প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২৬
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে লাশ হলো মতলবের জামাল হোসেন
দেশে এনে দাফন ও ক্ষতিপূরণের দাবি পরিবারের

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাই কান্দি গ্রামের মো. জামাল হোসেন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার পরিচালিত দোকানের এক কর্মচারীও গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে আহত কর্মচারী দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
|আরো খবর
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকা নির্বাহের আশায় প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে মো. জামাল হোসেন দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। সেখানে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে একটি ভ্যারাইটি সুপারশপ প্রতিষ্ঠা করেন। একজন কর্মচারী রেখে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দোকানটি পরিচালনা করে আসছিলেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী একদল সন্ত্রাসী তার দোকানে হামলা চালিয়ে গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই মো. জামাল হোসেন নিহত হন। একই ঘটনায় দোকানে থাকা এক কর্মচারী গুরুতর আহত হন।
নিহত জামাল হোসেনের পরিবারে রয়েছেন তার বাবা মো. ছিডু মিয়া বেপারী, মা খুকুমণি, স্ত্রী মাজেদা বেগম, তিন সন্তানসহ তিন ভাই ও এক বোন। তার সন্তানদের মধ্যে ছেলে বায়েজিদের বয়স ৮ বছর, মেয়ে সিনথিয়ার বয়স ৩ বছর এবং ছোট মেয়ে সামিরা আক্তারের বয়স ২ বছর।
জামাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সন্তানদের মাথার ওপর থেকে বাবার ছায়া সরে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সিপাই কান্দি গ্রামের বাড়ির পরিবেশ। পুরো বাড়িতে বিরাজ করছে শোক ও নিস্তব্ধতা।
নিহতের বাবা মো. ছিডু মিয়া বেপারী বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের কাছে তার ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মরদেহ দেশে এনে নিজ গ্রামের বাড়ি সিপাই কান্দিতে দাফনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি নিহতের পরিবার যাতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দাফনসহ আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও প্রাপ্য অন্যান্য সুবিধা পায়, সে বিষয়েও তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
নিহতের বাবা আরও বলেন, তার ছেলের মৃত্যুর কারণে পরিবারটি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ছোট ছোট সন্তানরা চিরতরে বাবার আদর, স্নেহ ও ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হলো। সন্তানদের মুখে ‘বাবা’ ডাকও আর কোনোদিন শুনতে পারবেন না জামাল হোসেন।
এদিকে, জামাল হোসেনকে হত্যার ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রচলিত আইনে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
মরহুম মো. জামাল হোসেনের মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী।








