রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ২১:১৬

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ঘিরে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা

ফরিদগঞ্জে বিএনপি ও স্বতন্ত্র এমপি গ্রুপের পাল্টাপাল্টি মামলা

স্টাফ রিপোর্টার

ফরিদগঞ্জে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের সময়ে বিএনপির মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং জাতীয় নির্বাচনের রেশ ধরে ধানের শীষের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, হামলা ও ভাংচুরের ঘটনার পর পরিস্থিতি পাল্টাপাল্টি মামলায় রূপ নিলো।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে গত ৩১ মে ২০২৬ (রোববার) বিকেলে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত স্বতন্ত্র এমপি এমএ হান্নানের সমর্থক ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবদল নেতা মেহেদি হাসান রনি বাদী হয়ে ধানের শীষ প্রার্থীর সমর্থক বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাজু পাটওয়ারীকে প্রধান আসামী করে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা (নং -৩। তাং- ২জুন ২০২৬, ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯) দায়ের করেন।

অন্যদিকে হামলার ঘটনার পর বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাজু পাটওয়ারীর বাড়িতে স্বতন্ত্র এমপির সমর্থকরা হামলা ও ভাংচুর চালানোর অভিযোগ করে রাজু পাটওয়ারীর পিতা আবুল খায়ের পাটওয়ারী বাদী হয়ে পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি ইমাম হোসেন পাটওয়ারীকে প্রধান আসামী করে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা (নং -৪। তাং-৩জুন ২০২৬, ধারা ১৪৩/৩২৩/৩২৭/৩৭৯/৪২৭/৪৪৭/৪৪৮/৫০৬(২) দায়ের করেন। এর মধ্য দিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরো প্রকাশ্য রূপ পেলো। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা সচেতন মহলের।

ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগকে আমলে নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক'জন রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তি বলেন, ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে ফরিদগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন কখনো সুন্দর ছিলো না। বিরোধী দলকে রেখে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিলো। সে সময় ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা ও দু গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার পর যেমন পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে, তেমনি শহীদ জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকীর অনুষ্ঠান ঘিরে ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থক ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েও স্বতন্ত্র এমপি নির্বাচিত হওয়া এমএ হান্নানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি মামলা পর্যন্ত গড়ালো। এসব কারণে ফরিদগঞ্জ উপজেলা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি লায়ন মো. হারুনুর রশিদ। অন্যদিকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এমএ হান্নান দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। একপর্যায়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে শুরু হওয়া দু পক্ষের সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে এবং রক্ত ঝরছে। বর্তমানে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কোনো কমিটিও নেই।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়