সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ২২:২৭

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৮১

ইউনিয়নের যুবসমাজের কর্মসংস্থানই হবে আমার প্রথম অগ্রাধিকার

-------নজরুল ইসলাম (বাবলু)

অনলাইন ডেস্ক
ইউনিয়নের যুবসমাজের কর্মসংস্থানই হবে আমার প্রথম অগ্রাধিকার

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন নজরুল ইসলাম (বাবলু)। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি এলাকায় একজন নম্র, ভদ্র ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন।

নজরুল ইসলাম (বাবলু) চাঁদপুর সদর উপজেলার লোদেরগাঁও গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা আব্দুল কাদের আনসারী এবং মাতা রশিদা বেগম।

১৯৯০ সালে ছাত্রজীবনেই তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ৪নং শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি এই সম্ভাব্য প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়, নির্বাচনী ভাবনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনগণের প্রতি অঙ্গীকার নিয়ে তাঁর মুখোমুখি হয়েছেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিনিধি জসীমউদ্দীন (হৃদয়)।

চাঁদপুর কণ্ঠ : কোন্ পরিচয়, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আপনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান? আপনার মূল লক্ষ্য ও স্বপ্ন কী?

নজরুল ইসলাম (বাবলু) : ১৯৯০ সালে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমেই আমার পথচলা শুরু। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছি। দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সর্বদা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি।

রাজনৈতিক পরিচয়ের দিক থেকে আমি চাঁদপুর জেলা যুবদলের সাবেক শিল্প বিষয়ক সম্পাদক, সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি, ৪নং শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি এবং অবিভক্ত ঢাকা মহানগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে আমি চাঁদপুর জেলা যুবদলের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক, চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ৪নং শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছি।

আমার মূল লক্ষ্য একটি উন্নত, আধুনিক, শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন ইউনিয়ন গড়ে তোলা। নির্বাচিত হলে প্রথমেই যুবসমাজের কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করবো। কারণ বেকারত্ব দূর করা গেলে যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সহজ হবে। আমি চাই, এই ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ যেন সম্মান ও নিজস্ব অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারেন।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি দলীয় সমর্থনে নির্বাচন করতে চান, নাকি নির্দলীয়ভাবে অংশ নেওয়ায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন?

নজরুল ইসলাম (বাবলু) : আমি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। রাজনৈতিক কারণে বহু মামলা, কারাবরণ ও হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। বিশেষ করে চাঁদপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ভাই রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময়ে ও মামলা-মোকদ্দমায় আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন; তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, দল যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে, আমি দলীয় ঐক্য বজায় রেখে তাঁর পক্ষেই কাজ করবো। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমার কাছে দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্য সবার আগে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী এবং তা সমাধানে আপনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী?

নজরুল ইসলাম (বাবলু) : আমার দৃষ্টিতে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের প্রধান সমস্যাগুলো হলো—বেকারত্ব, মাদকের বিস্তার, অপরিকল্পিত বাজারব্যবস্থা এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ও নাগরিক সুবিধার ঘাটতি।

নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। একই সাথে মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, নারী নির্যাতন ও কিশোর গ্যাং কালচারের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

মহামায়া বাজার ও শাহতলী এলাকার অব্যবস্থাপনা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা ও সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচল নিশ্চিত করবো। এছাড়া ইউনিয়নের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সোলার লাইট স্থাপনসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নত যোগাযোগের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত উন্নয়ন উপহার দেওয়াই আমার স্বপ্ন।

চাঁদপুর কণ্ঠ : স্বচ্ছতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সরকারি সেবার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আপনি কী পদক্ষেপ নেবেন?

নজরুল ইসলাম (বাবলু) : ইউনিয়ন পরিষদ সর্বসাধারণের প্রতিষ্ঠান। এখানে কোনো ধরনের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা বৈষম্যের স্থান থাকবে না।

আমি নির্বাচিত হলে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সহায়তা দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কেবল প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের মাঝে বন্টন নিশ্চিত করবো। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে সেবা নিতে এসে কোনো হয়রানির শিকার হতে না হয়।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচিত না হলেও কি সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন? যোগাযোগ কীভাবে বজায় রাখবেন?

নজরুল ইসলাম (বাবলু) : অবশ্যই। মানুষের সেবা করার জন্য নির্দিষ্ট পদ-পদবির প্রয়োজন হয় না। দীর্ঘদিন ধরেই আমি এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে আছি।

নির্বাচনী ফলাফলের ঊর্ধ্বে উঠে আমি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবো। ইউনিয়নের মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। এই আত্মিক সম্পর্ক কোনো

নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়।

চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় ভোটাররা কেন আপনাকেই নির্বাচিত করবেন?

নজরুল ইসলাম (বাবলু) : আমি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে ছোট করে দেখতে চাই না; সবারই নিজস্ব যোগ্যতা ও সম্মান রয়েছে। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে আমি সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও মানুষের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ছিলাম।

আমি প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দেওয়ার চেয়ে বাস্তবভিত্তিক কাজের ওপর বিশ্বাস করি। বিশেষ করে যুবকর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন যোগাযোগ ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য। ভোটারদের অনুরোধ করবো—আপনারা প্রার্থীদের সততা, যোগ্যতা ও ত্যাগের মূল্যায়ন করেই সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

চাঁদপুর কণ্ঠ : ইউনিয়নের জনগণের উদ্দেশে আপনার শেষ কিছু বলার আছে কি?

নজরুল ইসলাম (বাবলু) : আমার রাজনীতি শুধু মানুষের কল্যাণের জন্য, ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়। বিগত ১৭ বছরে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে আমি চারবার কারাবরণ করেছি, ব্যবসায়িক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবুও রাজপথ ও জনগণের অধিকারের আন্দোলন থেকে কখনো পিছপা হইনি। আমি ৪নং শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ, সুশাসিত ও আধুনিক ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই।

আমার অঙ্গীকার একটাই—"সবার আগে মানুষ, সবার জন্য সুষম উন্নয়ন।"

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়