সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ০১:১৩

চায়না জালে সয়লাব ডাকাতিয়া নদী

সোহাঈদ খান জিয়া
চায়না জালে সয়লাব ডাকাতিয়া নদী
ক্যাপশন : ডাকাতিয়া নদী

চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদী চায়না (রিং) জালে সয়লাব হয়ে গেছে। অথচ মৎস্য বিভাগ এবং প্রশাসন নীরবতা পালন করছে।

জানা যায়, বর্ষা মৌসুম আসার আগে চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে ডাকাতিয়া নদীর তীরবর্তী জেলে ও বিভিন্ন পেশার মানুষ চায়না (রিং) জাল দিয়ে নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একেকজন মাছ শিকারী ৫/৭টা বা তার চেয়ে বেশি জাল নিয়ে নৌকাযোগে নদীতে নেমে যায় মাছ শিকার করার জন্যে। তাদের এসব জালে মাছের ছোট রেনুসহ সকল ধরনের মাছ ধরা পড়ে থাকে। এতে করে নদীতে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। যার ফলে অধিক দামে মাছ ক্রয় করতে হচ্ছে মানুষকে। এ সকল মাছ শিকারী প্রতিদিন ভোর রাত ৪টা থেকে নদীতে নৌকা নিয়ে নেমে পড়ে মাছ ধরার জন্যে।

চাঁদপুর শহরের ইচলী এলাকা থেকে শুরু করে পুরো ডাকাতিয়া নদীজুড়ে রয়েছে চায়না জাল দিয়ে মাছ শিকারীদের দাপট। এরা বুক ফুলিয়ে দিব্বি অবৈধ ও নিষিদ্ধ চায়না জাল দিয়ে মাছ শিকার করলেও প্রশাসনকে নীরবতা পালন করতে দেখা যায়। প্রশাসনের এ নীরবতার কারণে মাছ শিকারীদের যে যার মতো করে মাছ শিকারে লিপ্ত থাকতে দেখা যায়। অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

সরজমিনে ডাকাতিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোরবেলা জেলে এবং জেলে ছাড়া এক শ্রেণির পেশাদার মাছ শিকারী নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে যায়। জাল উঠিয়ে মাছ নৌকায় রেখে পুনরায় জাল পেতে রাখে। জাল চাওয়া শেষ করে মাছগুলো স্থানীয় বাজারে, দোকানের নিকট, ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ও হাজীগঞ্জ বাজারে বিক্রি করার জন্যে নিয়ে যাচ্ছে। এসব মাছের মধ্যে বেশিরভাগ মাছ হচ্ছে ছোট চিংড়ি, ছোট ছোট বাইলা মাছ, চেউয়া মাছ, শিং মাছ, পুঁটি মাছ, বজরি (টেংরা মাছের পোনা) । আর এর মধ্যে বেশিরভাগই হচ্ছে মাছের রেনু পোনা। প্রতিদিন এক একজন মাছ শিকারী ২ হাজার টাকা হতে শুরু করে ৮/১০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করে থাকে। এদের দাপটে ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তারা নিষিদ্ধ চায়না জাল দিয়ে মাছ শিকার করে থাকে। ওই মহলটি বিনিময়ে মাছ শিকারীদের নিকট হতে কেউ নিয়ে থাকে খাওয়ার মাছ, আবার কেউ চা নাস্তা খেয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে সজিব, সুমন, রহমান ও ইমরান নামে জেলে জানায়, আমরা জাল কিনে এনে নদীতে মাছ শিকার করে থাকি। এসব জাল মতলব ও চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার থেকে কিনে আনি। বর্ষাকালেই এসব জাল দিয়ে মাছ শিকার বেশি হয়ে থাকে। বর্ষা মৌসুমে এসব জালে মাছ বেশি ধরা পড়ে থাকে। শুষ্ক মওসুমে তেমন মাছ ধরা পড়ে না। এসব জাল দিয়ে আমরা বর্ষা মওসুমে মাছ শিকার করি। ডাকাতিয়া নদীতে আমাদের মতো প্রায় হাজারের উপরে চায়না জাল দিয়ে মাছ শিকারী রয়েছে।

এ ব্যাপারে মোবারক, হাবিব খান, শিমু, ইকবাল, মামুন, শাহজাহান, জুয়েল ও বারেক খান বলেন, চায়না জালের বিরুদ্ধে নামমাত্র অভিযান দেয়া হয় বললেই চলে। অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পেছন দিয়ে পুনরায় জেলেরা নদীতে নেমে যায়। গত বছর যে ক'দিন অভিযান করেছে এর মধ্যে ৫০জন মাছ শিকারী থাকলেও সেখানে ১০/১৫ জন জেলের জাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এভাবে ক'দিন অভিযান করা হয়। বাকি পুরো বর্ষায় আর অভিযান করা হয়নি। এসব চায়না জাল দিয়ে ছোট মাছের রেনু পোনাসহ সকল ধরনের মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে। এসব রেনু পোনা নিধন করার কারণে ডাকাতিয়া নদীতে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। মাছের সংকট দূরীকরণে ও মাছের পোনা রক্ষা করার জন্যে অভিযান জরুরি

এ ব্যাপারে চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, মাছের পোনা রক্ষা করার জন্যে ডাকাতিয়া নদীতে অভিযান করা হবে।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়