প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২২:৫০
একটু বৃষ্টিতেই চাঁদপুর শহরজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা
দুর্ভোগে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা, কার্যকর উদ্যোগ চায় শহরবাসী

একটু বৃষ্টি হলেই চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কোথাও কোথাও সড়কের ওপর হাঁটুসমান পানি জমে থাকছে। এতে পথচারী, যানবাহনের চালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।
|আরো খবর
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টিতে শহরের নাজিরপাড়া, মাদরাসা রোড, প্রফেসরপাড়া, মমিনপাড়া, পালপাড়া, প্রতাপসাহা রোড, আলিমপাড়া, হাজী মহসীন রোড, চেয়ারম্যানঘাটা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের আঙিনা, জিটি রোড, বিটি রোড, ব্যাংক কলোনি, নতুন বাজার ও পুরান বাজারের বিভিন্ন এলাকাসহ শহরের একাধিক স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে না পারায় অনেক সড়ক দীর্ঘ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদরাসা রোড, নাজিরপাড়া, মমিনপাড়া ও প্রফেসরপাড়ার বিভিন্ন সড়কের ওপর পানি জমে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সড়কের খানাখন্দ ও ভাঙা অংশ পানির নিচে ঢেকে যাওয়ায় পথচারী ও যানবাহনচালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যাওয়ায় ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সকালে ও দুপুরে স্কুল ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। অনেক শিক্ষার্থী পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হয়। কোথাও কোথাও সড়কের পানি ড্রেনের নোংরা পানির সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে শিশু ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা করছেন অভিভাবকেরা।
মাদরাসা রোড এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, "বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে যায়। পানি দ্রুত নামার ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের জুতা ও পোশাক ভিজে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।"
নাজিরপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টির সময় ড্রেনের পানি উপচে সড়কে চলে আসে। ড্রেনের কোথাও কোথাও ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে না। দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
মমিনপাড়া ও প্রফেসরপাড়ার বাসিন্দারা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে সমস্যা হয়। পানি জমে থাকার কারণে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরও ভেঙে যাচ্ছে। এতে একদিকে জনদুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে সড়কের স্থায়িত্বও কমছে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় জলাবদ্ধতার কারণে শিশুদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বৃষ্টির পানি জমে থাকা সড়কে শিশুদের পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই বর্ষা মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার সড়কগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।
শহরবাসীর মতে, শহরের বিভিন্ন ড্রেন ও নালা নিয়মিত পরিষ্কার করা, অবৈধভাবে দখল বা বন্ধ হয়ে যাওয়া পানি চলাচলের পথ চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হলে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি বৃষ্টির সময় কোথায় পানি জমছে তা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও দাবি তাঁদের।
চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বারবার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, কেবল সাময়িকভাবে পানি সরিয়ে নয়; বরং পরিকল্পিত ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে শহরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
শহরবাসীর দাবি—বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার করা, পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হলে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।








