শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০৪:০০

শাহরাস্তিতে বিদেশ নেয়ার কথা বলে ৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ

মামলা করায় বাড়িঘরে হামলা ও আহত করে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

অনলাইন ডেস্ক
শাহরাস্তিতে বিদেশ নেয়ার কথা বলে ৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ

শাহরাস্তি উপজেলার পূর্ব চিতোষী ইউনিয়নের বড়তুলা গ্রামের এক পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও মামলা প্রত্যাহারের চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এর আগে বিদেশে নেয়ার কথা বলে ৭ লাখ টাকা নেয়া হয়। সেই টাকা ফেরত চাওয়ায় হামলা, ভাংচুর ও আহত হওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলন ও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী মো. ফজলে রাব্বি ও তার পরিবারের অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানোর কথা বলে স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন টিটু তার কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা নেন। পরবর্তীতে তাকে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলেও টাকা ফেরত দিতে নানা ধরনের টালবাহানা করা হয়।

তাদের দাবি, গত ২৯ মে দুপুরে টাকা ফেরতের বিষয় নিয়ে লোকমান হোসেন টিটুর সঙ্গে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আব্দুল খালেক ও জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে ৫ থেকে ৭ জনের একটি দল তাদের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ফজলে রাব্বির হাতের রগ কেটে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরাও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, লোকমান হোসেন টিটু সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী একজন দালাল, যার কারণে এর পূর্বেও সে একবার জেল খেটেছে। এছাড়া হামলাকারী আব্দুল খালেক একসময় রিকশাচালক ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলছেন। তারা এলাকায় মাটি কাটা এবং নারী ব্যবসার সাথেও জড়িত থেকে দালালি করে বেড়ান। আব্দুল খালেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সেক্রেটারি আব্দুল আজিজ মানিকের ভাই বলেও উল্লেখ করা হয়।

পরিবারটির অভিযোগ, হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো আশিক ইকবাল ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় কিছু লোকজনকে প্রভাবিত করে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

মো. আশিক ইকবাল বলেন, আমরা হামলার শিকার হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মামলা প্রত্যাহারের জন্যও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসে পাঠানোর নামে আমাদের কাছ থেকে নেয়া ৭ লাখ টাকা ফেরত, হামলার ঘটনার বিচার এবং অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একটি অসহায় পরিবারের ওপর সংঘটিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়