মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্লা সেলিম!

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭:৪৫

লঞ্চে সন্তান প্রসব, আনন্দে যে ঘোষণা লঞ্চ কোম্পানির

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট।।
লঞ্চে সন্তান প্রসব, আনন্দে যে ঘোষণা লঞ্চ কোম্পানির

নারায়ণগঞ্জ-মোহনপুর থেকে চাঁদপুরগামী এমভি হাশিমপুর লঞ্চে নবজাতকের জন্ম দেওয়ায় মা ফাতেমা আক্তার(৩২)কে লঞ্চ কোম্পানির মালিক আবুল ও মাহবুব পাঁচ হাজার টাকা উপহার দিয়েছেন। ওই শিশুটির জন্যে আজীবন লঞ্চে বিনামূল্যে যাতায়াতের ঘোষণা দিয়েছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেন লঞ্চের চাঁদপুর ঘাট সুপারভাইজার মো. রুহুল আমিন।

ঘটনাটি মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) সকাল দশটার সময় মতলব উত্তর একলাশপুর থেকে চাঁদপুর আসার পথে মেঘনা নদীতে ঘটে। সেখানে যাত্রীদের সহায়তায় নিরাপদে কন্যা সন্তানটি ভূমিষ্ঠ হয়।

চাঁদপুর নৌ থানা পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে এম ভি হাশিমপুর লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে এসে মোহনপুরের একলাশপুর ঘাটে ভিড়ে। ওই সময় মতলব উত্তরের জহিরাবাদ ইউনিয়নের মেঘনার পশ্চিমপাড়স্থ চিরারচর গ্রামের জনৈক আল আমিন প্রধানিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম প্রসব বেদনা নিয়ে চিকিৎসার জন্যে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে আসার উদ্দেশ্যে লঞ্চটিতে ওঠেন। সকাল দশটার দিকে লঞ্চটি চাঁদপুরের কাছাকাছি আসতেই লঞ্চের নিচতলার সিটের একটি চেয়ারে বসে থাকা ফাতেমা আক্তারের প্রসব ব্যথা ওঠে। তখন লঞ্চের অন্য নারী যাত্রীদের সহায়তায় সেখানেই তিনি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। পরে লঞ্চটি চাঁদপুর ঘাটে পৌঁছালে ঘাট সুপারভাইজার রুহুল আমিন চাঁদপুর নৌ থানা পুলিশের সহযোগিতায় প্রসূতি মা ও তাঁর সন্তানকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে গাইনি ওয়ার্ডের ১৭ নম্বর বেডে ভর্তি করেন। ওই সময় ফাতেমা আক্তারের স্বামীসহ আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহাবুবুর রহমান জানান, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্তের মাধ্যমে তিনি এই ঘটনাটি জানতে পারেন। পরে তাদেরকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাচ্চাটি সুস্থ রয়েছে। মায়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার চিকিৎসা চলছে।

লঞ্চের ঘাট সুপারভাইজার রুহুল আমিন জানান, লঞ্চের ভেতর একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এই খুশিতে লঞ্চ কোম্পানি আনন্দিত হয়ে শিশুটির জন্যে আজীবন ওই লঞ্চে যাতায়াত ফ্রি ঘোষণা দেয়। তারা এই ঘটনায় লঞ্চে মিলাদের ব্যবস্থা করেছেন।

ফাতেমা আক্তারের সঙ্গে থাকা তার ছোট ভাই জানান, তাদের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে। বোনকে মতলব উত্তরের চিরারচরে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বোনের প্রসব ব্যথা উঠলে ট্রলারে মেঘনা পাড়ি দিয়ে প্রথমে একলাশপুর আনা হয়। পরে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে আনার জন্যে সেখান থেকে ওই লঞ্চে ওঠেন এবং লঞ্চেই কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এটি ফাতেমা আক্তারের তৃতীয় সন্তান।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়