মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্লা সেলিম!

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩০

খেলাধুলায় খরচটাকে ব্যয় নয়, বিনিয়োগ হিসেবে দেখি

প্রধান শিক্ষক মো. গোফরান হোসেন

সেলিম রেজা
খেলাধুলায় খরচটাকে ব্যয় নয়, বিনিয়োগ হিসেবে দেখি

চাঁদপুর শহরের অন্যতম বিখ্যাত ক্রীড়াবান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আক্কাছ আলী রেলওয়ে একাডেমি। এটি চাঁদপুর কোর্ট স্টেশন থেকে বড় স্টেশন অভিমুখী সড়ক ও চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত। এ প্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. গোফরান হোসেন। তিনি অতি সম্প্রতি চাঁদপুর কণ্ঠের ‘ক্রীড়াকণ্ঠ’ বিভাগের মুখোমুখি হন। তিনি ক্রীড়া বিষয়ে বলেন নানা কথা। প্রশ্নোত্তর আকারে তাঁর কথাগুলো নিচে পত্রস্থ করা হলো

ক্রীড়াকণ্ঠ : শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়াকে আপনি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে কতোটা গুরুত্ব দেন? দিয়ে থাকলে কেন?

মো. গোফরান হোসেন : শিক্ষার পাশপাশি আমি ক্রীড়াকে সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কারণ, ক্রীড়াটাও শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুস্থ দেহ, সুস্থ মন খেলাধুলায় থাকবো যতক্ষণ। যা শিক্ষার জন্যে গুরুত্বপূর্ণ। ক্রীড়াকে এখন পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া যায়। আমার প্রতিষ্ঠানের ২ জন ছাত্রী ক্রীড়া কোটায় সেনাবাহিনীতে চাকুরি করছে। ৩-৪ জন বিকেএসপিতে আছে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার বিদ্যালয়ের যেমন বড়ো মাঠ আছে, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার তেমন বড়ো আয়োজন হয় কি? বার্ষিক ক্রীড়া ছাড়া আন্তঃশ্রেণী ক্রিকেট ও ফুটবল হয় কি?

মো. গোফরান হোসেন : হ্যাঁ, আমার বিদ্যালয়ে বড়ো মাঠ আছে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় বড়ো আয়োজন হয়। বার্ষিক ক্রীড়া ছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীদের আলাদা দল ও হাউজভিত্তিক আন্তঃশ্রেণী ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা হয়ে থাকে। আগামী (আজ) ৭ এপ্রিল বিদ্যালয় মাঠে একটি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : জেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশনা মোতাবেক আপনারা ক্লাবভিত্তিক, হাউজভিত্তিক ক্রীড়াচর্চায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপৃত রাখেন কিনা?

মো. গোফরান হোসেন : আসলেই আমাদের প্রতিষ্ঠানটি জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। এ প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া নৈপুণ্যের সুনাম রয়েছে। আমরা অতীত থেকেই এগুলো করে আসছি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার বিদ্যালয়ে ক্রীড়া শিক্ষক আছে কিনা? তার নাম কী? তিনি বিপিএডের সনদে চাকুরি পেয়েছেন, না শিক্ষাজীবনে ভালো খেলোয়াড় হবার গুণে চাকুরি পেয়েছেন? কীভাবে চাকুরি পেয়েছেন, সেটা জানার বিষয় নয়, তিনি ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে কতোটুকু দায়িত্ব পালন করছেন, সেটা জানার বিষয়। জানাবেন কি?

মো. গোফরান হোসেন : আছে। সায়মা আহমেদ চৌধুরী। তিনি সরকারি বিপিএড কলেজ থেকে ট্রেনিংপ্রাপ্ত একজন সনদধারী অত্যন্ত পরিশ্রমী ও চৌকষ ক্রীড়াবিদ। এনটিআরসির মাধ্যমে তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি যথেষ্ট দায়িত্বশীল। তার মাধ্যমে আমরা জেলা এবং জাতীয় পর্যায়ে অনেক পুরস্কার পেয়েছি। আমি নিজেও একজন ক্রীড়ামোদী মানুষ। সময় ও সুযোগ পেলে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়ার জন্যে মাঠে চলে যাই। তাদের সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকি। কারণ খেলাধুলার খরচটাকে আমি ব্যয় হিসেবে দেখি না, বিনিয়োগ হিসেবে দেখি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : একসময় আপনার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাঁতারে বেশ অগ্রণী ছিলো? আপনাদের ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীরা বর্তমানে সাঁতারে কেমন আগ্রহী? আপনাদের বার্ষিক ক্রীড়ায় সাঁতারের কোনো ইভেন্ট থাকে কি?

