রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ২২:২৫

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : নাগরিক ভাবনা-২

জনগণ নির্বাচনে কারচুপি, কেন্দ্র দখল ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ আর দেখতে চায় না

.........প্রকৌশলী আমিমূল এহছান হৃদয়

মো. মঈনুল ইসলাম কাজল
জনগণ নির্বাচনে কারচুপি, কেন্দ্র দখল ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ আর দেখতে চায় না

শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জননন্দিত একজন সৎ জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মরহুম দেলোয়ার হোসেন মিয়াজীর একমাত্র ছেলে আমিমুল এহছান হৃদয়।

তিনি চাঁদপুর ওয়াইডব্লিউসিএ এবং হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাইমারি ও হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ (রাইফেলস পাবলিক) পিলখানা ঢাকা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বস্ত্র প্রকৌশল বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরেন তিনি। ইতিমধ্যেই সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে সকলের হৃদয় কেড়েছেন। উদীয়মান তরুণ প্রজন্মের আইকন প্রকৌশলী আমিমূল এহসান হৃদয় দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার 'নাগরিক ভাবনা'য় তাঁর মতামত তুলে ধরেন। নিম্নে তাঁর বক্তব্য পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো--

চাঁদপুর কণ্ঠ : অতীতের স্থানীয় সরকার নির্বাচন (উপজেলা পরিষদ/পৌরসভা/ ইউনিয়ন পরিষদ) নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

আমিমূল এহছান হৃদয় : অতীতের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ভালো এবং তিক্ত দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই রয়েছে।অতীতে শাহরাস্তি উপজেলা এবং পৌরসভাবাসী সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং কারচুপিবিহীন স্থানীয় নির্বাচনের যেমন সাক্ষী হয়েছে, তেমনি বিগত সরকারের আমলে পৌরসভা নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, ভোট চুরি, প্রশাসনের বিভিন্ন ধরনের পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণের মতো ঘটনারও সাক্ষী হয়েছে।

তবে দেখা গেছে, যখনই কারচুপিহীন, সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, তখনই মানুষ ভালো পৌর প্রশাসক বা উপজেলা প্রশাসক পেয়েছে। আর যখনই কারচুপি বা ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে কেউ এসেছেন, তখন মানুষের ভোগান্তির সীমা ছিলো না। জলাবদ্ধতা, বর্জ্য অব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত অবনতিগুলো ব্যাপকভাবে তখনই সংঘটিত হয়েছিলো।এছাড়াও জন্মনিবন্ধন, গৃহ নির্মাণের অনুমোদন ইত্যাদি পেতে মানুষকে ঘুষ এবং হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় বা দলীয়ভাবে কোনটি আপনার পছন্দ?

আমিমূল এহছান হৃদয় : এটি অনেকটাই নির্ভর করে রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কতোটা শক্তিশালী তার উপর।

যদি প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং সামাজিক জবাবদিহিতা শক্তিশালী হয়, তাহলে নির্দলীয় নির্বাচন বেশি কার্যকর হতে পারে। আবার দলীয় কাঠামো যদি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক হয়, তাহলে দলীয় নির্বাচনও জবাবদিহিতা আনতে পারে। নির্দলীয় হলে স্থানীয় সমস্যা এবং ব্যক্তিগত গ্রহণ্যোগ্যতা বেশি প্রাধান্য পায়। রাজনৈতিক মেরুকরণ তুলনামূলক কম হতে পারে। নির্দলীয় হলে জনপ্রিয় সমাজকর্মী বা দক্ষ ব্যক্তিরাও নির্বাচনে আসতে পারেন।

দলীয় হলে রাজনৈতিক দল প্রার্থীর জন্যে কিছু জবাবদিহিতা তৈরি করতে পারে। নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে সমন্বয় সহজ হয়।

কিন্তু কিছু অসুবিধা, যেমন নির্বাচনে সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। স্থানীয় যোগ্যতার চেয়ে দলীয় আনুগত্য বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এ নির্বাচনে কেমন প্রার্থী বা কাকে আপনি দেখতে চান? প্রার্থীর গুণাবলি উল্লেখ করতে পারেন বা উপজেলা পরিষদ/ পৌরসভা/ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য কোন্ কোন্ প্রার্থী সম্পর্কে আপনি জানেন তাদের নাম উল্লেখ করতে পারেন কিংবা কেবল আপনার প্রত্যাশিত প্রার্থীর নাম উল্লেখ করতে পারেন।

আমিমূল এহছান হৃদয় : একজন ভালো প্রার্থী শুধু জনপ্রিয় হলেই যথেষ্ট নয়, তাকে সৎ, দক্ষ ও জনগণের সমস্যার প্রতি দায়বদ্ধ হতে হয়।

সততা, জনসেবার মানসিকতা, ন্যায় বিচার ও নিরপেক্ষতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, জবাবদিহিতা, আর সবশেষে বলবো দূরদর্শী উন্নয়ন চিন্তা করার সক্ষমতা একজন প্রার্থীর মধ্যে থাকা জরুরি।

এছাড়া বর্তমান বাংলাদেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। যদিও অবকাঠামো তৈরি করা জনপ্রতিনিধিদের কাজ নয়, কিন্তু ভালো অবকাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্মার্ট, আধুনিক চিন্তা-চেতনার সাথে সামঞ্জস্য রাখতে পারবে এমন জনপ্রতিনিধিদেরই আমাদের প্রয়োজন।

ভোটারদেরও উচিত শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক, দলীয় পরিচয় বা সাময়িক সুবিধা দেখে নয়, প্রার্থীর চরিত্র, কাজের ইতিহাস ও জনগণের জন্যে তার পরিকল্পনা বিবেচনা করে ভোট দেয়া।

চাঁদপুর কণ্ঠ : স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই বললেই চলে। সেবা কি পূর্বের মতোই আছে, না ব্যাহত হচ্ছে? তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরতে পারেন।

আমিমূল এহছান হৃদয় : স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় মানুষের ভোগান্তি অবশ্যই বেড়েছে। সাধারণত পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পদটি একটি উপজেলার সর্বোচ্চ ব্যস্ত পদ। তাই তিনি নিজের অফিসের দায়িত্ব পালন করে সবসময় সম্ভব হয় না পৌরসভাতে সময় দেয়া। যার ফলে যে কোনো সার্ভিস পেতে আগের তুলনায় সময় অনেক বেশি লাগে। জন্মনিবন্ধনে ভুল থাকলে সংশোধন করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। যেটি চালু থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় অভিভাবক থাকা খুবই জরুরি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আপনার নিজস্ব কোনো অভিমত থাকলে সেটা ব্যক্ত করতে পারেন।

আমিমূল এহছান হৃদয় : আমার দৃষ্টিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যকর হওয়ার জন্যে কয়েকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ—

নির্বাচন যেনো অবাধ ও সুষ্ঠু হয়। প্রশাসন নিরপেক্ষ এবং শক্ত অবস্থানে থাকবে এটাই জনগণের অভিপ্রায়।

প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা ও কাজের ইতিহাস দলীয় পরিচয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

তরুণ, নারী ও শিক্ষিত নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এরাই প্রগতিশীল চিন্তাকে তুলে ধরতে পারবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়