প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:১৭
স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৫১
জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতেই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চাই

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে নিয়ে বিশেষ সাক্ষাৎকার
|আরো খবর
চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ মো. নাজমুল আহছান বলেছেন, জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। দীর্ঘদিন রাজনীতির পাশাপাশি মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি ‘চাঁদপুর কণ্ঠ’কে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, তা প্রশ্নোত্তর আকারে নিচে তুলে ধরা হলো--
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কোন্ পরিচয়, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান? আপনার মূল লক্ষ্য ও স্বপ্ন কী?
শেখ মো. নাজমুল আহছান : আমি সব সময় আমার ইউনিয়নবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন সময়ে দলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপির আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরেছি। ফ্যাসিস্ট সরকারের জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মধ্যেও কখনো দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের নেতৃত্বে আমরা ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছি। সেই কাজের মূল্যায়ন হিসেবেই আমাকে দ্বিতীয়বারের মতো তরপুরচণ্ডী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইউনিয়নে যাতে কোনো ধরনের নৈরাজ্য, মব-জাস্টিস বা চাঁদাবাজি না হয়, সে লক্ষ্যে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছি। পাশাপাশি বিগত সময়গুলোতে ইউনিয়নে ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পেরেছি। আমি প্রতিটি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের খোঁজখবর নিয়েছি, তাদের সমস্যার কথা শুনেছি এবং সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস, জনগণের সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো জনপ্রতিনিধি হওয়া। সেই লক্ষ্যেই আমি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চাই।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি দলীয় সমর্থনে নির্বাচন করতে চান, নাকি নির্দলীয়ভাবে? কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন?
শেখ মো. নাজমুল আহছান : আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছি এবং বর্তমানে দ্বিতীয়বারের মতো সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। একই সঙ্গে আমি চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বরত আছি। যেহেতু আমি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আদর্শ ধারণ করি, তাই অবশ্যই দলের মনোনয়ন ও সমর্থন নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার ইউনিয়নের প্রধান সমস্যাগুলো কী কী? এই সমস্যা সমাধানে আপনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী?
শেখ মো. নাজমুল আহছান : তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকায় নদীভাঙন দীর্ঘদিনের একটি ভয়াবহ সমস্যা। বর্ষা মৌসুমে এই ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বিষয়টি সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছিলেন। তাঁর উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ড সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করেছে। তিনি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছিলেন।
এছাড়া ইউনিয়নের আরেকটি বড় সমস্যা হলো অপরিকল্পিত বালু ভরাটের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত থাকে। জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।
চাঁদপুর কণ্ঠ : স্বচ্ছতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং সরকারি সেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আপনার পরিকল্পনা কী?
শেখ মো. নাজমুল আহছান : আমি বিশ্বাস করি, একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সততা ও জবাবদিহিতা। জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করব। সরকারি সব সেবা যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা হয়রানি ছাড়াই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটিই হবে আমার অগ্রাধিকার।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচিত না হলেও কি জনগণের পাশে থাকবেন? যোগাযোগের মাধ্যম কেমন হবে?
শেখ মো. নাজমুল আহছান : জনগণের পাশে থাকা আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। নির্বাচিত হই বা না হই, আমি সব সময় মানুষের পাশে থাকব। আর নির্বাচিত হলে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করব। মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সমন্বয় টিমের মাধ্যমে মানুষের সমস্যা দ্রুত জেনে তা সমাধানের উদ্যোগ নেব।
চাঁদপুর কণ্ঠ : ভোটাররা আপনাকে কেন ভোট দেবেন? তাদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?
শেখ মো. নাজমুল আহছান : আমি এই ইউনিয়নেরই সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে রাজনীতি ও সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত থেকে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছি। আমি বিশ্বাস করি, জনগণ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা, সেবা এবং সততার সঠিক মূল্যায়ন করবেন। আমি সকল ভোটারের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করছি। নির্বাচিত হলে দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে একটি আধুনিক, উন্নত ও সেবামুখী তরপুরচণ্ডী ইউনিয়ন গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
উল্লেখ্য, শেখ মো. নাজমুল আহসানের পারিবারিক পরিচিতি : পিতা মরহুম শেখ জামাল উদ্দিন, মাতা আনোয়ারা বেগম, স্ত্রী মাকসুদা আক্তার মিনু, সন্তান : বড় ছেলে শেখ মাশফি আহসান মিতুল, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল) শেষ বর্ষ, আইইউবিএটি, উত্তরা, ঢাকা; মেজো ছেলে শেখ ফাহমি আহসান মারুফ, একাউন্টিং (অনার্স), ১ম বর্ষ, চাঁদপুর সরকারি কলেজ; ছোট ছেলে শেখ হা-মীম আহসান মিহাদ, ষষ্ঠ শ্রেণি, চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








