সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ০০:৫৬

ডাকাতিয়া বাঁচলে বাঁচবে চাঁদপুর

ডাকাতিয়ার দখল দূষণের অবসান ও নাব্যতা ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় চাঁদপুরবাসী

মঈনুল ইসলাম কাজল
ডাকাতিয়ার দখল দূষণের অবসান ও নাব্যতা ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় চাঁদপুরবাসী
ক্যাপশন : ডাকাতিয়ার বর্তমান ক্ষীণকায়া রূপ। খননে নাব্যতা ফিরে পেলে পূর্বের ন্যায় প্রশস্তরূপে হবে প্রবহমান।

ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরমাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে ইতোমধ্যেই তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ মে শনিবার সড়ক পথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে আসবেন, দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার দুমাসের মধ্যে তারেক রহমানের চাঁদপুরে আগমন--এটা জেলাবাসীর জন্যে অনেক বড়ো প্রাপ্তি। প্রধানমন্ত্রীর নিকট জেলাবাসীর চাওয়া পাওয়াগুলো তুলে ধরতে পারলে তা পর্যায়ক্রমে আগামী ৫ বছরে বাস্তবায়ন করা অনেকটাই সহজ হবে। তিনিও সময় নিয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়নগুলো করে যেতে পারবেন।

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর একটি নদীমাতৃক জেলা। পদ্মা-মেঘনা চাঁদপুরের বুক দিয়ে প্রবাহিত হলেও জেলার গর্ব ডাকাতিয়া নদী। চাঁদপুর জেলার বেশ ক'টি উপজেলার প্রাণ এই ডাকাতিয়া। কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা পালন করছে নদীগুলো। বর্তমান সরকারের খাল খনন কাজে পানির প্রধান উৎস নদীগুলো। নদী থেকে খালের মাধ্যমে পানি সরবরাহ এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পানি নিষ্কাশনে নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই খাল খননের পাশাপাশি নদীকে দখলমুক্ত করা, দূষণ দূর করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নদী বাঁচানোর বিকল্প নেই।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে উৎপন্ন হয়ে কুমিল্লা জেলার বাগমারা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ডাকাতিয়া নদী। এ নদী কয়েকটি জেলাকে সম্পৃক্ত করে মেঘনা নদীতে মিলিত হয়েছে। তবে ডাকাতিয়ার পরিপূর্ণ সুবিধা ভোগ করে থাকে চাঁদপুরের জনগণ। তৎকালীন সময়ে মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিলো ডাকাতিয়া। ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিলো ডাকাতিয়া নদী ঘিরে। ১৪১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই নদীর মাধ্যমে কৃষি, মৎস্য উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকতো হাজারো মানুষ। সময়ের ব্যবধানে ডাকাতিয়া তার চিরচেনা রূপ হারিয়ে ফেলছে। আগের মতো নেই কোলাহল, নেই প্রাণের উচ্ছ্বাস। দখল, দূষণ, অব্যবস্থাপনার কারণে নদীটি ধীরে ধীরে খালে পরিণত হচ্ছে। এখনো জেলার কৃষি উৎপাদনের প্রধান হাতিয়ার এই ডাকাতিয়া। ৬৭ মিটার প্রস্থের ডাকাতিয়াকে এখন খুঁজে পাওয়া যায় না। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খনন কাজের সুফল পেতে হলে নদী খননের বিকল্প নেই। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে, বাঁচবে কৃষক ও বাংলাদেশের জনগণ। আর ডাকাতিয়া বাঁচলে বাঁচবে চাঁদপুর। তাই চাঁদপুরবাসীর প্রত্যাশা : মানবিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুরের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে হারিয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদী খননের মাধ্যমে তার পূর্বের রূপে ফিরে পেতে এবং দখল দূষণ নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের উদ্যোগ নেবেন।
ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়