রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০০

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৪

আমি শতভাগ আশাবাদী দলীয় সিদ্ধান্ত আমার পক্ষে থাকবে

---------চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আক্তার হোসেন মাঝি

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
আমি শতভাগ আশাবাদী দলীয় সিদ্ধান্ত আমার পক্ষে থাকবে
ছবি: চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আক্তার হোসেন মাঝি।

চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর কণ্ঠের বিশেষ আয়োজন 'সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি' হয়েছেন এই নির্বাচনের অন্যতম প্রার্থী, চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আক্তার হোসেন মাঝি। চাঁদপুর শহরের আপামর জনসাধারণের কাছে আক্তার হোসেন মাঝি নামটি বেশ পরিচিত। ছাত্রজীবন থেকেই যিনি শহীদ জিয়ার আদর্শে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের রাজনীতির সাথে সক্রিয়। ছাত্রদল থেকে বর্তমানে মূল দল বিএনপি। সবসময় সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, বংশ পরম্পরায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের সেবা করে আসছেন। তিনিও জনসেবার ব্রত নিয়েই রাজনীতি করছেন। চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি দিয়ে তাঁর জনসেবার হাতেখড়ি। এখন বৃহৎ পরিসরে জনসেবা করার ইচ্ছা নিয়ে চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়রের পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচন বিষয়ে তাঁর সাথে কথোপকথন প্রশ্নোত্তর আকারে নিচে তুলে ধরা হলো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন (উপজেলা/পৌরসভা/ ইউনিয়ন পরিষদ)-এ কোত্থেকে কোন্ পদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান?
আক্তার হোসেন মাঝি : আল্লাহ চাহে তো আমি চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রার্থী হবার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করছেন? অতীতে কি কখনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন?
আক্তার হোসেন মাঝি : আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। জনসেবা/জনপ্রতিনিধি এসব আমাদের রক্তের সাথে মিশে আছে। বংশ পরম্পরায় আমাদের পরিবার থেকে জনপ্রতিনিধি হয়ে জনসেবা করে আসছে। ১৯৭৭ সালে আমার বাবা ফজলুর রহমান চারু মাঝি সদর উপজেলার ৭নং তরপুরচণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই থেকে শুরু। এরপর আমার চাচা ছিলেন এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এভাবেই ধারাবাহিকভাবে পৌর কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদে জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের সেবা করে আসছেন আমাদের বংশের এবং পরিবারের সদস্যরা। সে জন্যে জনসেবা এবং জনপ্রতিনিধি আমাদের রক্তের সাথে মিশে আছে। তাছাড়া আমি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করে আসছি। রাজনীতিটা হলো জনসেবার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। মানবসেবার ব্রত নিয়েই আমি রাজনীতি করি। আর রাজনীতির ধারাবাহিকতায় চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের পাশে থাকা, জনগণের সেবা করা। তাই যখন থেকে আমি রাজনীতি করি, তখন থেকেই নির্বাচন করার স্বপ্ন দেখছি।
আমি ইতঃপূর্বে চাঁদপুর পৌরসভায় দুবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। ২০০৫ সালে চেয়ারম্যান পদে এবং ২০২০ সালে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলাম।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন? না নির্দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?
আক্তার হোসেন মাঝি: অবশ্যই আমি দলের মনোনয়ন বা সমর্থন প্রত্যাশা করি এবং পাবো বলে আশাবাদী। আমি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবো না। আমি শতভাগ আশাবাদী দলীয় সিদ্ধান্ত আমার পক্ষে থাকবে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনে নিতান্তই জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্যে বা কেবল পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হতে চান? না বিজয়ী হবার মানসে আঁটঘাঁট বেঁধে নেমেছেন বা নামবেন?
আক্তার হোসেন মাঝি: পরিচিতি বা জনপ্রিয়তা ছাত্র রাজনীতি থেকেই আছে। চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি ছিলাম। এটা পরিচিতি এবং জনপ্রিয়তার একটা ধাপ। এখন বৃহৎ পরিসরে যেই শহরে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা, সেই শহরের নাগরিকদের সেবা করার জন্যে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের কাছাকাছি থেকে জনগণের সেবা করার মানসেই নির্বাচনী মাঠে নেমেছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কতোটুকু করেছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তথা গণসংযোগ শুরু করেছেন?
আক্তার হোসেন মাঝি: ভোটারদের নির্বাচনমুখী করার জন্যে যা যা করা দরকার করবো। মূল পরিকল্পনা নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সাজাবো।
২০০৫ সাল থেকেই যেহেতু আমি নির্বাচন করে আসছি, তখন থেকেই আমি জনসেবামূলক কাজ করে আসছি, এখনও করছি। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে জনসেবা করার লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন। যদি আল্লাহ পাক কবুল করেন।
আমাদের রাজনীতিটাই জনগণকে নিয়ে। জনগণের সাথেই সবসময় আমাদের ওঠাবসা। নির্বাচনী গণসংযোগ অব্যাহত আছে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?
আক্তার হোসেন মাঝি : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে হওয়ার বিষয়ে অবশ্যই আমি আশাবাদী। কারণ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং গণতন্ত্রের মূর্ত প্রতীক আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ উত্তরসূরি। তাঁর শাসনামলে গণরায় (ভোট) অবশ্যই শতভাগ স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষতার সাথে হবে এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
নির্বাচন সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হওয়ার বিষয়ে আমার পরামর্শ হলো : প্রথমত প্রশাসনকে শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে হবে। এরপর প্রার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থান, সমর্থকদের মাঝে সহিষ্ণুতা ও সহনশীল মনোভাব থাকতে হবে। প্রতিযোগিতা থাকবে, প্রতিহিংসা থাকবে না।
নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখার জন্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে : নির্বাচনে কালো টাকা ছড়ানোর বিষয়টি কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?
আক্তার হোসেন মাঝি : আমার প্রতিশ্রুতি হচ্ছে : উন্নয়নে পিছিয়ে থাকা এবং অনগ্রসর এলাকাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। নারী শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সে লক্ষ্যে চাঁদপুর পৌরসভার পরিচালনাধীন স্কুলগুলোকে মানসম্পন্ন শিক্ষক দ্বারা পরিচালনা করা হবে।
পৌর নাগরিকদের সেবা পেতে যেসব বিড়ম্বনা রয়েছে, সেগুলো দূর করে সেবাকে সহজতর করা হবে। যানজট নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যে শহরে বাইপাস সড়কসহ নতুন নতুন রাস্তা তৈরি করা হবে। শহরের দুটি লেকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এটিকে নান্দনিক করে পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এসবি খালসহ অন্য খালগুলোকে দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হবে এবং খালের পাশে ওয়াকওয়ে করা হবে। ডাকাতিয়ার পাড়ে ওয়াকওয়ে করা হবে।
শহরের ময়লা আবর্জনাকে বায়োগ্যাসে রূপান্তর করার লক্ষ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক প্রক্রিয়ার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এককথায় এই শহরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোল্লিখিত প্রশ্নগুলোর বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে সেটা বলতে পারেন।
আক্তার হোসেন মাঝি : ভোটারদের কাছে আমার অনুরোধ, আপনাদের পবিত্র আমানত ভোট টাকার কাছে বিক্রি করবেন না। ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে জনসেবা করার মানসিকতা বিবেচনা করবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ পাক যেনো আপনাদের সেবা করার জন্যে আমাকে কবুল করেন।

চাঁদপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের মাঝি বাড়িতে আক্তার হোসেন মাঝির পৈত্রিক নিবাস। এখানেই তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তাঁর পেশা হচ্ছে : তিনি পরিবহন ব্যবসা এবং হার্ডওয়্যার ও স্যানিটারি ব্যবসা করছেন। তাঁর পিতা মরহুম ফজলুর রহমান চারু মাঝি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, ৭নং তরপুরচণ্ডী ইউনিয়ন, চাঁদপুর সদর। মাতা মরহুমা নূরজাহান বেগম। তাঁর ২ ছেলে, ১ মেয়ে। তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে বিকম পাস করেন। চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ১৯৮৬-৮৭ সেশনে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি শহীদ জিয়ার আদর্শে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ১৯৮৪ সালে তিনি চাঁদপুর পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদ লাভের মধ্য দিয়ে তাঁর ছাত্র রাজনীতি শুরু । এ সময় তিনি মাত্র চাঁদপুর সরকারি কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্র। এরপর ১৯৯০ সালে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি, ১৯৯২ সাল থেকে পরপর তিন মেয়াদে চাঁদপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১২ সালে তৃণমূলের প্রত্যক্ষ ভোটে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিন মেয়াদে পৌর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি পৌর বিএনপির সভাপতির পাশাপাশি জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বেও আছেন।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়