মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   কৃতী সাঁতারু মো. আল-আমিন এখন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সাঁতার প্রশিক্ষক
  •   খেলাধুলায় খরচটাকে ব্যয় নয়, বিনিয়োগ হিসেবে দেখি
  •   প্রতিভাবান ক্রিকেটার তৈরিতে সুপরিচিত ‘অঙ্গনা ক্লাব’
  •   জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজন : চাঁদপুর সদরে সাঁতার প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি
  •   হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে ৩৫ লাখ টাকার কাজ শুরু
  •   হেরার আলো
  •   এইদিনে
  •   বাণী চিরন্তন
  •   আল হাদিস
  •   অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সেবা!

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৯

প্রতিভাবান ক্রিকেটার তৈরিতে সুপরিচিত ‘অঙ্গনা ক্লাব’

মো. মিজানুর রহমান
প্রতিভাবান ক্রিকেটার তৈরিতে সুপরিচিত ‘অঙ্গনা ক্লাব’

চাঁদপুরের ক্রিকেট অঙ্গনে, বিশেষ করে জেলাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় একটি সুপরিচিত নাম ‘অঙ্গনা ক্লাব’। ক্লাবটি স্থানীয় পর্যায়ের ক্রিকেট অঙ্গনে, বিশেষ করে জেলাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় একটি সুপরিচিত নাম। যা প্রতিভাবান ক্রিকেটার তৈরিতে কাজ করে আসছে। ক্লাবটি সাধারণত তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ ও বিকাশে ভূমিকা রাখে।

চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত যে ক’টি ক্লাব রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম অঙ্গনা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ক্রীড়া সংগঠন, যেটি সংক্ষেপে ‘অঙ্গনা ক্লাব’ নামে বহুল পরিচিত। যার প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৮৬ সাল। স্থানীয় ক্রিকেটে প্রতিভার নৈপুণ্যে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে অঙ্গনা ক্লাবের বেশ সুনাম রয়েছে।

জনপ্রিয় এই ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফারুক খান ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর। প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর অকালে মৃত্যুবরণ করেন। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির পরবর্তীতে ক্লাব সভাপতি হন শফিক উল্লাহ সরকার। তিনি নাজির পাড়া ক্রীড়া চক্রের সভাপতির দায়িত্ব নিলে অঙ্গনা ক্লাব পরিচালনায় সভাপতির দায়িত্বে আসেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ওমর পাটোয়ারী।

উদীয়মান খেলোয়াড়দের সুযোগ তৈরি করে দিতে ‘অঙ্গনা ক্লাবে’র ভূমিকা অসাধারণ। তৃণমূলের ক্রিকেটারদের প্রতিভার পরিচর্যা করে জেলা দল এবং পরবর্তীতে বিভাগীয় ও জাতীয় দলের জন্যে প্রস্তুত করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে ও রাখছে।

সম্প্রতি ক্লাবের এক সভায় নতুন করে ক্লাবের খেলাধুলাকে আরো গতিশীল করার জন্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে কার্যকরী এবং উপদেষ্টা কমিটিও গঠন করা হয়।

অঙ্গনা ক্লাবের মূল বৈশিষ্ট্য

ক্রীড়া চর্চা। সংগঠনটি মূলত স্থানীয় ক্রীড়া প্রতিভার বিকাশ, ক্রিকেট, ফুটবল ও অন্যান্য খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সাথে জড়িত। ক্রীড়াচর্চার পাশাপাশি ক্লাবটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও কম-বেশি সক্রিয়। ক্লাব সংশ্লিষ্ট ক’জনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে চাঁদপুর শহরের ট্রাক রোডস্থ বটতলাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠে অঙ্গনা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ক্রীড়া সংগঠন। ক্রীড়ার পাশাপাশি একটু ভিন্ন বা ব্যতিক্রমধর্মী সাহিত্য সাংস্কৃতিক শব্দ যোগ করেন ক্লাবটির উদ্যোক্তাগণ। এলাকার চাঁদপুর সরকারি কলেজের ক’জন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের পরামর্শে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শহরের প্রতিষ্ঠিত ক্লাবের মাঝে অঙ্গনা ক্লাবের আবির্ভাবের বিষয়টি আশেপাশের ক্লাবগুলো ভালো চোখে দেখেনি। এজন্যে এক প্রকার অসহযোগিতা তারা পেয়েছিল। তবুও অঙ্গনা ক্লাবের উদ্যোক্তারা দমে যাননি। তখনকার তরুণ উদীয়মান সংগঠক ফারুক খানকে সভাপতি এবং জাহাঙ্গীর কবীরকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে একটি কমিটি গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটিতে ক্রীড়া সম্পাদক ডিউক, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মিজানুর রহমান খান লিটন, কোষাধ্যক্ষ লিমন পোদ্দার, ক্লাব কর্মকর্তা আলমগীর গাইনসহ নাম না জানা আরো কয়েকজন ছিলেন বলে জানা যায়।

