প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮
চার দিনের অভিযানে বদলে গেলো হাজীগঞ্জের চিত্র
মহাসড়ক দখলমুক্ত করলো পুলিশ, কমছে যানজট, স্বস্তি ফিরলেও স্থায়ী সমাধানের দাবি ব্যবসায়ীদের

দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুর–কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ বাজার অংশ ছিলো নিত্যদিনের যানজটের এক পরিচিত নাম। মহাসড়কের দুপাশে কাঁচাবাজারের যানবাহন, ফুটপাতজুড়ে হকার এবং ব্যবসায়ীদের মালামাল রাখার কারণে সড়ক ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়েছিলো। এর ফলে পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতেই অনেক সময় লেগে যেতো ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। প্রতিদিনই কর্মঘণ্টা নষ্টের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়তেন হাজারো যাত্রী ও পথচারী। এ নিয়ে চাঁদপুর কন্ঠের ফেসবুক পেইজে সচিত্র প্রতিবেদন গত ২১ জুলাই ২০২৬ (মঙ্গলবার) দেয়া হয়েছিল।
অবশেষে দীর্ঘদিনের সেই অচলাবস্থা নিরসনে মাঠে নেমেছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে গত ২৩ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত টানা চার দিনের বিশেষ অভিযানে মহাসড়কের দুপাশ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে। হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত এ অভিযানে সহযোগিতা করেছে হাজীগঞ্জ পৌরসভা, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ। পুলিশ জানিয়েছে, যানজটমুক্ত সড়ক নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। হাজীগঞ্জ চাঁদপুর জেলার অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যকেন্দ্র। একই সঙ্গে এটি চাঁদপুর–কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। চাঁদপুর, কচুয়া, শরীয়তপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনীসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি প্রতিদিন শত শত মানুষ কেনাকাটার জন্যে হাজীগঞ্জ বাজারে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দখলের কারণে যানজট যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছিলো।
অভিযান প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বলেন, “গত চার দিন ধরে থানা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করছি। হাজীগঞ্জ পৌরসভা, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ আমাদের সহযোগিতা করেছেন। আমরা চাই, মহাসড়কের দু পাশে কোনোভাবেই হকার বসতে না পারে এবং হাজীগঞ্জ সড়কটি স্থায়ীভাবে যানজটমুক্ত রাখা যায়। এ জন্যে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
পুলিশের এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, “এই সমস্যার বয়স অনেক বছরের। পুলিশ অভিযান চালালে কিছুদিনের জন্য ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত থাকে, কিন্তু পরে আবার হকাররা ফিরে আসে। বিভিন্ন প্রভাব-প্রতিপত্তি কিংবা রাজনৈতিক ছত্রচছায়ায় অনেক সময় তারা পুনরায় জায়গা দখল করে। তাই আমরা চাই, এবার যেনো স্থায়ী সমাধান হয়। বর্তমান পুলিশ প্রশাসন যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি সময়োপযোগী এবং জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
স্থানীয়দের মতে, কেবল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; মহাসড়ক ও ফুটপাত পুনরায় দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। অন্যথায় অতীতের মতো পরিস্থিতি আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে আপাতত দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন হাজীগঞ্জের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের চলমান উদ্যোগ ধারাবাহিক থাকলে হাজীগঞ্জ বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে, কমবে যানজট এবং মহাসড়কে স্বাভাবিক গতিতে চলাচল নিশ্চিত হবে।







