প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ০১:০৪
সিআইপি ও মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে বোরো ধানের বাম্পার ফলন

চাঁদপুর সেচ প্রকল্প (সিআইপি) এবং মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প (এমডিআইপি) থাকা সত্ত্বেও চাঁদপুর জেলা একটি খাদ্য ঘাটতি অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। এর পেছনে মূলত কৃষিজমির ব্যবহার পরিবর্তন, সেচ ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা, সেচ ক্যানেল শুকিয়ে যাওয়া, তাতে পানি না থাকা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ উল্লেখযোগ্য কারণ।
|আরো খবর
চাঁদপুর সেচ প্রকল্প ও মেঘনা-ধনাগোদা নামে দুটি সেচ প্রকল্পে চাঁদপুর জেলার পাঁচটি উপজেলা চাঁদপুর সদর, হাইমচর, ফরিদগঞ্জ, মতলব উত্তর ও দক্ষিণে ২৩ হাজার ৩শ’ ৯০ হেক্টর জমি রয়েছে। জেলার খাদ্যের প্রয়োজন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯শ ৫৫ মে.টন। এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে এ দুটি সেচ প্রকল্পে। এমন আনন্দের কথা জানিয়েছে কৃষকগণ। তারা এখন মাঠে মাঠে ধান কাটায় ব্যস্ত। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কষ্ট করে ফলানো ফসল অনেকেই গোলায় তুলছেন। তাতে সব কষ্ট ভুলে কৃষক হাসছেন তৃপ্তির হাসি। তবে ঝড় বৃষ্টি নিয়ে তারা বেশ চিন্তিত। আগাম বন্যা ও প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। এ সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় ‘পাকা ধান মাঠে থাকবে না’ নীতি ঠিক করেছে।
জানা যায়, জোড়া তালি দিয়ে ৪৫ বছরের পুরানো পাম্পে চলছে দেশের বিখ্যাত চাঁদপুরের দুটি সেচ প্রকল্প। এ বছর দুটি প্রকল্পে বোরো আবাদ হয়েছে ১৬ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে ২০ থেকে ৫০ ভাগ ধান কর্তন হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দুটি সেচ প্রকল্পে ধানের ফলন ভালো হয়েছে জানালেন কৃষকরা। সেচ সমস্যা না থাকা এবং সঠিক সময় পানি পাওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। সীমাবদ্ধতার কথা জানালেন পাউবোর যান্ত্রিক বিভাগ। সরজমিন ঘুরে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কৃষকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
‘চাঁদপুর সেচ প্রকল্প’ ও ‘মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প’ ধান ও রবিশস্য উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা ধান কর্তন, মাড়াই ও শুকানোর কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে।
কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের আওতাধীন সদর, ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর উপজেলায় বোরো আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে এসব জমির অর্ধেক ধান কর্তন হয়েছে। অপরদিকে মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। এই প্রকল্পের প্রায় ২০ ভাগ ধান কর্তন হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার দেইচর গ্রামের কৃষক আল-আমিন বলেন, তিনি এ বছর ৬০ শতাংশের দুটি জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। তার ধান কর্তন প্রায় শেষ। ফলন ভালো হয়েছে। একই গ্রামের কৃষক আবু তাহের বলেন, তিনি ৪০ শতাংশ জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। ১০ শতাংশ জমিতে পেয়েছেন ৮ মণ ধান।
মতলব উত্তর উপজেলার সেচ প্রকল্পের নয়াকান্দি এলাকার কৃষক আলী আজম বলেন, তিনি দু কানিতে বোরো আবাদ করেছেন। অর্ধেক জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা হওয়ায় অনেককেই ধান কাটতে অতিরিক্ত শ্রমিক ও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। একই এলাকার কৃষক মোসলেম ও বাদল খান বলেন, এ বছর পানির সংকট ছিলো না। ফলন ভালো হয়েছে। শেষ দিকে শিলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফসলের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার বলেন, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পে ধানের ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। শুরুতে সেচ সংকট থাকলেও পরবর্তীতে সব কৃষক পানি পেয়েছে। ইতোমধ্যে ৫২ভাগ ধান কর্তন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে যথাসময়ে কৃষকরা ধান কর্তন করতে পারবে। এ বছর এই সেচ প্রকল্পে ১০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ৪৪ হাজার ১৫৮.২০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, তুলনামূলকভাবে এ বছর কৃষকরা আগে পানি পেয়েছে। যার ফলে বোরো আবাদ হয়েছে ভালো। লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বোরো আবাদের অর্জন বেশি। কৃষকরা নির্দিষ্ট সময় ধান লাগালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কম হবে।
দুটি সেচ প্রকল্পের পাম্পগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, দুটি সেচ প্রকল্পের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে পাম্প হাউজ। এগুলো ৪৫ বছরের পুরানো। মেরামত করে চালু রাখা হয়েছে। তারপরেও কৃষকরা যাতে সঠিক সময়ে পানি পায়, সেই চেষ্টা আমাদের অব্যাহত ছিলো এবং আগামীতেও থাকবে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








