বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ০১:৫৬

ওয়্যারলেস বাজার এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক শফিক গাজী গং

বাজারকেন্দ্রিক লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি ও সড়কের জায়গা দখলে ব্যর্থতাই সংঘর্ষ এবং মার্কেট ও মাদ্রাসায় আগুনের নেপথ্য কারণ

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
ওয়্যারলেস বাজার এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক শফিক গাজী গং
ক্যাপশন : ছবি শফিক গাজী( বামে)ও মামুন খান (ডানে)

অবৈধ দখলমুক্ত করা সড়ক ও জনপথের জায়গা পুনরায় দখলে নিতে ব্যর্থ হয়েই শফিক গাজী, সজীব গাজী ও মামুন খান গংয়ের তাণ্ডব দেখেছে ওয়্যারলেসবাসী। শত শত মানুষ এবং পুলিশের সামনে একটি মার্কেটে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই আগুন পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসায় ছড়িয়ে পড়ে আবাসিক ছাত্রদের বেডিংপত্র এবং কোরআন-হাদীসের কিতাব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ঈদুল আজহার মাত্র চারদিন আগে গত ২৪ মে রোববার চাঁদপুর শহরের ওয়্যারলেস এলাকায় এ ঘটনা ঘটলেও ঘটনার অভিযুক্তদের এখনো আইনের আওতায় আনা যায়নি। সংঘর্ষে শফিক গাজীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বের হয়ে এসেছে ভয়াবহ চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলের তথ্য। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উচ্ছেদের আগে বাজারসংলগ্ন সরকারি জায়গা দখল করে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে ভাড়া আদায় করা হতো। এছাড়া প্রতিদিন বাজার এলাকায় বসা বিভিন্ন চটি ও মাছের আড়ত থেকেও নিয়মিত চাঁদা তোলা হতো।

স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এই পুরো অবৈধ অর্থ আদায় নিয়ন্ত্রণে নেয় শফিক গাজী, সজীব গাজী ও মামুন খান গং। পরে সওজ বিভাগের বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযানে বাজার এলাকার সব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়।

সরজমিনে দেখা গেছে, উচ্ছেদের পর সওজ কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদকৃত জায়গায় জাল দিয়ে ব্যারিকেড এবং গাছ রোপণ করে। স্থানীয়দের দাবি, গত ২৪ মে সেখানে পুনরায় দোকান ও চটি বসানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা বোরহান গাজী বাধা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের পর সন্ধ্যায় প্রায় ৫০ জনের একটি কিশোর গ্যাং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাজারের পশ্চিম পাশে থাকা ফেরদৌস গাজীর মালিকানাধীন মার্কেটে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে পাঁচটি দোকান পুড়ে যায় এবং আগুন পাশের মাদ্রাসায় ছড়িয়ে পড়ে।

মাদ্রাসার ছাত্রদের বেডিংপত্র, কোরআন শরীফ, হাদীস শরীফের কিতাবসহ বহু ধর্মীয় বই পুড়ে যায়। ঈদের ছুটিতে ছাত্ররা না থাকায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রকাশ্যে একটি মার্কেট ও মাদ্রাসায় আগুন দেওয়ার ঘটনায় শহরবাসী হতবাক হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

শফিক গাজী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য এবং মামুন খান সাবেক পৌর ছাত্রদলের নেতা বলে জানা গেছে।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়