প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:০২
তিন এমপির ডিও লেটার ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়
চাঁদপুর-ঢাকা যোগাযোগের নতুন দিগন্ত
২-লেনে উন্নীত হচ্ছে বাবুরহাট-মতলব-দাউদকান্দি সড়ক

|আরো খবর
গত ২৮ জুন ২০২৬ (রোববার) প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনগণের দাবি পূরণে তিন সংসদ সদস্যের ঐতিহাসিক ভূমিকা
এই মেগা প্রকল্পটির পেছনে সবচেয়ে বড়ো ভূমিকা পালন করেছেন তিন সংসদ সদস্য। চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক, চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. জালাল উদ্দিন এবং কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করে সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর যৌথ আবেদন ও আধা-সরকারি পত্র (DO Letter) প্রদান করেন। তাঁদের এই সময়োপযোগী ও জোরালো ডিও লেটারের প্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সড়কটি দ্রুত দু লেনে রূপান্তরের এই ঐতিহাসিক নির্দেশনা জারি করে।
বর্তমান পরিস্থিতি : ভোগান্তি থেকে মুক্তির আলো
বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি মাত্র ৫.৫ মিটার (১৮ ফুট) চওড়া, যা এই রুটের তীব্র যানবাহনের চাপের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। বর্তমানে চাঁদপুর থেকে মতলব উত্তর হয়ে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে চাঁদপুরে শত শত দূরপাল্লার ও স্থানীয় গাড়ি যাতায়াত করছে। রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগের জন্যে এটি অত্যন্ত সহজ, সময়সাশ্রয়ী এবং কম দূরত্বের একটি রুট হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করছেন। তবে সড়কটি সরু হওয়ায় প্রায়শই যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতো। এই সড়কটি ১০.৩ মিটারে যা ৩৪ ফুট উন্নীত করা হলে যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিরাপদ, আধুনিক ও দ্রুত হবে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কৃষি-ব্যবসার বিপ্লব
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সড়কটি প্রশস্ত করা হলে চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলার জনগণের যাতায়াত ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে। এর ফলে এলাকার কৃষি ও মৎস্যপণ্য राजधानीসহ সারা দেশে সহজে ও দ্রুত পরিবহন করা সম্ভব হবে, সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। এছাড়াও ঢাকা থেকে জরুরি চিকিৎসাসেবা বা অন্যান্য জরুরি সেবা দ্রুত গ্রহণ করা সম্ভব হবে, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটাবে।
মাঠপর্যায়ে চাঁদপুর সওজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি
এই বৃহৎ প্রকল্পের বিষয়ে চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীনুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেন। তিনি জানান, "আমরা ইতিমধ্যেই স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটার (DO Letter) পেয়েছি। সড়কটি ২-লেনে উন্নীত করার জন্য ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রণয়নের লক্ষ্যে সমীক্ষা যাচাই এবং সম্ভাব্যতা জরিপকরণের কাজ শুরু করতে আমাদের অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় তহবিল বা অর্থ চেয়েছি। বরাদ্দ পাওয়ার সাপেক্ষে আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পরবর্তী মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করব।"
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সংসদ সদস্যগণের এই দূরদর্শী উদ্যোগ এবং প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত নির্দেশনা চাঁদপুর ও কুমিল্লার সীমান্ত অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি এবং সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ







