সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ১৭:৫৫

ওয়্যারলেস বাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় বোরহান গাজীর পরিবারের বিবৃতি

অনলাইন ডেস্ক
ওয়্যারলেস বাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় বোরহান গাজীর পরিবারের বিবৃতি

চাঁদপুর শহরের ওয়্যারলেস বাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় বোরহান গাজীর পরিবারের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা না হয়ে তা যেনো জনগণ ও প্রশাসনের সামনে চলে আসে। বিবৃতিদাতা বোরহান গাজীর মেয়ে মেঘলা বলেন, আমার বাবা বোরহান গাজীর বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র চলে আসছে, সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সকলকে জানাতে ও আমার পরিবারের আর্তনাদ তুলে ধরতে এই বিবৃতি। আমি আজকে এমন একটা পরিবারের কথা বলছি, যারা দীর্ঘদিন ধরে ভয়, হুমকি, ষড়যন্ত্র আর অন্যায়ের মধ্যে বেঁচে আছি। আমি চাই, আপনারা ধৈর্য ধরে পুরো ঘটনাটা শুনুন। কারণ একটা ছোট ভিডিও ক্লিপ, কিছু একপাক্ষিক প্রচারণা বা গুজব দিয়ে কখনো পুরো সত্য জানা যায় না।

মেঘলা বলেন, আমাদের পরিবার ওয়্যারলেস এলাকায় বহু বছর ধরে বসবাস করে আসছে। আমরা এই এলাকারই স্থানীয়। ছোটবেলা থেকে দেখেছি, আমার বাবা সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। কারো জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড—এসবের বিরুদ্ধে তিনি প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। আর এ কারণেই ধীরে ধীরে একটি বড়ো সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী চক্রের টার্গেটে পরিণত হয় আমাদের পরিবার।

আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, শফিক গাজী, সজীব গাজী, মামুন খান, সুমন গাজী, মানিক খান, মিশু মোল্লাসহ আরও কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় পেশীশক্তি দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। সাধারণ মানুষ তাদের ভয় পায়। কেউ মুখ খুলতে চায় না। কারণ, মানুষ জানে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে হয়রানি, হামলা, মামলা এসব নেমে আসতে পারে।

মেঘলা আরো বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানের পর ২৩ মে ২০২৬ তারিখে শফিক গাজী অবৈধভাবে প্রভাব খাটিয়ে ফুটপাতে দোকান বসালে আমার বাবা এর প্রতিবাদ করেন। এখান থেকেই শফিকের ষড়যন্ত্র শুরু হয় এবং আমার বাবাকে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলতে যেনো না পারে, এমনকি তার পথের কাঁটা হিসেবে আমার বাবা বোরহান গাজীকে সরিয়ে ফেলতে মামুন, মিশু ও সুমন গাজীসহ ২৪ মে ২০২৬ তারিখে আমাদের পরিবারের ওপর

দু দফা হামলা করে।

ওয়্যারলেস এলাকায় মাদক বেচাকেনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির বিষয়ে যখনই আমার বাবা কথা বলা শুরু করেন, তখন শফিক গাজী ও তার ভাই সজীব গাজী, সুমন গাজী ও মামুন খানসহ অনেকের সঙ্গে শত্রুতা আরও তীব্র হয়ে ওঠে । মিশু মোল্লার সাথে আমার বাবার পূর্ব কোনো বিরোধ ছিল না। তিনি শফিক গাজীর পক্ষ হয়ে আমাদের বাড়ির সামনে হামলা করতে আসলে সংঘর্ষ বাঁধে। সাধারণ মানুষ আমার বাবার কাছে এসে বিচার দিতেন। আমার বাবা বলতেন, "গরিব মানুষ ব্যবসা করুক, কিন্তু মানুষের হাঁটার জায়গা যেনো বন্ধ না হয়।” এই কথাতেই শফিক গাজী ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। সে প্রকাশ্যে গালাগালি করে, ভয়ভীতি দেখায়।

এলাকার মানুষ তাকে ভয় পায়। কারণ সবাই বিশ্বাস করে, তার রোষানলে পড়লে একটা পরিবার ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। যার কবলে এখন আমাদের পরিবার।

মূলত আমাদের পরিবার কখনো তাদের কাছে মাথা নত করেনি। আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এ কারণে তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের শেষ করে দেয়ার চেষ্টা শুরু করে।

আমাদের বিরুদ্ধে একটি বড়ো ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। ২৪ মে ২০২৬ বিকেল প্রায় সাড়ে ৪টার সময় আমাদের পৈত্রিক বাড়ি গাজী বাড়ির সামনে প্রায় ৭০ জনের একটি দল আসে। তারা পরিকল্পিতভাবে সেখানে আসে। তখন আমার বাবার পাশে ছিলো আমার ছোট বোন, আমার জেঠা ফেরদৌস গাজী, চাচা রেদোয়ান গাজী, ইমরান গাজী এবং কয়েকজন আত্মীয়। তারা কেউই মারামারির জন্যে প্রস্তুত ছিলো না। সেখানে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে আত্মরক্ষার চেষ্টায় আমার বাবা একজনের কাছ থেকে অস্ত্র (ছুরি) কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। আমার ছোট বোন আতঙ্কে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে বাবা এগিয়ে আসেন। চাচা-জেঠারাও বাবাকে রক্ষা করতে যান। সেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই আহত হয়।

সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ওইদিন সন্ধ্যায়।

মামুন খান ও মিশু মোল্লার নেতৃত্বে বিশাল এক কিশোর গ্যাং এসে আমাদের দোকানপাটে হামলা চালায়। ভাংচুর করে, আগুন লাগায়। এমনকি মসজিদেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো আমাদের বাড়িতে ঢুকে ভয়াবহ ক্ষতি করা। সময়মতো পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হতো। কিন্তু ঘটনার পর যেভাবে মিডিয়াতে একপাক্ষিক প্রচারণা

চালানো হয়েছে, তা আমাদের আরও অবাক করেছে। আমরা মনে করি, আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে মিডিয়া কভারেজ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। যেনো ঘটনাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা যায়, যেখানে আমাদের পরিবারকেই একমাত্র অপরাধী বানানো হবে।

যেখানে হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভয়ভীতি ও সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে প্রকৃত তদন্ত না করে কেনো শুধু আমার পরিবারকেই অভিযুক্ত করা হলো? কেনো ভুক্তভোগীরাই আজ জেল খাটছে? কেনো আমাদের মানহানি করা হচ্ছে? আমার বাবা অসুস্থ মানুষ। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত। তাঁর নিয়মিত চিকিৎসা লাগে। সেই মানুষটিকে আজ এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেনো তিনি ভয়ংকর অপরাধী। অথচ যারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তারা আজও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আমি কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ চাই না। আমি কোনো সহিংসতা চাই না। আমি শুধু সুষ্ঠু তদন্ত চাই। নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। আমরা চাই সত্য সামনে আসুক। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি—এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হোক। সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হোক, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেয়া হোক, উভয় পক্ষের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হোক। শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু ক্লিপ বা প্রভাবশালীদের চাপের ভিত্তিতে যেন বিচার না হয়। আমি বিশেষভাবে অনুরোধ জানাতে চাই চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক মহোদয়ের কাছে।

মাননীয় এমপি সাহেব, আপনি যদি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করেন, তাহলে হয়তো আমাদের পরিবার এই ভয় ও ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচার একটা সুযোগ পাবে। আমরা বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচার এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।

আমি দেশের গণমাধ্যমের কাছেও অনুরোধ করবো—দয়া করে একপাক্ষিক সংবাদ প্রচার করবেন না। একজন মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে অপরাধী বানিয়ে ফেলবেন না। প্রতিটি ঘটনার দুটি দিক থাকে। আমাদের কথাগুলোও শুনুন। আজ আমরা অসহায়। কিন্তু আমরা আইনের ওপর আস্থা হারাতে চাই না। আমরা এখনো বিশ্বাস করি, সত্য একদিন প্রকাশ পাবে। অন্যায় যতো বড়োই হোক, সত্যকে চিরদিন চাপা দিয়ে রাখা যায় না।

আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই। আমি চাই আমার ছোট ভাইবোনেরা আতঙ্ক ছাড়া বাঁচুক। আমার মা যেন প্রতিদিন ভয় নিয়ে ঘুমাতে না যান। আমরা যেন আমাদের এলাকায় মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারি।

সবশেষে আমি আবারও বলছি : আমরা কোনো সংঘাত চাই না। আমরা শান্তি চাই, আমরা ন্যায়বিচার চাই।

যারা প্রকৃত অপরাধী, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। আর নির্দোষ মানুষদের হয়রানি বন্ধ করা হোক ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়