শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১৩

ইব্রাহিমপুরে ৪০০ একর কৃষিজমি দখল করে ৫০টি ঝিল : এমপির নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান

ভূমিহীনদের জমি বন্দোবস্ত ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্যোগের আশ্বাস

চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম।।
ভূমিহীনদের জমি বন্দোবস্ত ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্যোগের আশ্বাস

চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ একর কৃষিজমি দখল করে মাছ চাষের নামে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইউনিয়নের মুখদ্দি ও তালতলী এলাকায় চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে একটি ভেকু (খননযন্ত্র) জব্দ করা হয় এবং ঝিলে চাষ করা মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাটিতে একটি প্রভাবশালী চক্র ৪০ থেকে ৫০টি ঝিল তৈরি করে সাধারণ মানুষের পৈতৃক সম্পত্তিসহ সরকারি কৃষিজমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল। এসব জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী জমির মালিকেরা এতে বাধা দিতে গেলে তাদের হুমকি-ধমকি ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

ভুক্তভোগী জমির মালিক মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী বলেন, "এসব জমিতে আমাদের পূর্বপুরুষেরা বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলাতেন। কিন্তু ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একটি চক্র জোরপূর্বক জমি দখল করে মাটি কেটে বিক্রি করেছে।"

অপর জমির মালিক ইদ্রিস আলী জানান, মুখদ্দি এলাকায় তার পৈতৃক ২২ একর জমি রয়েছে। সেখানে অবৈধভাবে মাটি কাটায় বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা ও মারধর করা হয়।

অভিযান শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, "নদীর ওপার থেকে একটি কুচক্রী মহল এসে আবাদী ও সরকারি খাসজমিতে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। প্রশাসনের অভিযানের পর তারা আবারও একই কাজে লিপ্ত হয়। এভাবে চলতে থাকলে কৃষিজমি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।"

তিনি আরও বলেন, "আইন ও সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে এলাকার ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে এই এলাকায় একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।"

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা জানান, প্রায় ৪০০ একর জমিতে একটি অবৈধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে পুকুর খনন করছিল। এর আগে অন্তত ৪০ বার অভিযান চালিয়ে ভেকু বিকল বা ধ্বংস করা হলেও তারা থামেনি। এলাকাটি দুর্গম ও নদী উত্তাল থাকায় সেখানে বারবার অভিযান পরিচালনা করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।

ইউএনও আরও জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৩টি মামলা করা হয়েছে, যাতে ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙখলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানকালে অন্যান্যের মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম, জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, যুবদলের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়