বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৫৮

মতলব উত্তরে শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মন খারাপ

মাহবুব আলম লাভলু।।
মতলব উত্তরে শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ
মতলব উত্তরে ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উদ্বোধন করছেন ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি।

মতলব উত্তর উপজেলায় বছরের প্রথমদিনে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ শুরু করা হয়েছে। তবে সপ্তম শ্রেণির একটি বইও উপজেলায় এসে না পৌঁছানোয় খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম, ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বেনজির আহমেদ মুন্সিসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দেয়া তথ্যানুযায়ী, মতলব উত্তর উপজেলায় নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্যে মোট ৩ লাখ ১৪ হাজার ৮০৬টি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে মাত্র ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫৫টি বই। হিসাব অনুযায়ী, এখনও ঘাটতি রয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩৭টি বই, যা মোট চাহিদার মাত্র ৫৮.১৪ শতাংশ বই প্রাপ্তির সমান। এর মধ্যে শুধুমাত্র মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের চাহিদা ২ লাখ ৪৩ হাজার ২০৬টি। কিন্তু উপজেলার হাতে এসেছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬৯টি বই। ফলে মাধ্যমিকে ঘাটতি রয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৩৭টি বই, সরবরাহের হার মাত্র ৫৬ শতাংশ।

অন্যদিকে মাদরাসার দাখিল ও ইবতেদায়ী পর্যায়ে তুলনামূলকভাবে সরবরাহ ভালো হলেও এখনও ঘাটতি রয়েই গেছে। এ স্তরের জন্যে ৭১ হাজার ২০০টি বইয়ের চাহিদা থাকলেও পৌঁছেছে মাত্র ৪৭ হাজার ৩৬৬টি। এতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৮৩৪টি বই; সরবরাহের হার ৬৬.৫২ শতাংশ।

এ উপজেলায় চাহিদার তুলনায় ৪০% বই এখনও পৌঁছেনি। সপ্তম শ্রেণির কোনো বিষয়ের বই আসেনি। সপ্তম শ্রেণির কোনো বই না থাকায় ওই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা দেখা দেয়। বই না পেয়ে তারা মন খারাপ করে বাড়ি ফিরে যায়।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বলেন, সবাই বই পেল, আমরা পেলাম না। অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই যদি বই না পাওয়া যায়, শিশুদের পড়াশোনায় বিরূপ প্রভাব পড়বে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, বই বিতরণ ধাপে ধাপে চলছে। সপ্তম শ্রেণির বইগুলো দ্রুত পৌঁছাতে উচ্চ মহলে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে দ্রুত বই পৌঁছাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি। বই সংকট সহসাই শেষ হবে বলে আশা করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়