প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ২০:০৫
আদালতের রায়ের অপেক্ষা না করেই ফরিদগঞ্জে বাগান থেকে গাছ কেটে সাবাড়

দফায় দফায় হয়েছে সালিস। সমাঝোতা না হওয়ায় বিজ্ঞ আদালতে চলছে সম্পত্তি নিয়ে মামলা। রায়ের অপেক্ষা না করেই নালিশি সম্পত্তির বাগান থেকে জোরপূর্বক হাজার হাজার টাকার গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের দায়চারা গ্রামের মোল্লা বাড়িতে শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) ঘটে।
|আরো খবর
জানা যায়, ওই বাড়ির ভুক্তভোগী নেছার আহাম্মদ গংয়ের সাথে একই বাড়ির বাসিন্দা মো. ফজলুল করিম গংয়ের দীর্ঘদিন যাবত সম্পত্তিগত বিরোধ চলমান রয়েছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাঝোতা বৈঠক ও গ্রাম আদালতে সালিস বৈঠক করেও সমাধান হয়নি। এ সম্পত্তি নিয়ে গত ক'বছর যাবত বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
আদালতে মামলা চলমান থাকাবস্থায় প্রতিপক্ষ মো. ফজলুল করিম গং শুক্রবার থেকে জোরপূর্বক নালিশি সম্পত্তি (বাগান) থেকে লোকবল নিয়ে গাছ কাটা শুরু করে। এতে বনজ ও ফলদসহ হাজার হাজার টাকার গাছ নষ্ট হয় নালিশি সম্পত্তির। ৯৯৯-এ অভিযোগ পেয়ে শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে আসেন।ভুক্তভোগী নেছার আহাম্মদের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন বলেন, আমরা গত প্রায় ৩০ বছর পূর্বে ক্রয়সূত্রে এ সম্পত্তির মালিক হয়ে ভোগদখল করে আসছি। গত ৬ বছর পূর্বে এ সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। পরে আমরা আদালতে মামলা করেছি, আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিলেও প্রতিপক্ষ মো. ফজলুল করিম গং ওই রায় মানতে নারাজ। তারা পুনরায় আদালতে মামলা করেছে। মামলা চলমান থাকাবস্থায় তারা জোরপূর্বক আমাদের গাছগাছালি কাটা শুরু করেছে। আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিজ্ঞ আদালতের কাছে বিচার চাই।
এদিকে গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে মো. ফজলুল করিম বলেন, গাছ তাদের এটা সত্য, তবে সম্পত্তি আমাদের, তাই দখলে যাওয়ার জন্যে গাছ কেটেছি। আদালতে চলমান মামলার নালিশি সম্পত্তি থেকে গাছ কাটা কতোটুকু সঠিক হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি একাধিকবার মাপ জরিপ করার কথা বললেও মামলার দোহাই দিয়ে তারা মাপ জরিপে অংশগ্রহণ করছে না। তাই মামলা থাকা সত্ত্বেও আমি সম্পত্তি দখলে যাওয়ার জন্যে গাছ কেটেছি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন আহাম্মদ রাজন বলেন, এ বিষয়ে আমার পরিষদে একটি মামলা হয়েছিলো। একাধিকবার বৈঠক হয়েছে, সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। আদালতে মামলা চলছে, আদালতকে সম্মান জানালে উভয়পক্ষের জন্যে কল্যাণকর হবে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) আকাশ বলেন, জরুরি সেবা (৯৯৯) নাম্বারে অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। গাছ কাটার বিষয়টি সত্য। আমরা গাছ কাটতে বারণ করে ঘটনাস্থলে শান্তিশৃৃঙ্খলা বজায় রেখে উভয়পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলেছি। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।








