রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ২২:৪৭

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৩৪

বঞ্চিত মানুষের সঞ্চিত কষ্টকে দূর করার লক্ষ্যে মেয়র হতে চাই

...........মো. টুটুল পাটওয়ারী

নুরুল ইসলাম ফরহাদ।।
বঞ্চিত মানুষের সঞ্চিত কষ্টকে দূর করার লক্ষ্যে মেয়র হতে চাই

ফরিদগঞ্জের একজন তরুণ সমাজসেবক টুটুল পাটওয়ারী। সদা হাস্যোজ্জ্বল এবং বিনয়ী একজন মানুষ। ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতি করেন। বিএনপিকে মনেপ্রাণে ভালোবাসেন। রাজনীতি করতে এসে পাওয়ার চেয়ে বিলিয়েছেন বেশি। বিপদে এবং সামাজিক কাজে মানুষের পাশে থাকতে পছন্দ করেন। রাজনীতি করতে গিয়ে মামলা হামলার শিকার হয়েছেন। তারপরও নীতি-আদর্শ বিসর্জন দেননি। ১৯৯৬ সালে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, ২০০৮ সালে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০১৮ সালে ফরিদগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। টুটুল পাটওয়ারী একজন সামাজিক মানুষ। তিনি ফরিদগঞ্জ কেন্দ্রীয় এতিমখানার সাধারণ সম্পাদক ও কাছিয়াড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ১৭টি মামলার আসামী হয়েছেন এবং ৮বার কারাবরণ করেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় তার বাড়িঘরে হামলা করে ভাংচুর করা হয়। ২০২১ সালে পুনরায় তার বসতবাড়িতে হামলা করা হয়। দল করার কারণে বহু নির্যাতনের শিকার হওয়া টুটুল পাটওয়ারীর দলের কাছে প্রত্যাশা : ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দল তাকে মনোনয়ন বা সাপোর্ট দেবে। প্রতিকূল পরিবেশে মানুষের বিপদে পাশে ছিলেন, অনুকূল পরিবেশে বঞ্চিত পৌরবাসীকে তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেয়ার বাসনা থেকে তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করতে চান। নির্বাচিত হলে কেমন পৌরসভা গড়বেন তা জানাচ্ছেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠকে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোন্ পদে প্রার্থী হচ্ছেন?

টুটুল পাটওয়ারী : আমি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থী হচ্ছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : অতীতে কি কখনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন?

টুটুল পাটওয়ারী : নিজে নির্বাচন না করলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বহু নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন?

টুটুল পাটওয়ারী : দল করতে গিয়ে অনেক নির্যাতন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। ব্যবসায়িকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। যে দলের জন্যে এতো ত্যাগ সে দলের সমর্থন প্রত্যাশা করতেই পারি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হতে চান, নাকি বিজয়ী হওয়ার জন্যে নির্বাচন করবেন?

টুটুল পাটওয়ারী : আল্লাহর রহমতে উপজেলায় আমার যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। শুধুমাত্র বিজয়ী হওয়ার জন্যেই নয়, পৌরবাসীর স্বাভাবিক অধিকার প্রতিষ্ঠাতা করতে আমি মেয়র হতে চাই। ফরিদগঞ্জ পৌরসভা ‘ক’ শ্রেণির। অথচ রাস্তাঘাটসহ স্বাভাবিক যে সেবা, সেটা থেকেও মানুষ বঞ্চিত। ইউনিয়নের বাজারগুলোতে রাতে আলো ঝলমল করে। অথচ ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় রাতে অন্ধকারে ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে। ৫নং ওয়ার্ডে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (প্রাথমিক বিদ্যালয়) নেই।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?

টুটুল পাটওয়ারী : সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্যে দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। সেই সংগ্রামের পরই বর্তমান সরকার। নির্বাচন অবাধ এবং নিরপেক্ষভাবেই হবে ইনশাআল্লাহ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?

টুটুল পাটওয়ারী : বঞ্চিত মানুষের সঞ্চিত কষ্টকে দূর করার লক্ষ্যে মেয়র হতে চাই। ফরিদগঞ্জ পৌরসভাকে নতুনভাবে সাজাতে চাই। সত্যিকার অর্থে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা গড়তে চাই। যেখানে নাগরিকরা পৌরসভার মৌলিক অধিকার ভোগ করবে। পঞ্চবার্ষিকী নয়, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে টেকসই উন্নয়ন করা হবে ইনশাআল্লাহ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার জীবনে জনকল্যাণমূলক কাজের কোনো উদাহরণ আছে? থাকলে দুই একটি বলতে পারেন।

টুটুল পাটওয়ারী : ২০২০ সালে মহামারি করোনাকালীন সময় গ্যাস সিলিন্ডারসহ এ সংক্রান্ত উপরকণ ও খাদ্য সামগ্রী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে বিতরণ করেছি। ২০২৪ সালের জলাবদ্ধতার সময়ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। পানি যখন শুকিয়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘর নির্মাণে টিনসহ বিভিন্ন উপকরণ এবং নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছি। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে ঈদ উপহার দিয়ে সবার আনন্দের অংশীদার হচ্ছি প্রতিবছর। এছাড়া দেশ এবং সমাজের ক্রাইসিস মুহূর্তে অসহায় মানুষের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়