঠে ধীর লয়ে শীতের সকালে
উপরে নীলের ধূলিতে ভাসে আকাশ মণ্ডল
ইন্দ্রিয়ের চুরণ সুরে বেজে উঠে অবিরাম
দূরবাসী আমি কি নিদারুণ দুঃখ চেপে
আজও যেন খুঁজি ঘর।
২৮ নভেম্বর ২০২৪, ঢাকা, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩১।