প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৮
হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে ৩৫ লাখ টাকার কাজ শুরু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে চাঁদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। গত বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠের বাউন্ডারির নির্মাণ কাজ ধরেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা মাঠটিকে খেলাধুলার উপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, চলমান প্রকল্পের আওতায় মাঠের পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ পাশে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করা হবে। দেয়াল নির্মাণে কোনো রং ব্যবহার করা হবে না, বাউন্ডারির দেয়াল টেকসই করার জন্যে সিরামিক জাতীয় উপকরণ ব্যবহার করা হবে। স্কুল ভবন থেকে চাঁদপুর মুক্তিযোদ্ধা সড়ক পর্যন্ত এই কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে আব্দুল কাদের বেপারীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
প্রায় ৫/৬ মাস পূর্বে চাঁদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিনের উদ্যোগে হাসান আলী মাঠসহ জেলার ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ সংস্কারের জন্যে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পূর্বে এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানিয়েছিলেন, মাঠের জন্যে প্রাক্কলন তৈরি করে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত কাজ শুরু করার কথা জানান তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার হাসান আলী মাঠের কাজটি শুরু করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হলেও কাজের চাহিদা ও পরিধি বিবেচনায় তা সংশোধন করে অতিরিক্ত অর্থ বাড়ানো হতে পারে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুল হক জানান, মাঠ সংস্কারের জন্যে প্রাথমিকভাবে ৩৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কাজের ধরণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে। আমরা চাই মাঠটি সুরক্ষিত ও আধুনিকভাবে গড়ে উঠুক, যাতে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে খেলাধুলা করতে পারে।
উল্লেখ্য, এক সময় খেলাধুলা, সভা-সমাবেশ ও ঐতিহ্যবাহী বিজয় মেলার জন্যে পরিচিত এই মাঠটি গত কয়েক বছর ধরে হকারদের দখলে পড়ে কার্যত হাট-বাজারে পরিণত হয়েছিল। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মাঠের বিভিন্ন অংশ দখল করে বসতো কাপড়, খেলনা, চটপটি-ফুচকা ও ভ্রাম্যমাণ দোকান। এতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলেও সৃষ্টি হতো ভোগান্তি। শুধু তাই নয়, হকারদের লাগামহীন অবস্থানের কারণে মাঠের চারপাশের সবুজ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমানাজুড়ে লাগানো চারাগাছগুলো বড়ো হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে মাঠটি হারাতে বসেছিলো তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য।
এমন পরিস্থিতিতে মাঠ সংস্কারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কাজ শেষ করে মাঠটিকে হকারমুক্ত করা হবে এবং এটি আবারও ফিরে পাবে তার পুরোনো প্রাণচাঞ্চল্য ও পরিচয়ে।








