প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০০:৩৯
সৌদি দাতার অর্থায়নে নির্মিত ফরিদগঞ্জের চৌমুুখা গ্রামের দৃষ্টিনন্দন মসজিদ

নিভৃত পল্লীতে আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক কারুকাজে নির্মিত এক মসজিদ ওই এলাকার মানুষের এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই মসজিদটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের চৌমুখা গ্রামে নির্মিত হয়েছে। তবে এর নির্মাণ কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
জানা যায়, পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের কাশারা গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবুল কালাম ভুঁইয়ার প্রচেষ্টায় এবং চৌমুখা গ্রামের মাহবুব পাটওয়ারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ভূমিদানে পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের চৌরঙ্গি বাজার সংলগ্ন পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের চৌমুখা গ্রামে সৌদি আরবের নাগরিক ওথমান বিন সাঈয়েদ আল ওথমান এবং তাঁর স্ত্রী হামদা বিনতে সালেহ আল দানিশের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে এ দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি। প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এ মসজিদটির এখনও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। সৌদি নাগরিক ছাড়া স্থানীয় লোকজনও এ মসজিদ নির্মাণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন।
আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক কারুকাজে নির্মিত মসজিদটি দূর-দূরান্ত থেকে আগত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরের অংশে মনোমুগ্ধকর নকশা, দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ ও মিনার সংযোজন করা হয়েছে, যা এর সৌন্দর্যকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হোসাইন আহাম্মদ রাজন শেখ বলেন, মসজিদটি শুধু ইবাদতের স্থানই নয়, এটি আমাদের গ্রামের তথা এই অঞ্চলের একটি আকর্ষণীয় স্থাপনায় রূপ নিয়েছে। ভবিষ্যতে এটি ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হবে বলে প্রত্যাশা করছি। ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে আমরা সৌদি আরবের দাতা ওথমান বিন সাঈয়েদ আল ওথমান এবং তাঁর স্ত্রী হামদা বিনতে সালেহ আল দানিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের একটি সুন্দর ও আধুনিক মসজিদ আমাদের ইউনিয়নের জন্যে গর্বের বিষয়। বিদেশি দাতার সহায়তায় এমন একটি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মিত হওয়ায় এলাকাবাসী আনন্দিত।
নির্মাণকাজে জড়িত স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ হোসেন জানান, প্রায় দু বছর আগে মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়, যা এখনো চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত নির্মাণকাজে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ও ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক প্রভাষক সফিকুল ইসলাম জানান, এই মসজিদে প্রতি ওয়াক্তে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। ফরিদগঞ্জে এতো সুন্দর মসজিদ আর নেই। আমাদের গ্রামে এমন দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করায় সৌদি আরব ও বাংলাদেশের যারা নির্মাণকাজে জড়িত, তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মসজিদটি ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








