সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   ১৬-২৫ মার্চ নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে : নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪২

অযত্নে-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পের গাড়িগুলো

প্রবীর চক্রবর্তী।।
অযত্নে-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পের গাড়িগুলো

অযত্নে-অবহেলায় ও অরক্ষিত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার গাড়িসমূহ। এতে নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ । পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আসা ও ক্রয় করা ট্রাক, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গাড়ি, পয়ঃ নিষ্কাশনের গাড়ি, মালামাল পরিবহনের গাড়ি, ভেকু ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার না করা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর তথা ফরিদগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন ও গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের কিছু অংশ ও পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে বৃহৎ এই পৌরসভার দ্বিতীয় জন্ম তথা পথচলা শুরু হয়।

প্রথমে তৃতীয় শ্রেণি ও পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় ও প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত পৌরসভাটি এখন পর্যন্ত পৌর নাগরিকদের পুরোপুরি সুবিধা প্রদান করতে সক্ষম হয়নি। প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার পর আইইউজিপি প্রকল্প, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রকল্প ও কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বরাদ্দ আসার সাথে সাথে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পয়ঃনিষ্কাশনের জন্যে বেশ ক'টি গাড়ি সরবরাহ করা হয় প্রকল্প থেকে। কিন্তু এই গাড়িগুলোর অধিকাংশই ব্যবহৃত না হয়ে খোলা আকাশের নিচে অযত্নে ও অবহেলায় দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকায় ও নিয়মিত ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক গাড়ির চাকা বসে গেছে, ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেছে এবং কিছু যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ক'টি গাড়ি।

পৌর নাগরিক কমিটির মোশারফ হোসেন বলেন, পৌরসভার বাসিন্দা হিসেবে একদিকে আমরা যেমন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত, অপরদিকে সরকার আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পয়ঃ নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার জন্যে গাড়ি দিলেও সেগুলো ব্যবহার না করে কর্তৃপক্ষ পৌরসভার সামনে ফেলে রেখেছে। এতে একদিকে সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পৌরবাসীও এসবের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আশা করবো দ্রুত কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।

পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ আবু সুফিয়ান বলেন, ৫ আগস্ট আমাদের একটি গাড়ি পুড়ে যাওয়া ও ক'টি গাড়ি ভাংচুর হয়েছে। এগুলো মেরামতের জন্যে মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে আরো আগেই। আশা করছি নতুন সরকার এসেছে, এখন দ্রুত বরাদ্দ মিলবে।

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্যে জমি ক্রয়ের বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে অনুমোদন ও ভূমি ক্রয় করতে পারলে বর্জ্য ও পয়ঃ নিষ্কাশনের গাড়িগুলো এমনিতেই সচল হয়ে উঠবে। এছাড়া মেরামতের জন্যে বরাদ্দের জন্যে লিখেছি। আশা করি বরাদ্দ পেলে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রণালয়ে তদবির না করলে দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া মুশকিল। রাজনৈতিক সরকার এসেছে, আশা করছি এবার তদবির করা সম্ভব হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়