বটতলা পালপাড়া এবং খান বাড়ির মধ্যবর্তী স্থানে। অস্থায়ীভাবে এখানটাই অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কখনো কোনো দোকানের একাংশ কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কার্যালয়ের জন্যে পালপাড়া ও বটতলার দু-একটি স্থান প্রস্তাবিত হলেও আদৌ গড়ে উঠেনি স্থায়ী কোনো কার্যালয়। চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে ক্লাবগুলোর অফিস হিসেবে ব্যবহারের জন্যে চাঁদপুর স্টেডিয়াম গ্যালারির নিচে বরাদ্দ দেয়া হলে অঙ্গনাও একটি জায়গা বরাদ্দ পায়। এর বাইরে ৪০ বছর পার হলেও ক্লাবটি স্থায়ীভাবে কোনো কার্যালয় গড়ে তুলতে পারেনি।

প্রতিষ্ঠাতাকালীন ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবে যারা ছিলেন, তারা হচ্ছেন : জায়েদ আল হাসান রিফাই, শেখ সোহেল, জাহাঙ্গীর কবীর, ছক্কা কালু, দু ভাই রিয়াজ-মাসুদ, রহমতপুর আবাসিক এলাকার শোয়েব, রাসেল, হাবিব, মাজহারুল হকসহ আরো অনেকে।

৯০ দশকের প্রথম দিকে ক্লাব পরিচালনায় অর্থ সংকটে পড়লে এলাকাবাসী দ্বারস্থ হন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক শফিক উল্লাহ সরকারের নিকট। স্থানীয় তরুণ উদীয়মান যুবকদের কথা রাখতে গিয়ে সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। তারপর অনেকটা সময়ই তিনি সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সমাজসেবক ওমর পাটোয়ারীকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করে নাজির পাড়া ক্রীড়া চক্রের সভাপতির দায়িত্বে চলে যান। শফিক উল্লাহ সরকার সভাপতি থাকাকালীন সময়ে অঙ্গনা ক্লাব গৌরবোজ্জ্বল সময় পার করেছে। তিনি আজ আর বেঁচে নেই। কিন্তু রয়ে গেছে তার বহু স্মৃতি।

শফিক উল্লাহ সরকারের পর বিশিষ্ট সমাজসেবক ওমর পাটোয়ারী দীর্ঘ সময় সভাপতি হিসেবে ক্লাবটির দায়িত্ব পালন করেন। এরই মধ্যে ক’জন সভাপতি পরিবর্তন হলেও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জাহাঙ্গীর কবীরই দায়িত্বপালন করে

চলছিলেন। জীবনের একটা লম্বা সময়ে প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর ক্লাবটির জন্যে মনপ্রাণ উজাড় করে দেন। জানা যায়, ক্লাব পরিচালনা করতে গিয়ে তার সম্পদও বিক্রি করতে হয়েছে। সভাপতি ওমর পাটোয়ারী নাজিরপাড়া ক্রীড়া চক্রের সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করলে

প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীরকে আহ্বায়ক এবং গাউসুল আলমকে সদস্য সচিব করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি গঠিত হওয়ার কয়েক মাস পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবীর। এ সময় ক্লাব পরিচালনায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন ক্লাব কর্মকর্তা হাবিব খান এবং মারুফ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার দ্বারা গণঅভ্যুত্থানের পর ক্লাবটিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয় মিশন রোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা, চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন খানকে। আর সাধারণ সম্পাদক করা হয় আহমেদ জায়েদ আল হাসান রিফাইকে।

সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন খান মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এমতাবস্থায় সম্প্রতি ক্লাবটির সভাপতি নির্বাচিত হন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠক আহমেদ জায়েদ আল হাসান রিফাই এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ক্লাবের প্রাক্তন খেলোয়াড় ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মহসিন পাটোয়ারী। ক্লাবের সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবক ওমর পাটোয়ারীকে উপদেষ্টা সভাপতি নির্বাচিত করে একটি উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করা হয়।

এবারের ঈদ পুনর্মিলনীতে নতুন কমিটি নব উদ্যমে ক্লাবের সকল কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে প্রত্যয় ব্যক্ত করে। তারা খেলাধুলার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও সাহিত্যাঙ্গনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

ক্লাবের একজন কর্মকর্তা কে এম সালাউদ্দিন জানান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিয়মিত লীগ- টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ক্লাবটি ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। জেলার বাইরে লাকসামে একটি আন্তঃজেলা ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। সর্বশেষ অঙ্গনা ক্লাব ২০২৩-২৪ সালে চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে অংশগ্রহণ করে। লীগে আবাহনী ক্লাবের সাথে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়। আম্পায়ারের বিতর্কিত ডিসিশনে অঙ্গনা ক্লাব প্রথম বিভাগ প্রিমিয়ার লীগে পরাজিত হয়। তিনি আরো জানান, ক্লাবের যাত্রাকালে আশেপাশের এলাকা থেকে তৈরি করা হয়েছিলো ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা। কিন্তু শহরের পালপাড়াবাসী এবং খান বাড়ির লোকজনের সার্বিক সহযোগিতায় আজ অঙ্গনা চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্যতম একটি ক্লাব হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়