প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ২০:৫৫
চুরির আতঙ্কে দক্ষিণ বিষ্ণুদী এলাকা
একের পর এক ঘটছে চুরির ঘটনা।। বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে বৈদ্যুতিক তার, নগদ টাকা, মোবাইল চুরি।। নির্মাণাধীন ভবনও রক্ষা পাচ্ছে না
চাঁদপুর শহরের দক্ষিণ বিষ্ণুদী এলাকায় চুরির ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাঁদপুর পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত রেললাইনের দক্ষিণ পাশের বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও আশপাশের স্থাপনায় গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
|আরো খবর
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্র নিয়মিত এসব চুরি সংঘটিত করছে। অনেকেই ধারণা করছেন, এলাকার কিছু মাদকসেবীও এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন।
সর্বশেষ গত রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) দিবাগত গভীর রাতে খান সড়কে অবস্থিত হুমায়ন খানের বাড়ির ভাড়াটিয়া হাসান খানের বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা রান্না ঘরের এক্সজস্ট ফ্যান খুলে সেখান দিয়ে বাসায় প্রবেশ করে নগদ ২ লাখ টাকা এবং তিনটি দামি স্মার্টফোন চুরি করে নিয়ে যায়। সকালে বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে পড়েন এবং তারা চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যায় চাঁদপুর মডেল থানার এসআই কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে তদন্ত করেন।
এদিকে একই এলাকার খান বাড়ির সামনে নির্মাণাধীন একটি ৬তলা ভবন থেকেও বৈদ্যুতিক তার ও বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা। এতে করে নির্মাণ কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভবনের মালিক।
শুধু একটি-দুটি ঘটনা নয়, গত ২-৩ মাস ধরে দক্ষিণ বিষ্ণুদীর বিভিন্ন বাসা থেকে বিদ্যুতের তার ও এসির মোটা তার চুরির ঘটনাও বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে ওই এলাকার জহির পাটওয়ারী, নুরু পাটওয়ারী, হালিম ঢালী, হিম্মত খান, নয়ন খানসহ অনেকেই এ ধরনের চুরির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের নিয়মিত টহল না থাকায় চোরচক্র দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। রাতের বেলায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় চোরেরা সহজেই তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী দ্রুত এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, নিয়মিত কমিউনিটি পুলিশের টহল জোরদার, সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হলে এসব চুরির ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।
চুরির এমন ধারাবাহিক ঘটনায় দক্ষিণ বিষ্ণুদীর বাসিন্দারা এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।ছবি ক্যাপশন : চাঁদপুর শহরের খান সড়কে অবস্থিত হুমায়ন খানের বাড়ির ভাড়াটিয়া হাসান খানের বাসার রান্না ঘরের এক্সজস্ট ফ্যান খুলে এভাবেই বাসায় প্রবেশ করে নগদ ২ লাখ টাকা এবং তিনটি দামি স্মার্টফোন চুরি করে নিয়ে যায়।








