শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৩৭

এনটিআরসিএ'র সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাণ্ড!

ছয় মাস পরে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ॥ প্রতিবাদে শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো।।
ছয় মাস পরে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ॥ প্রতিবাদে শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর সুপারিশে যোগদানের পর থেকেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত। কোনো আনুষ্ঠানিক ছুটি বা অনুমোদন ছাড়া টানা প্রায় ছয় মাস পর হঠাৎ মাদ্রাসায় হাজির হয়ে হাজিরা খাতায় সই করলেন শিক্ষক। এতে বিক্ষুব্ধ অন্য শিক্ষকরা তাৎক্ষণিক ক্লাস বর্জন করলেন। ঘটনাটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার কড়ৈতলী কেএ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায়। এই মাদ্রাসার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের প্রভাষক মো. আরিফুজ্জামানের কাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সহকর্মীরা।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি রংপুরের মো. আরিফুজ্জামান কড়ৈতলী মাদ্রাসায় আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক পদে যোগ দেন। যোগদানের পর রমজানের ৪০ দিনের ছুটি শেষে গত ৪ ও ৫ এপ্রিল মাত্র দুদিন তিনি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হন। এরপর কোনো লিখিত আবেদন বা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই কর্মস্থল থেকে হঠাৎ তিনি উধাও হয়ে যান। এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোনও তাকে পাওয়া যায়নি।

টানা অনুপস্থিতির কারণে গত ১৬ জুলাই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম ওই শিক্ষকের স্থায়ী ঠিকানায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠান। ২২ জুলাই পাঠানো জবাবে তিনি গুরুতর অসুস্থ থাকায় প্রতিষ্ঠানে আসতে পারেননি বলে জানান।

কিন্তু কোনো ছুটি মঞ্জুর না হওয়া সত্ত্বেও ১ অক্টোবর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) হঠাৎ মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন আরিফুজ্জামান। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়। শিক্ষকেরা তাৎক্ষণিক ক্লাস বর্জন করে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জানান।

পরে উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে ওই প্রভাষকের দেয়া স্বাক্ষর বাতিল করেন। সেই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নিশ্চয়তা দেন।

এ ব্যাপারে প্রভাষক মো. আরিফুজ্জামান বলেন, যোগদানের পরই আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি। চিকিৎসকের পরামর্শে ছয় মাস পূর্ণ বিশ্রামে ছিলাম। সুস্থ হয়ে আজ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছি। কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা মেনে নেবো।

কড়ৈতলী কেএ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রবিধান অমান্য করে একটানা প্রায় ছয় মাস অনুপস্থিত ছিলেন। আজ হঠাৎ এসে হাজিরা খাতায় সই করায় শিক্ষকেরা ক্লাস বর্জন করেন। পরে তার সই বাতিল করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জানান, বিষয়টি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম আমাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অবগত করেছেন। আমি অফিসিয়াল কাজে অফিসের বাইরে থাকায় আগামী রোববার সকালে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক জানান, কোনো শিক্ষক নিয়মবহির্ভূতভাবে দীর্ঘ দিন অনুপস্থিত থেকে হঠাৎ এসে হাজিরা খাতায় সই করতে পারেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়