মো. গোফরান হোসেন : হ্যাঁ, আপনার কথা সত্য। আমার পৃষ্ঠপোষকতার কারণে বর্তমানে ছেলে-মেয়েরা সাঁতারে বেশ আগ্রহী। বর্তমানেও আমার প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রী বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন কর্তৃক ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হয়ে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সাঁতারে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। বার্ষিক ক্রীড়ায় সাঁতারে ইভেন্ট থাকে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার বিদ্যালয়ে ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা আছে কি? এ গেমসে মেয়েরা বেশি আগ্রহী, না ছেলেরা?

মো. গোফরান হোসেন : না। আমার বিদ্যালয়ে ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা সেভাবে নাই। তবে দাবা হয়ে থাকে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ বিষয়ে আমি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবো। ইনডোর গেমসে মেয়েরা আগ্রহী বেশি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : ক্রীড়াচর্চায় ঘাটতির ক্ষেত্রে মোবাইল আসক্তিকে আপনি কতোটা দায়ী করেন?

মো. গোফরান হোসেন : ক্রীড়া চর্চায় ঘাটতির ক্ষেত্রে মোবাইল আসক্তি কিছুটা দায়ী। যখন তারা মাঠে থাকবে অথবা খেলাধুলায় থাকবে, হয়তো ততক্ষণ মোবাইল আসক্তি দূরে থাকবে। কিন্তু মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে থাকতে হলে পারিবারিক এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সচেতনতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়াসহ সকল সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম জোরদার করলে কি মোবাইল আসক্তি দূর করা সম্ভব? এ সকল কার্যক্রম চালুতে আপনি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে কোনো প্রতিবন্ধকতা অনুভব করেন কি? সেটা কি আর্থিক, উপকরণগত না অন্য কিছু?

মো. গোফরান হোসেন : অনেকটাই সম্ভব। কারণ তারা তখন পড়ালেখায় মনোযোগী হবে। প্রতিবন্ধকতা আর্থিক এবং উপকরণগত উভয়ই আছে। এছাড়াও আমার মাঠটি সংস্কার ও সীমানা প্রাচীর না থাকায় অনেক সময় নানান প্রতিন্ধকতাসহ অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ক্রীড়া সামগ্রী রাখার জন্যে আলাদা কক্ষ এবং ফার্নিচারের অভাব রয়েছে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : ‘সুস্থ দেহে সুস্থ মন’ এ প্রবাদের যথার্থতায় ক্রীড়ার ভূমিকা কী?

মো. গোফরান হোসেন : ‘সুস্থ দেহে সুস্থ মন’ ক্রীড়ার ভূমিকা সর্বোচ্চ। কারণ সুস্থ থাকতে হলে খেলাধুলার বিকল্প নেই। মানুষ যখন সুস্থ থাকে, তখন তার মনও ভালো থাকে। ক্রীড়াতে না শুধু, পড়ালেখাও তখন ভালো হয়। এতে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব, সামাজিকতা, দায়বদ্ধতাসহ নানান দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হয়।

ক্রীড়াকণ্ঠ : উপরের প্রশ্নমালার বাইরে আপনার অন্য কোনো বক্তব্য থাকলে বিবৃত করতে পারেন।

মো. গোফরান হোসেন : আমি গত ১৭ বছর ক্রীড়ায় সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা পাইনি। তাই আমি আপনাদের মাধ্যমে আমাদের সকলের প্রিয় মাননীয় সাংসদ (চাঁদপুর-৩) শেখ ফরিদ আহমেদ (মানিক) ভাইয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, আমার মাঠ সংস্কার, মাঠে একটি বাস্কেটবল গ্রাউন্ড, সীমানা প্রাচীর এবং গেইট নির্মাণ করে দেওয়ার জন্যে বিনীত অনুরোধ করছি। কারণ, এখানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের অনেক জেলা পর্যায়ের খেলা হয়ে থাকে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় অনেক সময় নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়