প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:৫৯
একটি নজরকাড়া ইবাদতকেন্দ্র
গোলাকার স্থাপত্যে নির্মিত রওশনআরা মসজিদ

চাঁদপুর শহরের ইচলীঘাট অভিমুখী রোডে রওশন রাইস মিল সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন রওশনআরা মসজিদ ইতোমধ্যেই দৃষ্টি কেড়েছে সাধারণ মানুষ ও স্থাপত্যপ্রেমীদের। প্রচলিত গম্বুজ ও মিনারনির্ভর নকশার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে নির্মিত এই মসজিদটি নান্দনিকতা ও আধুনিক স্থাপত্যচিন্তার এক সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠছে।
দুতলাবিশিষ্ট মসজিদটি সম্পূর্ণ সিরামিক ইট দিয়ে নির্মিত। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো গোলাকার নকশা। সামনের অংশটি সম্পূর্ণ গোলাকার কাঠামোয় তৈরি, যা শহরের ব্যস্ত সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে এক আলাদা সৌন্দর্য তৈরি করেছে। বাইরে থেকে যেমন দৃষ্টিনন্দন, ভেতরে প্রবেশ করলেও তেমনই প্রশান্তির অনুভূতি দেয় এর স্থাপত্য।
মসজিদের ভেতরের মেঝেতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নতমানের মার্বেল টাইলস। দেয়ালজুড়ে রয়েছে সিরামিক ইটের নান্দনিক নকশা, যেখানে আলো-বাতাস চলাচলের জন্যে সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পিত ফাঁক রাখা হয়েছে। এতে একদিকে প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করছে, অন্যদিকে ভেতরের পরিবেশকে করছে আরামদায়ক। সিঁড়িগুলোতেও দেখা যায় ব্যতিক্রমী ভাবনা।ফাঁক ফাঁক করে পাকা পাটাতনের ব্যবহার, যা আলো-ছায়ার সুন্দর খেলা তৈরি করে এবং স্থাপনাটিকে দেয় আধুনিক চরিত্র।
এই ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশিল্পের মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে একজন খ্যাতনামা চিত্রশিল্পীর একক অর্থায়নে। আর তিনি হলেন চাঁদপুরের সুপরিচিত ঢাকা কনফেকশনারী ও রওশন রাইস মিলসের মালিকের ভাই, স্পেনপ্রবাসী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম। শিল্প ও নান্দনিকতার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগই এই মসজিদের নকশা ও নির্মাণ ভাবনায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
জানা গেছে, মসজিদ নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৬ লাখ টাকা। বাকি রয়েছে কিছু আনুষঙ্গিক কাজ। দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। পুরো স্থাপনাটির নকশা করেছেন ঢাকার স্থপতি ফাইমা রহমান। আধুনিক স্থাপত্যরীতি ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সমন্বয়ে তাঁর নকশা মসজিদটিকে দিয়েছে ভিন্নতর পরিচয়। নির্মাণকাজের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার হোসেন মোহাম্মদ সোরাউদ্দিন ইমন। তিনি জানান, মসজিদের নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে পবিত্র রমজানের শেষের দিকেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নির্মাণকাজ চলমান থাকায় স্থানীয় অনেক মুসল্লি মসজিদের পাশে ছোট পরিসরের নামাজঘর কিংবা কিছুটা দূরের মসজিদে গিয়ে নিয়মিত নামাজ আদায় করছেন। এতে বিশেষ করে জুমা ও রমজানের সময় মুসল্লিদের কিছুটা অসুবিধা হয়। তবে রওশনআরা মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এই এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্যে একটি বড়ো ও পরিপাটি ইবাদতকেন্দ্র তৈরি হবে বলে তারা আশাবাদী। গোলাকার নকশায় নির্মিত এই মসজিদে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন, যা এলাকার দীর্ঘদিনের প্রয়োজন পূরণ করবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কাজ শেষ হলে রওশনআরা মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, এটি চাঁদপুর শহরের জন্যে হবে একটি নান্দনিক স্থাপত্য সংযোজন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শিল্পীসত্তা ও আধুনিক নকশার মেলবন্ধনে নির্মিত এই মসজিদ ভবিষ্যতে এলাকার মানুষের জন্যে যেমন ইবাদতের প্রশান্ত স্থান হবে, তেমনি শহরের স্থাপত্য ঐতিহ্যে যুক্ত করবে এক নতুন মাত্রা।








