রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৪

ফরিদগঞ্জে বিয়ে বাড়িতে তুলকালাম

বিয়ে ও তালাক নিয়ে দু পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো।।
বিয়ে ও তালাক নিয়ে দু পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ

প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে এবং গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাওয়ার মুহূর্তে প্রথম স্ত্রী ও তার লোকজন বরের বাড়িতে উপস্থিত হলে দু পক্ষের মধ্যে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও সংর্ঘষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৬/৭ জন আহত হয়। ঘটনাটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামে শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে ঘটে।

জানা গেছে, চরমথুরা গ্রামের রফিকুল ইসলাম গাজীর ছেলে মহিম উদ্দিন রুবেলের সাথে দক্ষিণ চরবড়ালি গ্রামের আবদুস ছোবহানের মেয়ে রিমা আক্তারের ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট ইসলামী শরিরাহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর রুবেল প্রবাসে চলে যান। গত কয়েক মাস পূর্বে রুবেল দেশে ফিরে আসেন এবং এক পর্যায়ে স্ত্রী রিমা আক্তারের শারীরিক অক্ষমতার কথা উল্লেখ করে গত ৩ মার্চ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তালাক দেন। এরই মধ্যে শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) রুবেলের পুনরায় বিয়ের দিন ধার্য করে তার পরিবার। এই সংবাদ পেয়ে রুবেলের প্রথম স্ত্রী রিমা আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা বর রুবেলের বাড়িতে উপস্থিত হলে দু পক্ষের মধ্যে ঝগড়ার এক র্যায়ে মারামারি বাঁধে। মারামারি এক পর্যায়ে ঘরের ভেতর থেকে বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে মারামারিতে জড়িয়ে পড়লে অন্তত ৬/৭ জন আহত হয়।

আহতের মধ্যে রিমা আক্তার, তার মা কহিনুর বেগম, ভাই সাইফুল ইসলাম, খালাতো ভাই রাব্বি ও খালা সাহিনুর বেগম রয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত সাইফুল ইসলামকে প্রথমে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা রেফার করা হয়। এছাড়া রুবেলের পরিবারের ক'জন আহত হয়।

রিমা আক্তার জানান, রুবেল ৪/৫ মাস পূর্বে দেশে ফিরে আমাকে তদের বাড়ি নিয়ে আসে। ক'দিন পর গত তিনমাস পূর্বে আমাকে বাবার বাড়িতে রেখে এসে আর খোঁজ খবর নেয়নি। শুনেছি সে আমাকে কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিয়েছে, যা সঠিক নয়। আজ (শনিবার ) সে আমাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্যে প্রস্তুতি নেয়। এ খবর শুনে আমি আমার ও পরিবারের সদস্যরা রুবেলের বাড়িতে আসলে তারা আমাদের ওপর হামলা করে। আমাদের বেশ ক'জনকে বেদম পিটিয়ে আহত করেছে। অন্যদিকে মহিম উদ্দিন রুবেল জানান, রিমা শারীরিকভাবে অক্ষম। তাই আমি গত ৩ মার্চ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তাকে তালাক দিয়েছি। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) আমি আবার বিয়ে করতে রওনা হওয়ার মুহূর্তে আমাদের বাড়িতে তারা প্রবেশ করে হামলা করে। আমাদের পরিবারের ক'জন সদস্য আহত হয়।

এদিকে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্যে অনুরোধ করে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়