প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৩০
রংপুরের চক্রবর্তী পরিবারের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ সারাদেশে চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল। মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে বক্তারা বলেছেন, একটি পরিবারকে এভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
|আরো খবর
শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) বিকেল ৪টা থেকে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে সম্মিলিত সনাতনী ঐক্য জোট, কুমিল্লা-এর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী পুত্র প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী কন্যা আগামী চক্রবর্তীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান হামলা, নির্যাতন ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, মানুষের পরিচয় ধর্ম দিয়ে নয়, মানবতা দিয়ে। অথচ বারবার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নিরীহ মানুষকে হত্যা, নির্যাতন ও আতঙ্কের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ, একজন শিক্ষকের সারাজীবনের অর্জন—এক মুহূর্তের বর্বরতায় সবকিছু নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। এমন নির্মমতা একটি সভ্য সমাজের জন্য গভীর লজ্জার।
তারা আরও বলেন, রংপুরের চক্রবর্তী পরিবারের হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা অন্য কোনো পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
কর্মসূচিতে অংশ নেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার ও কুমিল্লা শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক শ্রী শ্যামল কৃষ্ণ সাহা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমল চন্দ খোকন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি অচিন্ত্য দাশ টিটু, সহ-সভাপতি দীলিপ কুমার নাগ কানাই, কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি দিলীপ মজুমদার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্য সচিব সঞ্জিত দেবনাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক উত্তম সরকার, কুমিল্লা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক পিংকু চন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী তপু, রামনবমী উদযাপন পরিষদ কুমিল্লার সভাপতি কিশোর দাস, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশীষ দাস এবং বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দে প্রমুখ।
এছাড়াও কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কুমিল্লা জেলা শাখার সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক এবং সিপিবি নেতা শেখ আঃ মান্নান।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মধুসূদন বিশ্বাস।
মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রাজপথে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার কোনো সম্প্রদায়ের দয়া নয়—এটি প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও ঘোষণা দেন তারা।
মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে কুমিল্লা নগরীর রাজপথ। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল পূবালী চত্বর থেকে বের হয়ে মনোহরপুর ও রাজগঞ্জ হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পূবালী চত্বরে এসে শেষ হয়।
মিছিলজুড়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধ, হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ, চোখে ছিল স্বজন হারানোর বেদনা আর হৃদয়ে ছিল একটি নিরাপদ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রত্যাশা।







