বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০০

প্রতিকার পেতে ফরিদগঞ্জে ভবন মালিকের সংবাদ সম্মেলন

ভবন হেলে পড়া নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো।।
ভবন হেলে পড়া নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ

২৮ বছর প্রবাসে থেকে প্রবাসে অর্জিত অর্থ দিয়ে পৌর শহরের এককোণে পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে একটি চারতলা ভবন করে স্ত্রী-পুত্র-কন্যাসহ সপরিবারে বসবাস করছেন গত প্রায় দু দশক ধরে। নিজেরা থাকার পাশাপাশি ঘর ভাড়া থেকে আসা অর্থ দিয়েই চলতো তার সংসার। কিন্তু প্রতিবেশীর সাথে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কূটচালে সর্বস্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। তার প্রতিবেশী কর্তৃক ভবন হেলে পড়ার মিথ্যা অভিযোগের কারণে তার জীবন বিপন্ন। জীবনের অর্জিত সম্পদ হারানোর শঙ্কা। অথচ ভবন হেলে পড়ার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। দিকভ্রান্ত হয়ে এ বিভ্রান্তি ও ঝুঁকি থেকে মুক্তি পেতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভবন মালিক মো. দেলোয়ার হোসেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬ ) বিকেলে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

দেলোয়ার হোসেনের পক্ষে তার জামাতা মেহেদী ইসলাম লিখিত বক্তব্য পড়েন। দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি বিগত ২০০৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জনৈক মজিবুর রহমান রানার নিকট থেকে পৌর এলাকার ৯৮ নং কেরোয়া মৌজার সাবেক ১৭৭৯, হালে ২৬২২ নং বিএস দাগে ৮২৫নং সাফ কবালা দলিল মূলে সাড়ে পাঁচ শতক ভূমি ক্রয় করি। ফরিদগঞ্জ বাজার সংলগ্ন কেরোয়া ব্রিজের পাশে মিরপুর রোডে অবস্থিত সেই ভূমিতে একটি চার তলা ভবন নির্মাণ করি। ২০০৭ সালে নির্মিত ভবনটিতে রয়েছে ১১টি ইউনিট। একটিতে নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করি, অপর ১০টি ইউনিট ভাড়া দিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছি।

তিনি চারতলা ভবন করেছেন একই সাথে তার প্রতিবেশী আক্তার হোসেনও চারতলা ভবন করেছেন। দীর্ঘ প্রায় দুদশক ধরে তারা একত্রে থাকলেও হঠাৎ করেই আক্তার হোসেনের সাথে তার জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে গত ১৬ মার্চ আক্তার হোসেন প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলে লিখিত অভিযোগ করেন যে, আমার ভবনটি হেলে পড়েছে। তাৎক্ষণিক প্রশাসনের লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে ঝুঁকি এড়াতে দু ভবনের মালিক ও ভাড়াটিয়াদের তিনদিনের মধ্যে ভবন খালি করার নির্দেশনা দেন। আমি প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিজের পরিবার ও ভাড়াটিয়াদের সহযোগিতায় ভবন খালি করলেও অদ্যাবধি অভিযোগকারী আক্তার হোসেন ভবন খালি করেন নি। যাতে প্রতীয়মান হয়, আমাকে মূলত হয়রানি করতেই তিনি ভবন হেলে পড়ার এই নাটক রচনা করেছেন।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার নির্মাণ করা ভবন এখন পর্যন্ত এক ইঞ্চিও হেলে পড়েনি। মূলত ভবনের নিচের অংশ খালি রেখে উপরের দিকে কার্নিস বাড়িয়েছি। আমি এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দ্রুত এই সমস্যা থেকে আমাকে মুক্তিদানের অনুরোধ করছি। এমনকি গঠিত তদন্ত কমিটিও তাদের রিপোর্টে ভবন হেলে পড়েনি বলে রিপোর্ট প্রদান করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। কারণ যা সত্য তারই প্রতিফলন ঘটবে বলে বিশ্বাস করি। একই সাথে মিথ্যা অভিযোগ ও বড়ো ধরনের আর্থিক দুরবস্থা থেকে রেহাই পেতে আশা করি আপনাদের লেখনির মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হবে।

প্রেসক্লাব সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীরা ছাড়াও দেলেয়ার হোসেনের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী বিবি হাওয়া, মেয়ে ফাতেমা তাবাসসুম, জান্নাত বেগম, পুত্রবধূ কোহিনুর আক্তার, জামাতা মেহেদী ইসলাম, নাতনি নাজমুন নাহার প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়