প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫২
স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৫৯
জনগণের পাশে থেকে নারী উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে চান আয়েশা

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬নং মৈশাদী ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থী আয়েশা। জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে নারীর ক্ষমতায়ন, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি এ পদে নির্বাচিত হতে সকলের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করেছেন।
|আরো খবর
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কেনো সদস্য (মেম্বার) পদে নির্বাচন করতে চান? আপনার পরিচিতি সম্পর্কে একটু বলুন।
আয়েশা : আমার নাম আয়েশা। আমি চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬নং মৈশাদী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।জনগণের সেবা করার প্রত্যয় থেকেই এবার নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। বিশেষ করে একজন নারী হিসেবে এলাকার নারীদের উন্নয়ন, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে কাজ করতে চাই। তবে শুধু নারীদের জন্যে নয়—আমার দরজা নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও বয়োজ্যেষ্ঠসহ সমাজের সব মানুষের জন্যে সবসময় উন্মুক্ত থাকবে। সরকারি সেবাগুলো যাতে সাধারণ মানুষ সহজে ও হয়রানিমুক্তভাবে পেতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই হবে আমার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আপনারা জানেন, আমি মো. সাত্তার খানের সহধর্মিণী। আমাদের বাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচিত হলে আপনার ওয়ার্ডের জন্যে প্রথম তিনটি অগ্রাধিকারমূলক কাজ কী হবে?
আয়েশা : আমার প্রথম অগ্রাধিকার হবে নারীদের উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করা। প্রশিক্ষণ, সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করার উদ্যোগ নেবো।
দ্বিতীয়ত, ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষের জন্যে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবো।
তৃতীয়ত, মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিংসহ সমাজের ক্ষতিকর ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে শক্ত অবস্থান নিয়ে একটি নিরাপদ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করবো।চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী এবং তা সমাধানে আপনার পরিকল্পনা কী?
আয়েশা: আমার এলাকার অন্যতম বড় সমস্যা হলো অনেক মানুষের স্বনির্ভরতার অভাব। নির্বাচিত হলে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে মানুষকে সম্পৃক্ত করে তাদের আত্মনির্ভরশীল করার উদ্যোগ নেবো। পাশাপাশি রাস্তাঘাটসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দের সঠিক ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেবো।
শিক্ষার পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও তরুণদের সুস্থ বিনোদন এবং খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। তাই ওয়ার্ডে একটি খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়াকে আমি বিশেষ গুরুত্ব দেবো।
চাঁদপুর কণ্ঠ : ভোটাররা কেনো অন্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে আপনাকেই ভোট দেবেন বলে আপনি মনে করেন?
আয়েশা : আমি কোনো বড় প্রতিশ্রুতির কথা বলে মানুষের মন জয় করতে চাই না। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের পাশে থাকার যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, সেটিই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়।
আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছি, তাদের প্রয়োজনে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। নির্বাচিত হলে এই সেবার পরিধি আরও বাড়াতে চাই।
আমি বিশ্বাস করি, জনগণ এমন একজন প্রতিনিধিকে বেছে নেবেন, যিনি নির্বাচনের সময় নয়, পাঁচটি বছরই মানুষের পাশে থাকবেন। আমি নির্বাচিত হলে শুধু একটি পদ অলংকৃত করতে চাই না; জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চাই। মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ও দোয়াই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরের চারটি প্রশ্নের বাইরে আপনার আর কোনো বক্তব্য থাকলে উল্লেখ করতে পারেন।
আয়েশা : আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমার ওয়ার্ডের জনগণ আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করার সুযোগ দেবেন। নির্বাচিত হলে জনগণের সুবিধা, অধিকার ও এলাকার উন্নয়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করবো।
আমি চাই, আমাদের ওয়ার্ড হবে একটি সুন্দর, নিরাপদ, উন্নত ও স্বনির্ভর ওয়ার্ড—যেখানে নারী-পুরুষ সবাই সমানভাবে সরকারি সেবা ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তরুণরা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখবে এবং সাধারণ মানুষ তাদের জনপ্রতিনিধির কাছে সহজেই যেতে পারবে। সবশেষে আমার ওয়ার্ডের সম্মানিত ভোটারদের কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করছি। আপনাদের একটি ভোট আমাকে শুধু নির্বাচিত করবে না, জনগণের সেবা করার একটি বড় দায়িত্বও দেবে।







