সোমবার, ০৯ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ২২:৩৬

ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরিতে অভিযুক্তের আত্মহত্যা!

প্রবীর চক্রবর্তী।।
ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরিতে অভিযুক্তের আত্মহত্যা!

ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে। হাঁস চুরির ঘটনার বিচার হিসেবে নাকে খত দেয়া ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করার পর অভিযুক্ত মাসুম (১৯) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের মিজি বাড়িতে।

জানা গেছে, মিজি বাড়ির আলাউদ্দিন মিজির বড়ো ছেলে মাসুম (১৯) ও তার সঙ্গী পার্শ্ববর্তী পাটওয়ারী বাড়ির নয়ন পাটওয়ারীর ২টি চায়না হাঁস ও ১টি দেশি হাঁস গত শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) রাতে চুরি করে। ওই রাতেই চুরি করা হাঁস তিনটি নয়ন পাটওয়ারীর জেঠাতো বোন রাবেয়ার কাছে ১৪শ' টাকায় বিক্রি করে। এ ঘটনা শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) সকালে প্রকাশ হওয়ার পর অভিযুক্ত মাসুমের ঘরে এলাকার যুবকরা কয়েক দফা যায়। এক পর্যায়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান রোববার (৮ মার্চ ২০২৬) সকালে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে সালিস করেন। চুরির ঘটনায় মাসুমকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে ঘটনাস্থলে নাকে খত দেয়ান এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ ঘটনার পর বিকেলে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে মাসুম নিজের বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এদিকে স্থানীয় লোকজন জানান, মাসুমসহ বেশ ক'জন এলাকায় ছোটোখাটো চুরির সাথে জড়িত। এছাড়া এলাকায় একটি মাদক সিন্ডিকেট রয়েছে।

আত্মহত্যার ঘটনা শুনে রোববার রাতে ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায় মাসুমের নিথর দেহ নিয়ে স্বজনদের আহাজারি। তারা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই করুণ মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না। তাদের দাবি, হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় ঘরে হামলা, ভাংচুর ও মাসুমকে মারধর করা হয়। সর্বশেষ রোববার বিচারের সময় মাসুম ও তার মাকে অপমানজনক কথা বলা হয়। মাসুমকে সকলের সামনে নাকে খত দিতে বাধ্য করা হয়। তাই সে অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে।

মাসুমের মা মৌসুমী জানান, তার বড়ো ছেলে মাসুম তিনটি হাঁস চুরি করেছে। এই চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক দফা এলাকার ছেলেরা তার বসতঘরে এসে ছেলেকে শাসিয়ে যায় এবং মারধর করে। রোববার সকালে স্থানীয় মিজান মেম্বারের নেতৃত্বে বিচার হয়। বিচারে তার ছেলেকে দোষী করে নাকে খত দেয়ায় এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। এ সময়ে আমাকে ও আমার ছেলেকে নানা কথায় অপমান করে তারা। বিচার শেষে বিকেল ৩টার দিকে আমি মাদ্রাসায় যাই। সেখানে যাওয়ার পর ৪টার দিকে সংবাদ পাই আমার ছেলে অপমান সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়েছে। চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার ঘর ভাংচুর করা হয়েছে।

মাসুমের খালা সুমী বেগম বলেন, আমার বোনের ছেলের মৃত্যুর ঘটনার বিচার চাই। তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে।

সাবেক ইউপি সদস্য আ. গনি জানান, আমি এই বাড়ির অভিভাবক। এলাকার চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচার করা হয়েছে। অথচ আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। বিচার যথাযথ হয়েছে কিনা তা আমি নিশ্চিত নই। তবে এই মৃত্যুটি মেনে নেয়া যায় না।

পাটওয়ারী বাড়ির নয়ন পাটওয়ারী জানান, শুক্রবার রাতে তাদের ঘর থেকে তিনটি হাঁস চুরি হয়। পরদিন শনিবার সকালে জানতে পারি আমার জেঠাতো বোন রাবেয়ার কাছে মাসুম ও আল আমিন ১৪শ' টাকায় তিনটি হাঁস বিক্রি করেছে। এরপর আমরা তার বাড়িতে যাই। কিন্তু সে খারাপ আচরণ করে। পরবর্তীতে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানকে জানালে তিনি রোববার বিচারের ব্যবস্থা করেন ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, হাঁস চুরির ঘটনা জেনে আমি এলাকার লোকজন নিয়ে বিচারে বসি। বিচারে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং চুরি ছেড়ে দেয়ার জন্যে নাকে খত দিতে বলি। জরিমানার টাকা সে আয় রোজগার করে দেবে। সন্ধ্যার দিকে শুনতে পাই, সে নিজের ঘরে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনা পুলিশকে জানিয়েছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়